Published on
:
3 min read
পর্দায় তাঁর উপস্থিতি আজও তরুণ অভিনেতাদের টেক্কা দেয়। বয়স ৭৫ ছুঁলেও, স্ক্রিনে তাঁর অ্যাকশন ও ফিটনেস রূপোলি পর্দার দর্শকদের মুগ্ধ করে। তিনি আর কেউ নন, ভারতীয় সিনেমার মেগাস্টার রজনীকান্ত। কাজের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা তো বটেই, পাশাপাশি তাঁর ফিটনেস ও খাদ্যাভ্যাস বারবার কৌতূহল বাড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মনে। সম্প্রতি তাঁর অন-স্ক্রিন সহকর্মীদের মুখে তাঁর ডায়েট নিয়মের কথা সামনে আসতেই ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি বিশেষ উক্তি—৪০ বছরের পরে খাদ্যতালিকা থেকে ‘সাদা খাবার’ সম্পূর্ণ বর্জন করা।
বহু বছর আগেই এক অনুষ্ঠানে ‘থালাইভা’ জানিয়েছিলেন যে, ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত যা খুশি খাওয়া যেতে পারে, তবে তারপর শরীর সুস্থ রাখতে সাদা রঙের বেশ কিছু খাবার জীবন থেকে ছেঁটে ফেলা উচিত। তাঁর এই ‘হোয়াইট ফুড’-এর তালিকায় রয়েছে প্রতিদিনের ব্যবহৃত চালের, দুধ, দই, চিনি ও নুন। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর মতে, এই পরামর্শ কতটা যুক্তিযুক্ত? সত্যি কি এই খাবারগুলো পুরোপুরি বর্জন করা উচিত? আসুন জেনে নেওয়া যাক।
১. ভাত: পুরোপুরি বাদ নাকি পরিমাণ হ্রাস?
শ্বেতসার বা কার্বোহাইড্রেটের নাম শুনলেই অনেকে আঁতকে ওঠেন। বিশেষ করে সাদা চালের ভাত নিয়ে প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে এটি ওজন ও শর্করা দুই-ই বাড়ায়।
বিজ্ঞান কী বলছে?
ভাতে পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট থাকে, যার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কিছুটা বেশি। তবে এটিকে ডায়েট থেকে একেবারে বাদ দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। ভাতের সঙ্গে পর্যাপ্ত সব্জি, ডাল বা প্রোটিন (মাছ বা মাংস) যোগ করলে রক্তের শর্করা খুব দ্রুত বাড়ে না। তবে খোসাযুক্ত লাল চাল বা ব্রাউন রাইস ফাইবার বাড়াতে সাহায্য করে, যা ৪০-এর পর আরও উপকারী হতে পারে।
২. দুধ ও দই: বাদ দেওয়া কি বুদ্ধিমানের কাজ?
দুধ ও বিশেষ করে দইকে ‘সাদা খাবার’ ভেবে বাদ দিলে শরীর গুরুত্বপূর্ণ কিছু পুষ্টি উপাদান থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
বিজ্ঞান কী বলছে?
দুধ ও দই হলো ক্যালশিয়াম এবং হাই-কোয়ালিটি প্রোটিনের উৎস। বিশেষ করে দই একটি অত্যন্ত কার্যকরী ‘প্রোবায়োটিক’, যা পরিপাকতন্ত্র এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। বয়স বাড়লে হাড়ের ক্ষয় রোধ করতে ক্যালশিয়াম অপরিহার্য। ল্যাকটোজ় ইনটলারেন্স বা অ্যালার্জি না থাকলে দই বা দুধ সম্পূর্ণ বাদ না দিয়ে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া অত্যন্ত উপকারী।
৩. চিনি: বাদ দেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ
রজনীকান্তের ‘সাদা খাবার’ তালিকার যে উপাদানটির সঙ্গে চিকিৎসকরা পুরোপুরি একমত, তা হলো অতিরিক্ত মিষ্টি বা চিনি।
বিজ্ঞান কী বলছে?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র নির্দেশিকা অনুযায়ী, দৈনিক ক্যালোরি চাহিদার খুব সামান্য অংশ (১০ শতাংশের কম) চিনি থেকে আসা উচিত। অতিরিক্ত প্রসেসড বা প্রসেসিং করা চিনি স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবিটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই ৪০-এর পর অতিরিক্ত মিষ্টি বা কৃত্রিম চিনি বর্জন করা সত্যিই স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক।
৪. নুন: বাদ দেওয়া নয়, চাই পরিমিত ব্যবহার
শরীরের স্নায়ু ও পেশির স্বাভাবিক কাজের জন্য এবং ফ্লুইড ব্যালেন্স রাখতে নুন বা সোডিয়াম অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
বিজ্ঞান কী বলছে?
নুন পুরোপুরি বর্জন করা বিপদ ডেকে আনতে পারে। সমস্যা হলো অতিরিক্ত নুন খাওয়া নিয়ে। বেশি নুন খেলে উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে ৫ গ্রামের কম (প্রায় এক চা চামচ) নুন খাওয়ার পরামর্শ দেয়।
বর্জন নয়, প্রয়োজন ভারসাম্য
সুপারস্টার রজনীকান্ত যে বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন, তা হলো মেটাবলিজ়ম। বয়স ৪০ পেরোলে শরীরের বিপাকহারের গতি বেশ ধীর হয়ে যায়, তাই খাবারে রাশ টানা প্রয়োজন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, কোনও নির্দিষ্ট রোগ বা শারীরিক সমস্যা না থাকলে খাদ্যতালিকা থেকে দুধ, দই বা ভাত পুরো বাদ দেওয়ার চেয়ে খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ করাই হলো দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার চাবিকাঠি।