ঢাকা, ২৫ অক্টোবর – রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে দালালচক্রের ভয়ংকর খপ্পরে পড়ছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা অসহায় রোগী ও স্বজনরা। বিশেষ করে রাতের শিফটে সরকারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে কৃত্রিম অনিশ্চয়তা তৈরি করে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীদের প্ররোচিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি চিকিৎসকের রুমের ভেতরেই রোগীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নমুনা সংগ্রহের ঘটনাও ঘটছে!
সম্প্রতি এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ঢামেক হাসপাতালের ভেতরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী পরিচয়ে কিছু লোক অবাধে ঘোরাফেরা করছেন। চিকিৎসকেরা কোনো পরীক্ষা দিলে রোগীর পাশে ওত পেতে থাকা ওই চক্রের সদস্যরা নিজস্ব মাধ্যমে বা বাইরের ল্যাবে পরীক্ষা করাতে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করেন।
নমুনা সংগ্রহের মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে পিডিএফ রিপোর্ট এবং তিন ঘণ্টার মধ্যে মূল রিপোর্ট পৌঁছে দেওয়ার লোভনীয় ও চতুর আশ্বাসও দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা:
আসমা বেগমের অভিযোগ: ফরিদপুর থেকে চরম আর্থিক সংকট নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে আসা আসমা বেগম জানান, সরকারি হাসপাতালে কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার আশা থাকলেও রাতের অন্ধকারে একশ্রেণির লোক এসে সরকারি মেশিনের পরীক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং রিপোর্ট পেতে দেরি হবে বলে ভয় দেখায়। পরে বাধ্য করে বাইরের ল্যাবে রক্ত নিয়ে অল্প খরচের পরীক্ষার বিপরীতে দ্বিগুণ-তিনগুণ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
আলিম উদ্দিনের অভিজ্ঞতা: বরিশাল থেকে আসা আরেক রোগী আলিম উদ্দিন জানান, হাসপাতালের লোক পরিচয় দিয়ে বাইরের ল্যাবে টেস্ট করাতে বাধ্য করে এই চক্রটি। পরে বুঝতে পারেন যে তারা সংঘবদ্ধ দালালের খপ্পরে পড়েছেন।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে একজন প্রতিবেদক রোগী সেজে ঢামেক হাসপাতালে যান। চিকিৎসক পরীক্ষা দেওয়ার পর পাশেই থাকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী জোরপূর্বক চিকিৎসকের রুমেই প্রতিবেদকের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে পিডিএফ রিপোর্ট এবং হাতে মূল রিপোর্ট সরবরাহ করা হয়। পরবর্তীতে ওই রিপোর্ট চিকিৎসককে দেখালে তিনি রোগীকে কেবল ‘নাপা’ খাওয়ার পরামর্শ দেন, যা পুরো ব্যবস্থাকে আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
সরেজমিনে পরিদর্শনে ‘নিউক্লিয়াস ডায়াগনস্টিক’ সহ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের হাসপাতালের ভেতরে এমন অবৈধ কার্যক্রমে সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
নিউক্লিয়াস ডায়াগনস্টিক কর্তৃপক্ষ: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাদের নাম ব্যবহার করে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তারা কিছুই জানে না বলে দাবি করেছে এবং বিষয়টি নিজ উদ্যোগে খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে।
হাসপাতাল পরিচালক: ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বা দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এনএন/ ২৫ অক্টোবর ২০২৬
সম্পুর্ন খবরটি পড়ার জন্য এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ::ঢামেকে দালালদের দৌরাত্ম্য: চিকিৎসকের পাশ থেকেই রক্তের নমুনা নিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কয়েকগুণ বেশি টাকা first appeared on DesheBideshe.