কর্মস্থলে অনুপস্থিত কর্মচারীদের হাজিরা খাতা ও বেতন শিটে উপস্থিত দেখিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) তিন কর্মচারীকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক নথিপত্র সংরক্ষণে চরম অবহেলার দায়ে আরও এক কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।
গত ৭ অক্টোবর কেসিসি সচিব মো. রেজা রশীদ স্বাক্ষরিত পৃথক আদেশে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
চাকরি থেকে অব্যাহতি পাওয়া তিন কর্মচারী হলেন—কম্পিউটারভিত্তিক মূল বেতন বিল প্রস্তুতের দায়িত্বে থাকা মোস্তাফিজুর রহমান, বিল প্রস্তুতকারী মশিউর রহমান জনি এবং কনজারভেন্সি সুপারভাইজার শাহীনুর রহমান। অন্যদিকে নথিপত্র সংরক্ষণে গাফিলতির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে কনজারভেন্সি শাখার নিম্নমান সহকারী মো. আনোয়ার হোসেনকে। বরখাস্ত থাকাকালীন আনোয়ার হোসেন বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
কেসিসি সূত্র জানায়, গত ৬ জুন একটি জাতীয় দৈনিকে ‘কাজে নেই, বেতন শিটে উপস্থিত’ শীর্ষক অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এর পর ১৫ জুন কেসিসির এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল-ইমরানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটির সরেজমিন ও নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানে দেখা যায়, দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা সত্তেও জালিয়াতি করে কিছু কর্মচারীকে উপস্থিত দেখিয়ে নিয়মিত সরকারি অর্থ উত্তোলন ও আত্মসাৎ করা হয়েছে। কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কেসিসির সচিব মো. রেজা রশীদ জানান, তদন্তে অর্থ আত্মসাৎ ও দাপ্তরিক অসংগতির অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কেসিসিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এ ধরনের অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে।
