- আপলোড সময় : ২৪-১০-২০২৬ ১০:০৪:৩১ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৪-১০-২০২৬ ১০:০৪:৩১ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার :: জামালগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুর রহমান শান্ত’র ফেসবুক পোস্ট ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিজের মৃত্যুর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রাণী মোদককে দায়ী করার কথা লিখেছেন তিনি। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে “এসিল্যান্ড জামালগঞ্জ” নামের পেজে এসব পোস্ট দেখা যায়। একটি পোস্টে লেখা হয়, “আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রাণী মোদক দায়ী থাকবে। তার কিছুক্ষণ পর কিছু দেয়া আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, “আই রিজাইন ফ্রম এডমিন ক্যাডার।” এমন পোস্টের পর ওই কর্মকর্তা মানসিকভাবে অসুস্থ বলে জানিয়েছেন ইউএনও। তিনি বলেছেন, মানসিক অসুস্থতা ও ট্রমাগ্রস্ততার কারণে তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করার পর তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। তবে আরিফুর রহমানের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আরিফুর রহমান গত প্রায় দুই মাস ধরে জামালগঞ্জে এসিল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে উপজেলা সদরেই বসবাস করছিলেন। এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান শান্ত বেশ কিছুদিন ধরেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে বিষয়টি এতদিন পারিবারিক সীমারেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। শুক্রবার জামালগঞ্জের ইউএনও শিল্পী রাণী মোদকের মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে সপরিবারে উপস্থিত ছিলেন এসিল্যান্ড শান্ত। সেখানে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন তিনি। এসময় এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান শান্ত ইউএনও’র নিরাপত্তায় থাকায় আনসার সদস্যদের গায়েও হাত তুলেন। পরবর্তীতে এসিল্যান্ডকে ধরে সবাই বাসায় নিয়ে গেলে সেখানে চারটি পানির গ্লাস ভাঙেন এবং দৌড়ে নিচে নেমে বাসার সামনে থাকা দুই বাচ্চাকেও মারধর করেন তিনি। তার মধ্যেই তিনি ফেসবুকে দুটি পোস্ট করেন যার একটি ছিল মৃত্যুর জন্য দায়ী শিল্পী রাণী মোদক ও অন্যটি আই রিজাইন ফ্রম এডমিন ক্যাডার। এসময় ইউএনও জামালগঞ্জ থানায় ওসিকে ফোন করে নিরাপত্তা চাইলে পুলিশ এসে তাকে রুমে নিয়ে যায় এবং সেখানেই ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে রাখা হয়। পরবর্তীতে রোববার সকালে তাকে সিলেটে পাঠানো হলে প্রথমে মাউন্ট এডোরা হসপিটাল ও পরবর্তীতে ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসিল্যান্ডকে ঢাকায় রেফার করেন। এ জামালগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রাণী মোদক বলেন, সে তার স্ত্রীকে নিয়ে শুক্রবার আমার মেয়ের জন্মদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল। মেয়ের জন্মদিনের কেক কাটার পর থেকেই সে অস্বাভাবিক আচরণ করে। সে আমার আনসার সদস্যদের গায়ে হাত তুলে তারপর বাচ্চাদেরও মারধর করেছে। তার পরিবারের সাথে কথা বলে জেনেছি তাকে ডাক্তার প্রেসক্রাইব করা দুটি ঘুমের ইনজেকশন দিতে হয়। কিন্তু এসকল ওষুধ জামালগঞ্জের কোনো ফার্মেসিতে পাওয়া যায় না। তাছাড়া তার স্ত্রী গর্ভবতী হাওয়ায় আমার চিন্তা আরও বেড়ে যায়, তখন বাসায় গিয়ে দেখি সে গ্লাস ভেঙেছে, অদ্ভুত আচরণ করছে। তখন বাধ্য হয়ে পুলিশ ও হাসপাতালের আরএমওকে ফোন করে বাসায় নিয়ে এসে তার প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। তিনি আরও বলেন, আমি সকালে তার বাবার সাথে কথা বলেছি। তার বাবা আমাকে বলেছেন ওকে ঘুমাতে দেন কয়েক ঘণ্টা, তারপর ঠিক হয়ে যাবে। আমি অবাক হয়েছি এমন একজন মানুষ সিভিল সার্ভিসে কাজ করে যাচ্ছে, আমরা বুঝতে পারিনি। আমি তার আগের কর্মস্থলে কথা বললাম তারা আমাকে বললেন সে মানসিকভাবে অসুস্থ। সে এমন পোস্ট কেন করল, কি হল, আমি কিছুই বুঝলাম না। সে আমার মেয়ের জন্মদিনের কেক খেয়েছে, সবার সাথে গল্প করেছে, তারপর হঠাৎ কি হয়ে গেলে আমি বুঝলাম না। এখন আপাতত তাকে চিকিৎসা নিতে বলা হয়েছে। আমিও চাই সে সুস্থ হয়ে তার কর্মস্থলে ফিরুক। এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বন্দে আলী বলেন, আমি ইউএনও স্যারের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে ফোর্স নিয়ে যাই। তিনি আমাকে জানান আমার এসিল্যান্ড অস্বাভাবিক আচরণ করছে। তখন সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করে তার স্ত্রীর পরামর্শে একটি ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়। কিন্তু ওষুধটির পাওয়ার কম থাকায় তিনি শান্ত হচ্ছিলেন না। পরবর্তীতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট ইনজেকশন খোঁজা হলেও তা স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায়নি। বাসার ভেতর তীব্র অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকায় রাত ১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও পরিজনদের উপস্থিতিতে তাকে চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সিলেটে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরিবারের সদস্যরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে গেছেন। এদিকে, ফেসবুক পোস্টে নিজের নাম উল্লেখ করার বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে ইউএনও শিল্পী রানী মোদক বলেন, তিনি কেন আমার নাম লিখেছেন, তা আমারও প্রশ্ন। আমি নিজেও বিষয়টি বুঝতে পারছি না।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