Published on
:
1 min read
সুজিত রায়, বারবিশা
বৃদ্ধাশ্রম। চার অক্ষরে একটা শব্দ, কিন্তু তার ভিতরে জমে আছে না-বলা অভিমান, একাকিত্ব আর দীর্ঘশ্বাস। যে মা-বাবা নিজের সবটুকু দিয়ে সন্তানকে মানুষ করেছেন, শেষ বয়সে তাঁদের অনেকের ঠিকানাই হয় এই বৃদ্ধাশ্রম। সেই কঠিন বাস্তবকেই এ বার পুজোর মণ্ডপে তুলে ধরছে অসম-বাংলা সীমান্তের কুমারগ্রাম থানার বারবিশার মনতলা ফ্রেন্ডস ইউনিয়ন ক্লাব। এ বার ৩৯ বছরে পা দিল এই ক্লাবের পুজো। অসম-বাংলা সীমান্ত ঘেঁষা মনতলায় প্রতিবারই তাদের পুজো ঘিরে থাকে বাড়তি উন্মাদনা। কোচবিহার, অসম এমনকী ভুটান থেকেও দর্শনার্থীরা ভিড় জমান এখানে। গতবার 'বনেদি বাড়ি' থিম করে নজর কেড়েছিল ক্লাব। এ বার তাদের ভাবনা আরও গভীর, আরও প্রাসঙ্গিক।
ক্লাব সম্পাদক বিপ্লব সরকার, যুগ্ম সম্পাদক বিন্দেশ্বর সাহা এবং সদস্য বিষ্ণু সাহা বলেন, 'মা-বাবা অবহেলার শিকার হচ্ছেন। সেটাই আমরা মণ্ডপে তুলে ধরতে চেয়েছি। এই ছোট্ট প্রয়াসে যদি নতুন প্রজন্মের, জেন-জ়ি-দের মন বদলায়, সেটাই আমাদের প্রাপ্তি।'
মণ্ডপের কারিগর দেবাশিস সাহা ফৌজদার। তাঁর নিপুণ হাতেই ফুটে উঠেছে বৃদ্ধাশ্রমের একাকিত্বের ঘর, স্মৃতি হাতড়ে বেড়ানো মুখ, ফেলে আসা সংসারের ছবি। প্রতিমা থাকছে ডাকের সাজে। বাজেট প্রায় ৭লক্ষ টাকা। শুধু পুজো নয়, সারা বছরই নানা সমাজসেবায় জড়িয়ে থাকে ফ্রেন্ডস ইউনিয়ন। বস্ত্রদান, নরনারায়ণ সেবা, চক্ষু পরীক্ষা শিবির নিয়মিত করে তারা। কোভিডের সময়ে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলেও অর্থ সাহায্য পাঠিয়েছিল এই ক্লাবই। তাই মনতলা মনসা মন্দির সংলগ্ন এই ক্লাবটিকে সীমান্তের দু'পারের মানুষই ভালোবাসেন।
উদ্যোক্তাদের আশা, এ বারের থিমের মাধ্যমে একটা বার্তাও দেওয়া হবে দর্শনার্থীদের। কেন শেষ ঠিকানা হবে বৃদ্ধাশ্রম? মনতলার মণ্ডপে দাঁড়িয়ে সেই প্রশ্নের মুখোমুখি হবেন দর্শনার্থীরা। এক ক্লাব সদস্য বলেন, 'বৃদ্ধাশ্রম মানেই সব সময়ে অবহেলা বা দুঃখের জায়গা নয়। অনেক বৃদ্ধাশ্রমে প্রবীণরা নিরাপদে, আনন্দে থাকেন।'
