ছেলে দাদন (অগ্রিম টাকা) নিয়ে কাজ না করায় তার অসহায় বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে ইটভাটা সর্দারের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালি গ্রাম থেকে দীপালি রানী নামের ওই নারীকে উঠিয়ে নিয়ে যান শ্রীফলকাটি গ্রামের ভাটা সর্দার আমজাদ হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিজয়া দশমীর আগে ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করার শর্তে সুদে দাদন নেন দীপালি রানীর ছেলে জগদীশ। গত বৃহস্পতিবার ছিল ভাটায় রওনা হওয়ার নির্ধারিত দিন। তবে পূজার অনুষ্ঠান দেখতে গিয়ে জগদীশ নিখোঁজ হন। সময়মতো ছেলেকে না পেয়ে ভাটা সর্দার আমজাদ হোসেন দলবল নিয়ে এসে দীপালি রানীকে জোড়পূর্বক বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান।
ভাটায় নিয়ে যাওয়ার সময় স্বজনরা ৯৯৯-এ ফোন করে জাতীয় জরুরি সেবায় সাহায্য চাইলেও তাৎক্ষণিক কোনো সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন দীপালির ভাই ভোলানাথ।
অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে ভাটা সর্দার আমজাদ হোসেন দাবি করেন, মা-ছেলে দুজনেই ভাটায় কাজের কথা বলে টাকা নিয়েছিল। ছেলে না গিয়ে পালিয়ে গেছে, তাই মাকে ভাটায় রান্নার কাজের জন্য নিয়ে গিয়েছি।
শ্যামনগর থানার পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে দ্রুত তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
