Published on
:
2 min read
মুম্বইয়ের বায়ু দূষণ নিয়ে এ বার ক্ষোভ প্রকাশ করল বম্বে হাইকোর্ট। বর্তমানে মুম্বইয়ের বায়ুর মান এতটাই খারাপ, যা দিল্লির দূষণকেও ছাপিয়ে গিয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সেখানকার উচ্চ আদালত। মুম্বইয়ে ক্রমাগত খারাপ হতে থাকা বাতাস নিয়ে পুরসভা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনাও করেছেন বিচারপতিরা। হাইকোর্ট সাফ জানিয়েছে, বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে সাধারণ মানুষকে যাতে দূষণের সূচক মেপে দেখতে না হয়, তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের কাজ। মানুষের কষ্ট দেখেও দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসাররা কী ভাবে শান্তিতে ঘুমান, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতিরা। উৎসবের সময়ে শব্দ ও বায়ুদূষণ নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলার শুনানিতে বুধবার এই কড়া পর্যবেক্ষণ দিয়েছে বিচারপতি জি এস কুলকার্নি এবং বিচারপতি ডঃ নীলা গোখলের ডিভিশন বেঞ্চ।
বুধবার শুনানি চলাকালীন হাইকোর্ট জানতে পারে, মুম্বই এই মুহূর্তে দেশের দ্বিতীয় সর্বাধিক দূষিত শহরের তালিকায় উঠে এসেছে। মঙ্গলবার মুম্বইয়ের দৃশ্যমানতা ৫০০ মিটারের নীচে নেমে যাওয়ার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন বিচারপতিরা। বিচারপতি কুলকার্নি জানান, বিষাক্ত ধোঁয়ায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত থমকে গিয়েছে। মানুষ বাড়ির বাইরে পা রাখতে পারছেন না। মর্নিং ওয়াক বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ১৫-২০ মিনিটের আনন্দের জন্য বাজি ফাটানো হচ্ছে, কিন্তু তার বিষাক্ত ধোঁয়া বাতাসকে বিষিয়ে তুলছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ, কিন্তু প্রশাসনকে দেখে মনে হচ্ছে কারও কোনও হেলদোল নেই।
আদালত ক্ষোভের সঙ্গে আরও জানিয়েছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর এবং ১৫ অক্টোবর বায়ু ও শব্দদূষণ রুখতে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অথচ প্রশাসনের কাজের গতি এতটাই শ্লথ যে, প্রাথমিক নিয়মটুকুও পালন করা হয়নি। রাস্তা, অলিগলি এবং ফুটপাথে বাজি ফাটানো রুখতে মুম্বই পুরসভা (বিএমসি) এবং মহারাষ্ট্র দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (এমপিসিবি) কোনও সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত জারি করেনি বলে আদালত জানায়। এও বলে, বাজির বিষাক্ত ধোঁয়া এবং অতিরিক্ত শব্দের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়েও সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হয়নি।
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের নির্দেশ বারবার অমান্য করা হচ্ছে দেখে মুম্বইয়ের পুলিশ কমিশনারকে অবিলম্বে সমস্ত থানার আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক ডাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম ভাঙলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তার জন্য তৈরি করতে হবে নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি)। পুলিশ আধিকারিকরা আদালতের এই নির্দেশ মানবেন কি না, তা জানিয়ে পুলিশ কমিশনারকে হলফনামা দিতে হবে।
আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যে সংবাদমাধ্যম ও সমাজমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে আগামী ২৬ অক্টোবরের শুনানির আগে বিএমসি ও পুলিশ কমিশনারকে সমস্ত নির্দেশ পালনের হলফনামা জমা দিতে হবে।
বিচারপতি গোখলে সতর্ক জানিয়েছে, ট্র্যাফিক সিগন্যাল ও ঘিঞ্জি বস্তির দূষিত বাতাস এড়িয়ে শহরের সবচেয়ে পরিষ্কার এলাকার তথ্য দিয়ে আসল পরিস্থিতি আড়াল করা যাবে না। এমনকী, নির্মাণকাজের ধুলো রুখতেও পুরসভার নজরদারিতে বড়সড় ঘাটতি রয়েছে বলে জানায় আদালত। আইন না মানা সংস্থাগুলি থেকে জরিমানা আদায়েরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।