সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে চিহ্নিত বালির হাওর ও নাইন্দার এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে যৌথ টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ১৩টি লিস্টার (ড্রেজার/শ্যালো) মেশিন জব্দ করে ধ্বংস ও অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত জাফলং বাজার থেকে বাংলাবাজার মুখতলা, বালির হাওর ও নাইন্দার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন গোয়াইনঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরীফ উদ্দিন।
অভিযান চলাকালে টাস্কফোর্সের উপস্থিতি টের পেয়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে থাকা অবৈধ বালু উত্তোলনের মেশিনগুলো জব্দ করে ধ্বংস ও অকার্যকর করা হয়।
অভিযানে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ, তামাবিল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্য এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর একটি দল সহযোগিতা করে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ইসিএভুক্ত বালির হাওর ও সীমান্তবর্তী নদী এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে পরিবেশ ও কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়ছে। এ কারণে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক মন্ডল বলেন, অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনকে সার্বিক আইনগত সহায়তা দিচ্ছে পুলিশ। রাতের আঁধারে যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘অপরাধী কিংবা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, বালির হাওরসহ উপজেলার কোথাও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নেতৃত্বে কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা এবং অবৈধ মেশিন বিনষ্ট করা হয়েছে।
তিনি জানান, পরিবেশ রক্ষা ও সরকারি সম্পদ সংরক্ষণে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
