- Anandabazar
- Entertainment
- Love Gill and Scout OP are in controversy for their equation in Bigg Boss house dgtl
‘বিগ বস্ ২০’-এর প্রতিযোগী লভ গিল ও স্কাউট ওপি নিজেদের ভাইবোনের মতো বলে দাবি করেছেন বার বার। কিন্তু তাঁদের শারীরিক ঘনিষ্ঠতা, একে অপরকে নিয়ে অধিকারবোধ এবং স্কাউটের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:২৮
০১ / ১৫
সম্পর্ক ভাইবোনের বলে দাবি করেছেন তাঁরা। অথচ তাঁদের ঘনিষ্ঠতা নিয়েই এখন বিতর্ক তুঙ্গে। ‘বিগ বস্ ২০’-এর প্রতিযোগী লভ গিল ও স্কাউট ওপি নিজেদের ভাইবোনের মতো বলে দাবি করেছেন বার বার। কিন্তু তাঁদের শারীরিক ঘনিষ্ঠতা, একে অপরকে নিয়ে অধিকারবোধ এবং স্কাউটের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন সহ-প্রতিযোগী আম্রপালি দুবেও। এমনকি সঞ্চালক সলমন খানও লভকে প্রশ্ন করেছেন। কিন্তু কে এই লভ গিল ও স্কাউট ওপি?
০২ / ১৫
লভ গিলের আসল নাম লভপ্রীত কৌর গিল। পঞ্জাবি বিনোদনজগতের পরিচিত মুখ তিনি। অভিনয় ও মডেলিংয়ের মাধ্যমে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন লভ। পঞ্জাবি গানের দৃশ্যায়নেও কাজ করেছেন তিনি। কর্ণ আউজলার ‘ফ্যাক্টস’ গানের দৃশ্যায়নে তাঁর উপস্থিতি নজর কেড়েছিল। পরবর্তী সময়ে পঞ্জাবি ধারাবাহিক ও ছবিতেও কাজ করেছেন। ‘তু পতঙ্গ ম্যায় ডোর’-এর মতো কাজের সূত্রে তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়। এ বার ‘বিগ বস্ ২০’-এ এসে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে লভ।
০৩ / ১৫
‘বিগ বস্ ২০’-তে প্রবেশের আগে দর্শকের ভোটের ভিত্তিতে শেষ প্রতিযোগী নির্বাচনের একটি পর্ব হয়েছিল। সেখানে রিয়া আহিরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দর্শকের ভোটে জিতে ঘরে প্রবেশের সুযোগ পান লভ। অর্থাৎ, শুধু পরিচিত মুখ হিসাবেই নয়, দর্শকের সমর্থন নিয়েই এই প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। তবে এখন তাঁর অভিনয় বা খেলার কৌশলের চেয়ে বেশি আলোচনায় তাঁর ব্যক্তিগত সমীকরণ।
০৪ / ১৫
অন্য দিকে স্কাউট ওপির আসল নাম তন্ময় সিংহ। তিনি ইন্টারনেটে গেমার হিসাবে পরিচিত এবং সমাজমাধ্যমে তাঁর লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার। বাস্তব জীবনে তাঁর একটি প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। ফলে লভের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি আরও জটিল হয়েছে।
০৫ / ১৫
‘বিগ বস্ ২০’-র ঘরে লভ ও স্কাউটের মধ্যে বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। তাঁরা একে অপরকে ভাইবোন বলে উল্লেখ করেছেন। একসঙ্গে সময় কাটানো, মজা করা এবং আবেগের মুহূর্তে পাশে থাকার দৃশ্যও নজরে এসেছে দর্শকের। এমনকি লভকে পিঠে নিয়ে ঘুরতেও দেখা গিয়েছে স্কাউটকে। এমনকি লভ নিজের অন্তর্বাস প্রকাশ্যে স্কাউটের হাতে তুলে দিয়েছেন, এমন দৃশ্য নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দর্শকের একাংশের প্রশ্ন, সম্পর্ক যদি ভাইবোনের মতোই হয়, তা হলে এমন আচরণ কেন করছেন তাঁরা? যদিও দর্শকের একাংশের মতে, শুধু ঘনিষ্ঠতা দেখেই কোনও সম্পর্কের প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।
