আন্তর্জাতিক: ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ও বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে ভারতে চলমান রাজনৈতিক আন্দোলনের পেছনে বাংলাদেশের একাংশের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা ও উসকানি রয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী এবং বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
সোমবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাবড়ায় একটি দুর্গাপূজা মণ্ডপ উদ্বোধনে গিয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দিলীপ ঘোষ বলেন, “বাংলাদেশের সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রীদের ফেসবুক পোস্ট দেখলেই পরিষ্কার বোঝা যায় কারা ভারতে এই বিশৃঙ্খলা ও আন্দোলনের পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন এবং তাদের মূল উদ্দেশ্য কী।” আগে তারা ছদ্মবেশে বা আড়ালে থাকলেও এখন প্রকাশ্যে এসে মন্তব্য করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
বিদেশ থেকে যারা ভারতকে অস্থিতিশীল ও অস্থির করার ষড়যন্ত্র করছে, তাদের প্রত্যক্ষ ইশারাতেই ভারতের আন্দোলনকারীরা রাস্তায় নেমেছেন বলে অভিযোগ তোলেন সাবেক এই বিজেপি রাজ্য সভাপতি।
এর পাশাপাশি আন্দোলনে বিদেশি অর্থায়নের বিষয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “বিদেশ থেকে প্রচুর অবৈধ অর্থ এই আন্দোলনে আসছে। তা শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতেই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার পার্লামেন্টে ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট (এফসিআরএ) বিল সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। বিদেশি অনুদানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও অনিয়ন্ত্রিত অর্থপ্রবাহ বন্ধ করাই এই বিলের লক্ষ্য। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ বিলটি আটকে দিতেই বিদেশি চক্রান্তে আন্দোলন জোরদার করা হচ্ছে।”
ককোরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আহ্বানে চলা আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া রাজ্যটির শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসসহ অন্য বিরোধী দলগুলোর তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “বিরোধীদের হাতে এখন জনগণের জন্য কোনো কাজ নেই। পূজার সময় ঘোরাঘুরি করা এবং শীত এলেই ধরনা দেওয়াই তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।” সাধারণ মানুষের কাছে প্রত্যাখ্যান হওয়া দলগুলো এখন অন্য ছোট ছোট দলের আন্দোলনের ওপর ভর করে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ।
