নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

‘সমঝোতা না করলে তোর লাশ পড়ে থাকবে রাস্তায়’—রাজধানীর হাজারীবাগে এ.জে.আর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেডের প্রধান ওয়্যারহাউসে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলার বাদীকে এভাবেই হত্যার হুমকি দিয়েছে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি। গতকাল শুক্রবার রাতে পরিচয় গোপন করে ফোন দেওয়া ওই ব্যক্তি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমঝোতা করতে বলেন। অন্যথায় বাদীকে হত্যা করে লাশ ফেলে রাখার হুমকি দিয়েছেন।
এদিকে হুমকির পরদিন অর্থাৎ আজ শনিবার ভোরে হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ এলাকায় চার থেকে পাঁচটা মোটরসাইকেলে কিছু মানুষ এসে আবারও ওই প্রতিষ্ঠানের ৫টি গাড়ি ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হুমকির অডিও পাওয়ার কথা জানিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি যাচাই করে তদন্ত করা হচ্ছে।
হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, তিনি বাদীর সঙ্গে কথা বলেছেন। বাদীর সঙ্গে হুমকিদাতার কথোপকথনের অডিওটি যাচাই করা হচ্ছে। এ বিষয়টিকেও মামলার তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।
এ ঘটনায় করা মামলায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হাজারীবাগ থানার পরিদর্শক মো. শাহাদাৎ হোসেন বিকেলে আজকের পত্রিকাকে বলেন, এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা গেছে। এর মধ্যে ৫ জনকে রিমান্ডে আনা হয়েছে। এ ছাড়া ফোনে হুমকির বিষয়ে বাদী পুলিশকে অবগত করেছে। সাধারণ ডায়েরি করেছেন তিনি। এ বিষয়টিও তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে গত ২০ অক্টোবরে এ.জে.আর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেডের একটি ওয়্যারহাউসে হামলা, ভাঙচুর ও প্রায় ৩১ লাখ টাকা মূল্যের সরঞ্জাম লুটের অভিযোগ ওঠে। পরের দিন সকালে ৭০ থেকে ৮০ জনের বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজি ও লুটের মামলা করে প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের ব্যবস্থাপক আফসার উদ্দিন। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন মাস্ক ও মাথায় হেলমেট পরা ব্যক্তিরা ৩৫ থেকে ৪০টি মোটরসাইকেলে ওয়্যারহাউসের পশ্চিম গেটে আসেন। তাঁদের মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ জন সিসিটিভি ক্যামেরা ও সংযোগের তার ছিঁড়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। বাকিরা বাইরে অবস্থান নেন। হামলাকারীদের সন্ত্রাসী উল্লেখ করে ব্যবস্থাপক আফসার উদ্দিন জানান, হামলার সময় আট থেকে নয়জনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র এবং দু-তিনজনের হাতে শর্টগানসদৃশ অস্ত্র ছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা নিজেদের ‘ক্যাপ্টেন ইমনের লোক’ পরিচয় দেন। এরপর ওয়্যারহাউসের নিরাপত্তা বিভাগের ইনচার্জ কাজী রুহুল আমিনকে বলেন, ওই জায়গার ভাড়া তাঁদের দিতে হবে এবং তাঁরা জায়গাটি দখলে নেবেন। এরপর তাঁরা প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ গ্রহণের কক্ষ ও সিসিটিভি সার্ভার কক্ষের তালা-দরজা ভেঙে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালান।
প্রসঙ্গত, শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন ‘ক্যাপ্টেন ইমন’ নামে অধিক পরিচিত।
এরপর গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানিটির ব্যবস্থাপক ও মামলার বাদী আফসার উদ্দিনকে পরিচয় না দিয়ে এক ব্যক্তি হুমকি দেয়। তাতে ‘লাশ পড়ে থাকবে’ বাক্যটি ৬ বার উচ্চারণ করেন ওই অজ্ঞাত ব্যক্তি। ২ মিনিট ৪ সেকেন্ডের অডিওতে হুমকিদাতাকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি অন্যের মামলার বাদী হন, নিজের মামলার বাদী কে হবে?’ এরপর মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে গালাগাল করে তিনি বলেন, ‘তোর লাশ রাস্তায় পড়ে থাকবে। এ.জে.আরের সঙ্গে কথা বলে কালকের মধ্যে যোগাযোগ করার ব্যবস্থা কর। নইলে তোর লাশ আগে ফেলে দেব।’
ফোনদাতা নিজের নাম-পরিচয় জানতে চাওয়ার পরও গালাগাল করেন। একপর্যায়ে মামলার বাদী বলেন, ‘ভাই, এটা তো প্রতিষ্ঠানের বিষয়, ব্যক্তিগত বিষয় নয়।’ জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘তোর বাপ যদি থাকে, তোকে বাঁচাতে বলিস। কালকের মধ্যে এ.জে.আর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে ঝামেলা শেষ করতে বল। নইলে সবার আগে তোর লাশ পড়ে থাকবে।’
এ সময় বাদী কোথায় থাকেন, তা জানেন বলেও হুমকি দেন ওই ব্যক্তি। পরে বাদী নিজেকে প্রতিষ্ঠানের মালিক নন বলে জানালে ফোনদাতা প্রশ্ন করেন, ‘মালিক না হলে তুই বাদী হয়েছিস কেন?’ এরপর আবারও গালাগাল করে একদিনের মধ্যে এ.জে.আরের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সময় বেঁধে দেন। অন্যথায় প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন।