০৬ / ১৫
সম্প্রতি লভের পিঠে হাত দিয়ে ম্যাসাজ করার দৃশ্য নিয়েও বিতর্কে জড়িয়েছেন স্কাউট। দৃশ্যটি প্রকাশ্যে আসার পরেই তাঁদের সম্পর্কের সীমারেখা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দুই প্রতিযোগী নিজেদের মধ্যে স্বচ্ছন্দ হলেও, পর্দার বাইরে থাকা তাঁদের পরিবারের সদস্য বা সঙ্গীরা এই দৃশ্য কী ভাবে নেবেন, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়।
০৭ / ১৫
লভ ও স্কাউটের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রথমে সরব হন সহ-প্রতিযোগী আম্রপালি দুবে। স্কাউট যখন লভের পিঠে ম্যাসাজ করছিলেন, তা দৃষ্টিকটূ ছিল বলে সরাসরি জানান আম্রপালি। তিনি বুঝিয়ে বলেন, ঘরের ভিতরে দু’জনের কাছে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও, বাইরে থাকা তাঁদের সঙ্গীরা দৃশ্যটি দেখে আঘাত পেতে পারেন। তাঁর বক্তব্য, নিজেরা স্বচ্ছন্দ হলেই সব আচরণ অন্যদের কাছেও গ্রহণযোগ্য হবে, এমন নয়। এই কথোপকথনের পরেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়।
০৮ / ১৫
বিতর্ক আরও বাড়ে স্কাউটের একটি মন্তব্য থেকে। সহ-প্রতিযোগী ইয়াং ডিএস-এর সঙ্গে কথা বলার সময় লভকে নিয়ে নিজের অনুভূতি সম্পর্কে অনিশ্চয়তার কথা বলেন। ইয়াং তাঁকে প্রশ্ন করেন, তাঁর অনুভূতি কি বদলাচ্ছে? উত্তরে স্কাউট জানান, তিনি জানেন না। সত্যিই তিনি বোন ভাবেন, এমন বার্তা তিনি সেই দিন দিতে পারেননি। বরং লভকে সেই দিন তিনি বন্ধুই বলতে চেয়েছেন। এই মন্তব্যই তীব্রতর করে তোলে বিতর্কটি।
০৯ / ১৫
‘বিগ বস্’-এর ঘরে লভের সঙ্গে আরও এক প্রতিযোগী গুল্লু তথা কুশল তনওয়ারের কথাবার্তা ও মেলামেশাও আলোচনায় উঠে এসেছে। লভ ও গুল্লুর ঘনিষ্ঠতা ও খুনসুটিতে স্কাউটের ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ছেন বলে অনেকেই মনে করছে। দর্শকের একাংশের প্রশ্ন, লভকে যদি শুধুই বোনের চোখে দেখেন স্কাউট, তা হলে তাঁর অন্য কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠতায় অস্বস্তি কেন?
১০ / ১৫
স্কাউটের বাস্তব জীবনে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর প্রেমিকা কাশবী হিরানন্দানীও একজন গেমার। লভের সঙ্গে স্কাউটের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আলোচনা শুরু হলে স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর বাস্তব জীবনের সম্পর্কও আলোচনায় উঠে আসছে। দর্শকের একাংশের প্রশ্ন, ঘরের ভিতরে তৈরি হওয়া এই সমীকরণ তাঁর প্রেমের সম্পর্কে কী প্রভাব ফেলতে পারে? এই বিতর্কের মধ্যেই কাশবী তাঁর সমাজমাধ্যম থেকে সাময়িক বিরতি নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
১১ / ১৫
পাশাপাশি বিতর্কের মধ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন কাশবী। তিনি জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি ব্যক্তিগত পরিসরেই সামলাতে চান। একই সঙ্গে স্কাউটের ভাল চান বলেও জানিয়েছেন তিনি। কাশবীর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি প্রকাশ্যে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক বাড়াতে আগ্রহী নন।
