পরিদর্শনকালে হাসপাতালের উপস্থিতি খাতা যাচাই করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাহাত চৌধুরীসহ পাঁচজন চিকিৎসককে কর্মস্থলে অনুপস্থিত দেখতে পান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হাসপাতালপ্রধানের নিয়মিত অনুপস্থিত থাকার অভিযোগের বিষয়েও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। পরে হাসপাতালের বহির্বিভাগ, বিভিন্ন ওয়ার্ড, রান্নাঘর ও শৌচাগার ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। রান্নাঘরের পাশে ময়লার স্তূপ, শৌচাগার ও গোসলখানার অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং দীর্ঘদিনের বেহাল ড্রেনেজ ব্যবস্থা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
পরিদর্শনে সরকারি বরাদ্দের মূল্যবান টিকা ও ভ্যাকসিন যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করে মেঝেতে ফেলে রাখার বিষয়টিও নজরে আসে তাঁর। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক সতর্ক করে টিকা ও ভ্যাকসিনের সঠিক সংরক্ষণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালটিতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। কিন্তু শয্যাসংকট, জনবল ঘাটতি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে তাঁরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে শয্যাসংকট, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সেবার মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে।
এসব সমস্যা সমাধানে হাসপাতালটির শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫১-তে উন্নীত করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ এবং কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সুবিধা চালুর পরিকল্পনার কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিদর্শনকালে ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাধনা ত্রিপুরা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সাদ মাহমুদ জয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
The post ফুলপুর হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, চিকিৎসক অনুপস্থিতি ও অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ appeared first on ভোরের চেতনা.
