Published on
:
2 min read
সূর্যকান্ত কুমার, কালনা
সিংহ নয়, এই পরিবারের পুজোয় দেবীর বাহন ষাঁড়। ষাঁড়ের উপরে শিবের সঙ্গে বসে থাকেন দেবী। এখানে দেবী দশভুজা নন, তিনি দ্বিভুজা। কালনার বাদলার ৪০০ বছরেরও বেশি প্রাচীন পোদ্দারবাড়ির পুজোয় এমনই রীতি। দেবীর সঙ্গে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশের সঙ্গে দেবীর দুই সখী জয়া আর বিজয়া থাকলেও নেই অসুর এবং সিংহ! দেবীর এমন রূপের জন্য এই পুজো শিবদুর্গা পুজো নামেও পরিচিত।
মহালয়ার দিন আমন্ত্রণ অধিবাসের পরে প্রতিপদের দিন দেবীর পায়ের কাছে ঘট স্থাপন করে শুরু হয়ে যায় পুজো। সেই ঘটে চলে পুজো। ওই দিন থেকেই পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত গ্রহণ করেন নিরামিষ আহার। নবমীর দিন ফের শুরু হয় আমিষ আহার। পুজোয় বলিদান প্রথা নেই। তার পরিবর্তে দেবীকে নিবেদন করা হয় নানা ধরনের ফল এবং মিষ্টি। সময় এগিয়েছে। কিছু রেওয়াজেরও এসেছে সামান্য অদল–বদল। আগে পুজোর সময়ে দেবীকে কয়েক মণ চাল নিবেদন করা হতো। পুজোর পরে সেই চাল গ্রামবাসীদের বিলি করা হতো। এখন আর সেই প্রথা নেই। ভোগে নিবেদন করা হয় লুচি, মুড়কি, দুধ, ফল, ঘরে তৈরি নানারকম মিষ্টি। পরিবারের বর্তমান সদস্য তারাপ্রসন্ন দে, কৌশিক দে বলছেন, ‘আমাদের পরিবারের আদি নিবাস ছিল উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায়। সেখানকার নিয়ম মেনেই হয় এই পরিবারের পুজো। ব্যবসার কারণে পরিবারের সদস্যরা এসেছিলেন কালনার বাদলায়। প্রথমে পরিবারের পদবি দে থাকলেও পরে পোদ্দার উপাধি মেলে।’
পরিবারের পূর্বপুরুষ ব্রজমোহন দে ১৬০৩–এ পুজোর প্রচলন করেন। চালচিত্রে রয়েছে রাম–সীতা, হনুমান, লক্ষ্মণের ছবি। দেবীকে শক্তিরূপে নয়, মাতৃরূপে পুজো করা হয়। রয়েছে দশমীতে কনকাঞ্জলি প্রথা। একটা সময়ে রেষারেষি ছিল গ্রামের আর এক জমিদার হালদার পরিবারের সঙ্গে। এখনও বিসর্জনের আগে হালদার পরিবারের প্রতিমার সঙ্গে পোদ্দার পরিবারের প্রতিমাকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে মুখ–মিলন করা হয়।