১২ / ১৫
স্কাউট ও লভের ঘনিষ্ঠতার দৃশ্য ছড়িয়ে পড়তেই দর্শকের একাংশ তাঁদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, ভাইবোনের সম্পর্কের কথা বলার পরে এমন ঘনিষ্ঠতা বিভ্রান্তি তৈরি করে। আবার অন্য একাংশের বক্তব্য, কয়েকটি দৃশ্য দেখে দু’জনের সম্পর্ক সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
১৩ / ১৫
লভ ও স্কাউটের সম্পর্ক নিয়ে শুধু দর্শকেরাই নন, বিনোদন জগতের পরিচিত মুখেরাও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। প্রাক্তন প্রতিযোগী কাম্যা পঞ্জাবী তাঁদের শারীরিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ভাইবোনের মতো সম্পর্ক থেকে এমন ঘনিষ্ঠতায় পৌঁছোনোর বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট সীমারেখা থাকা প্রয়োজন। তাঁর মন্তব্য ঘিরেও দর্শকের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ মনে করিয়ে দিয়েছেন, কয়েকটি দৃশ্যের ভিত্তিতে ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিচার করা ঠিক নয়।
১৪ / ১৫
সঞ্চালক সলমন খান সরাসরি লভ ও স্কাউটের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেননি। বরং লভকে তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কের কথা জিজ্ঞাসা করেন। লভ জানান, তাঁর ১৭ বছরের একটি ছোট ভাই রয়েছে। সেখানে তাঁর শারীরিক স্পর্শ নিয়ে কোনও আপত্তি নেই। সলমন তখন ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে বলেন যে, তা হলে সমস্যা নেই। চলে যাওয়ার সময়ে আম্রপালির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তিনি কী বোঝাতে চাইছেন, আম্রপালি তা জানেন। অর্থাৎ, সরাসরি বকুনি না দিলেও লভের আচরণ নিয়ে অস্বস্তির জায়গাটি তুলে ধরেন সলমন। ভাইজানকেও অস্বস্তিতে পড়তে দেখা যায় এই বিষয়ে কথা বলার সময়ে।
১৫ / ১৫
লভ গিল ও স্কাউট ওপির বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে তাঁদের নিজেদের দেওয়া সম্পর্কের পরিচয় এবং তাঁদের আচরণের মধ্যে আপাত ফারাক। স্কাউটের অনুভূতি নিয়ে কথোপকথন, লভের সঙ্গে তাঁর শারীরিক ঘনিষ্ঠতা এবং বাস্তব জীবনে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক— সব মিলিয়ে দর্শকের কৌতূহল বেড়েছে। অন্য দিকে, দু’জনেই ভাইবোনের মতো সম্পর্কের কথা বলেছেন। সলমনের ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্নও সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁদের সম্পর্ক বন্ধুত্ব, ভাইবোনের মতো স্নেহ, না কি অন্য কোনও অনুভূতির দিকে এগোচ্ছে, তার উত্তর একমাত্র তাঁরাই দিতে পারেন।
পরবর্তী গ্যালারি
শরীরে ১৭৪ ‘কিল মার্ক’, ৩২১ দিন পর অবশেষে ঘরে ফিরল ইরান যুদ্ধে ‘সিপাহি বিদ্রোহ’ সামলানো লিঙ্কন!
৩২১ দিন পর দেশে ফিরল পরমাণু শক্তিচালিত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে কী কী ক্ষয়ক্ষতি করতে পেরেছে সে?
