প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, বাংলাদেশের নিজস্ব অগ্রাধিকার ও সংস্কার কৌশল অনুযায়ী সহায়তা দিতে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকসহ বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠান এবং চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থাগুলো একমত হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার আইএমএফের ঋণ সহায়তার শর্ত পূরণে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা পরবর্তী পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশলেও প্রতিফলিত হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে নির্ধারিত ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার আশাবাদী, যদিও আইএমএফ তাদের প্রতিবেদনে ৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির একটি সংরক্ষণশীল পূর্বাভাস দিয়েছে। এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও দারিদ্র্য মোকাবিলায় ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের মতো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল অবকাঠামো ব্যবহারের মাধ্যমে সামাজিক খাত ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির বরাদ্দ বাড়ানোর যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো তাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে।
অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ২০৩০ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা এবং ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা ফেরানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পূর্বের অর্থ লোপাটের ঘটনায় ব্যাংক খাত থেকে আনুমানিক ৪০ বিলিয়ন ডলার লুট করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্টদের দেশে বা বিদেশে যেখানেই পাওয়া যাক, আইনানুযায়ী জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি আমানতকারীদের অর্থের সুরক্ষায় ইতিমধ্যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
