মনপুরা প্রতিনিধি ॥
ভোলার মনপুরার বিচ্ছিন্ন নবগঠিত কলাতলী ইউনিয়টি তিনটি বিচ্ছিন্ন চর ঢালচর, কাজিরচর ও কলাতলী চর নিয়ে গঠিত। নবগঠিত কলাতলী ইউনিয়নটির ইউনিয়ন পরিষদের ভবনের কাজ মনির বাজারে চলমান। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, কমিউনিটি ক্লিনিক ও পুলিশ ফাঁড়ি নিয়ে সমন্বিত কমপ্লেক্্স নির্মাণের জন্য বিকল্প জমি দেখেছে। এর প্রতিবাদে কলাতলী ইউনিয়নের তিন চরের বাসিন্দারা মানববন্ধন শেষে স্মারকলিপি প্রদান করে।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় উপজেলা পরিষদে নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে ইউএনও খান সালমান হাবিবের কাছে স্মারকলিপি দেন চরের বাসিন্দারা।
এছাড়াও স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিবেন জানিয়েছেন চরবাসী।
এর আগে সকালে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন স্থানান্তরের প্রতিবাদে কলাতলী ইউনিয়নের মনির বাজারে তিন চরের হাজার হাজার বাসিন্দারা ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানান।
মানববন্ধনে আসা বাসিন্দারা জানান, মনির বাজার সংলগ্ন এলাকায় বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যেই ভবনটি সেখান থেকে সরিয়ে আবাসন বাজার সংলগ্ন এলাকায় নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পূর্বনির্ধারিত স্থানে ভবন নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করছেন তারা।
স্থানীয়রা দাবী করে বলেন, তিনটি চরের মানুষের যাতায়াতের সুবিধা ও জনস্বার্থ বিবেচনায় মনির বাজার সংলগ্ন স্থানেই ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের কাজ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য গিয়াসউদ্দিন মেম্বার জানান, মনির বাজার এলাকাটি কলাতলী, ঢালচর ও কাজিরচরের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী স্থান। সেখানে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ কাজ বহাল থাকলে তিনটি চরের মানুষই উপকৃত হবেন। তাই পূর্বনির্ধারিত স্থানেই ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানান তিনি।
এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবিব জানান, আমরা ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, কমিউনিটি ক্লিনিক ও পুলিশ ফাঁড়িসহ একটি কমপ্লেক্স নির্মাণ করতে চাচ্ছি। কিন্তু বর্তমানে যেখানে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের কাজ শুরু হয়েছে, সেখানে সব স্থাপনা একসঙ্গে নির্মাণ করতে গেলে প্রায় আট একর জমির প্রয়োজন হবে। তাই মনির বাজার এলাকায় সবকিছু একসঙ্গে নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা নতুন করে আবাসন বাজার সংলগ্ন এলাকায় একটি জমি দেখেছি, যেখানে সব স্থাপনা একসঙ্গে নির্মাণ করা সম্ভব। তবে মনির বাজার এলাকায় আট একর জমি পাওয়া গেলে সেখানেই কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।