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:০০
০১ / ২০
শরীর জুড়ে যুদ্ধের ক্ষতচিহ্ন। ‘পিঠে’ শত্রু হত্যার তালিকা ঝুলিয়ে অবশেষে ঘরে ফিরল মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’! ৩২১ দিনের দীর্ঘ সমুদ্র যাত্রায় যাকে ঘিরে বারবার দানা বেঁধেছে বিতর্ক। যুক্তরাষ্ট্রের নৌঘাঁটিতে পৌঁছোনোর পরও যা পিছু ছাড়ল না তার। উল্টে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে জাহাজটির পারফরম্যান্স নিয়ে শুরু হয়েছে কাটাছেঁড়া।
০২ / ২০
চলতি বছরের ৮ অক্টোবর দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর নর্থ আইল্যান্ড নৌ-বিমানঘাঁটিতে পৌঁছোয় পরমাণু শক্তিচালিত ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন। সেখানে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল ইউনিট সাইটেশন’-এ সংশ্লিষ্ট রণতরীটির জলযোদ্ধাদের সম্মানিত করেন মার্কিন যুদ্ধসচিব পিট হেগসেথ। রণক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বীরত্বের জন্য সামরিক বাহিনীর কোনও ইউনিটকে যেটি দিয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার।
০৩ / ২০
সান দিয়েগোর নৌ-বিমানঘাঁটিতে পৌঁছোনোর পর বিমানবাহী রণতরীটি পরিদর্শন করেন পিট। ইরান সংঘর্ষে এর ভূমিকাকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়েছেন তিনি। হেগসেথের কথায়, ‘‘সংঘাত চলাকালীন লড়াকু জেটের ৩,৬৯৩টি সামরিক উড়ান পরিচালনা করে এই যুদ্ধজাহাজ। যাতে ডুবেছে তেহরানের ৬৪টি রণতরী। এ ছাড়া, সাবেক পারস্যের বেলাভূমিকে নিশানা করতে ৪৫০টি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে লিঙ্কন।’’
০৪ / ২০
যুদ্ধ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রের এই পরমাণু শক্তিচালিত রণতরীটির ক্ষতি করার কম চেষ্টা করেনি ইরানি আধা সেনা ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর’ বা আইআরজিসি। লাগাতার ‘ফিদায়েঁ’ ড্রোন হামলায় লিঙ্কনকে রীতিমতো ব্যতিব্যস্ত করে তোলে তারা। পিট জানিয়েছেন, ওই সময় মাথা ঠান্ডা রেখে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তেহরানের ৭৭টি পাইলটবিহীন যানকে মাঝ আকাশে ধ্বংংস করে দেয় এতে মোতায়েন মার্কিন নৌবাহিনী।
০৫ / ২০
ঘরে ফেরার পর লিঙ্কনের একটি ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ দফতরের সদর কার্যালয় পেন্টাগন। সেখানে বিমানবাহী রণতরীটির ডেকে দাঁড়িয়ে পিটকে এর উপরের দিকের কাঠামো পরীক্ষায় মগ্ন থাকতে দেখা গিয়েছে। যুদ্ধজাহাজটির বিশেষ একটি ইস্পাতের দেওয়াল খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন তিনি। যার গায়ে কালো কালিতে ছবি এঁকে রণাঙ্গনে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দিয়েছে মার্কিন নৌসেনা।
০৬ / ২০
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসে এই ঘটনা একেবারেই নতুন নয়। বড় ধরনের অভিযান দুর্দান্ত সাফল্য পেলে মার্কিন নৌসৈনিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ফলাফল রণতরীর ইস্পাতের দেওয়ালে তুলে ধরার রেওয়াজ রয়েছে। লিঙ্কনের ক্ষেত্রেও তার কোনও ব্যতিক্রম ঘটেনি। সব মিলিয়ে এতে ১৯০টি চিহ্ন দেখতে পাওয়া গিয়েছে। সেই ছবি আবার আলাদা করে নিজের সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম থেকে পোস্ট করেন যুদ্ধসচিব পিট।
০৭ / ২০
ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের ইস্পাতের দেওয়ালে আঁকা ছবি অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে মোট ২৩টি জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে এই বিমানবাহী রণতরী। ডুবিয়েছে ৩৪টি জাহাজ। এর মধ্যে ক’টি সামরিক, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। এ ছাড়া, মার্কিন যুদ্ধপোতটির দ্বারা ধ্বংস হয়েছে ১২২টি ড্রোন ও ১০টি ডুবোজাহাজ। ডেকের দেওয়ালে বড় একটি বোমার ছবিও দেখা গিয়েছে। যার গায়ে লেখা ‘১৪০৩’।
০৮ / ২০
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীটির গায়ে শত্রুপক্ষের ৩৪টি জাহাজ ধ্বংসের সুস্পষ্ট ‘কিল মার্ক’ রয়েছে। যদিও সেগুলির প্রকৃতি নিয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি মার্কিন সরকার। সামরিক বিশ্লেষকদের বড় অংশই মনে করেন, গত ছ’মাসে একের পর এক ইরানি যুদ্ধজাহাজ, করভেট এবং আইআরজিসির চালকবিহীন জলযানকে ডোবাতে সক্ষম হয়েছে আমেরিকার নৌবাহিনীর গর্বের ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন।
০৯ / ২০
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে লড়াইয়ের গতিপ্রকৃতি জানিয়ে ঘনঘন বিবৃতি দিয়েছে মার্কিন ফৌজের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম। তাদের দাবি, তেহরানের ড্রোনবাহী রণতরী শহিদ বাঘেরি, ফরওয়ার্ড বেস যুদ্ধজাহাজ আইরিস মাকরান, একটি জামারান শ্রেণির করভেট এবং শহিদ সোলেইমানি-শ্রেণির চারটি ক্যাটামারান ক্ষেপণাস্ত্র করভেট ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌসেনা। তবে এতে লিঙ্কনের ভূমিকা কতটা, সেটা জানা যায়নি।
১০ / ২০
সেন্টকমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানের বায়ানডোর শ্রেণির করভেট, একাধিক ফ্রিগেট, দ্রুত আক্রমণকারী নৌযান, ক্ষেপণাস্ত্র নৌকা, কমপক্ষে ১৬টি মাইন পাতার জাহাজ এবং বেশ কয়েকটি সহযোগী সামরিক জাহাজকেও নিষ্ক্রিয় করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌসেনা। সূত্রের খবর, দু’পক্ষের এই সংঘর্ষ চলাকালীন আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরের কাছাকাছি সক্রিয় ছিল লিঙ্কন। লড়াইতে যোগ দেয় তার সহযোগী রণতরী ও ডুবোজাহাজও।
১১ / ২০
লিঙ্কনের নিরাপত্তায় রণাঙ্গনে তিনটি আর্লে বার্ক শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে আমেরিকা। সামরিক বিশ্লেষকদের দাবি, সংঘর্ষের সময় তাদের টমাহক ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্রে হামলার নির্দেশ দিয়ে থাকতে পারে ওই বিমানবাহী রণতরী। পাশাপাশি, নিখুঁত নিশানায় আক্রমণ শানাতে সেখান থেকে ওড়ানো হয় এফ-৩৫সি লাইটনিং টু ও এফএ-১৮ সুপার হর্নেটের মতো অত্যাধুনিক লড়াকু জেটও।
১২ / ২০
যুক্তরাষ্ট্রের আর্লে-বার্ক শ্রেণির ডেস্ট্রয়ারে রয়েছে এজিস কমব্যাট সিস্টেম এবং ইভলভ্ড সি স্প্যারো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। প্রথম হাতিয়ারটি আবার এসএম২ এবং এসএম৬ ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত। যেগুলি দিয়ে অনায়াসেই ওড়ানো যায় দূরপাল্লার ড্রোন। বিশেষজ্ঞদের দাবি, যুদ্ধের সময় এগুলি আকাশ প্রতিরক্ষার (এয়ার ডিফেন্স) কাজ করেছে। লিঙ্কনের সঙ্গে ইউএসএস স্প্রুয়ান্স, ইউএসএস মাইকেল মারফি এবং ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই. পিটারসেন ছিল বলে জানা গিয়েছে।
১৩ / ২০
এ ছাড়া বিমানবাহী রণতরীটির নিজস্ব আত্মরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। সেগুলি হল, রিম-১১৬ রোলিং এয়ারফ্রেম ক্ষেপণাস্ত্র এবং ফ্যালাঙ্কস ক্লোজ-ইন ওয়েপন সিস্টেম। সূত্রের খবর, ইরানি ড্রোন হামলার সময় তড়িঘড়ি লিঙ্কনের ডেক থেকে ওড়ানো হয় এফ-৩৫ এবং সুপার হর্নেট লড়াকু জেট। তেহরানের বেশ কিছু ‘আত্মঘাতী’ পাইলটবিহীন যানকে গুলি করে নামাতে এই দুই যুদ্ধবিমানের তেমন সমস্যা হয়নি।
১৪ / ২০
সাবেক সেনাকর্তাদের কথায়, লিঙ্কনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হল, ইরানি ডুবোজাহাজের বহর ধ্বংস। রুশ মদতে গত কয়েক বছরে ঘরের মাটিতেই একাধিক কিলো শ্রেণির ডুবোজাহাজ তৈরি করতে সক্ষম হয় তেহরান। সমুদ্রের এই সমস্ত ‘নিঃশব্দ ঘাতক’গুলির দিকে লড়াইয়ের গোড়া থেকেই বাড়তি নজর রেখে চলছিল সেন্টকম। সংঘর্ষ চলাকালীন সুপার হর্নেট জেটের সাহায্যে জলের গভীরের ওই অমোঘ হাতিয়ার ধ্বংস করে মার্কিন নৌসেনা।
১৫ / ২০
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের অনুমান, নৌঘাঁটিতে থাকাকালীন ইরানি ডুবোজাহাজের বহরে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান। তেহরানের ওই ‘নিঃশব্দ ঘাতকে’র উপর লেজার গাইডেড বোমা ফেলে তারা। যদিও এ ব্যাপারে অন্য একটি মতও প্রকাশ্যে এসেছে। পেন্টাগনের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জনপ্রিয় মার্কিন গণমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ডুবোজাহাজ ধ্বংসে ব্যবহার হয়েছে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র।
১৬ / ২০
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের ফৌজের হাতে রয়েছে এমকিউ-৯ রিপার নামের একটি অত্যাধুনিক ড্রোন। এই পাইলটবিহীন যান হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম। ফলে, ইরানি নৌঘাঁটিতে ডুবোজাহাজ ধ্বংস করতে লড়াকু জেট নাকি রিপার ব্যবহার হয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তা ছাড়া, রণতরীটির ডেকের দেওয়ালের ছবির সঙ্গেও মার্কিন যুদ্ধ সচিবের দেওয়া তথ্যের বিস্তর অমিল ধরা পড়েছে।
১৭ / ২০
লিঙ্কন ঘরে ফেরার পর দেওয়া ভাষণে পিট বলেন, ‘‘শত্রুপক্ষের মোট ৬৪টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছে আমাদের বিমানবাহী রণতরী।’’ অথচ এর ডেকের দেওয়ালে ছবি রয়েছে ৩৪টির। হেগসেথ জানিয়েছেন, ৭৭টি ইরানি ড্রোন মাঝ আকাশে ধ্বংস করেছে লিঙ্কন। অন্য দিকে, ছবির হিসাব অনুযায়ী সংখ্যাটা ১২২। ফলে, যুদ্ধ দফতরের বিরুদ্ধে তথ্য হেরফেরের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে সেখানকার বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম।
১৮ / ২০
গত বছরের ২১ নভেম্বর সান দিয়েগো নৌসেনা ঘাঁটি থেকে রওনা হয়ে পশ্চিম এশিয়ার রণাঙ্গনে গিয়ে পৌঁছোয় আব্রাহাম লিঙ্কন। এ বছরের অগস্টে সংশ্লিষ্ট বিমানবাহী রণতরীটিকে নিয়ে একটি বিস্ফোরক রিপোর্ট প্রকাশ করে ‘নেভি টাইমস’ এবং ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপ্স’ নামের আমেরিকার দু’টি গণমাধ্যম। দীর্ঘদিন সমুদ্রে মোতায়েন থাকায় যুদ্ধজাহাজটির সৈনিকদের মনে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে বলে দাবি করে বসে তারা। ফলে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে পড়ে যায় শোরগোল।
১৯ / ২০
‘নেভি টাইমস’ এবং ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপ্স’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময় রণতরী ছাড়তে মরিয়া হয়ে ওঠেন বেশ কয়েকজন মার্কিন সৈনিক। সমুদ্রে ঝাঁপ দিতে যান তাঁদের একাংশ। কোনও মতে পরিস্থিতি সামাল দেন ক্যাপ্টেন। ফলে কোনও বিপত্তি ঘটেনি। শুধু তা-ই নয়, লড়াই চলাকালীন লিঙ্কনে খাদ্য সঙ্কটও দেখা দিয়েছিল। এতে বাধ্য হয়ে তাকে ঘরে ফেরার নির্দেশ দেয় পেন্টাগন। রাস্তায় বিশ্রাম নিতে তাইল্যান্ডে থেমেছিল লিঙ্কন।
২০ / ২০
১৯৮৯ সালে মার্কিন নৌসেনায় কর্মজীবন শুরু পরমাণু শক্তিচালিত এই বিমানবাহী রণতরীটির এর আগে কখনও এমন ল্যাজে-গোবরে দশা হয়নি। লিঙ্কনের ভিতরের পরিস্থিতি নিয়ে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জল ঘোলা হতে থাকায় সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে বিবৃতি দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। তা নিয়েও বেঁধে যায় বিতর্ক। বিশ্রামে ফিরেও যার আঁশটে গন্ধ গা থেকে সরাতে পারছে না লিঙ্কন।
