সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামসহ কোনো পারমাণবিক উপাদানই ইরানের বাইরে পাঠানো হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তেহরান সফররত পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন রেজায়ি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
যুদ্ধ শুরুর প্রায় আট মাস পর ইরানের কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন ঘটেছে এ বক্তব্যে। এর এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরায়েল সফর করেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে অঘোষিত বৈঠক করেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান। এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় জুন মাসে একটি অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তি হয়েছিল। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও লড়াই শুরু হলে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকটি কার্যত ভেস্তে যায়।
এরপর থেকে দুই দেশের আলোচনা অনেকটাই থমকে রয়েছে। বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ। তেহরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তবে দেশটি বেসামরিক ব্যবহারের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, পরিদর্শকদের প্রবেশে বাধা দিয়েছে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিও গড়ে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করার দাবি জানিয়ে আসছে। এ মাসের শুরুতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ওয়াশিংটনের দাবি পূরণ করতে হলে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতা অর্থবহ মাত্রায় কমাতে হবে। তবে মঙ্গলবারও তেহরান সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে রেজায়ি বলেন, ‘একটুখানি সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদানও ইরানের বাইরে যাবে না। এসব উপাদান ইরানি জনগণের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও জাতীয় সম্পদ। এগুলো দেশের ভেতরেই ব্যবহারের জন্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আস্থা তৈরির জন্য পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না। আর সেই প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে ইরানের শর্ত পূরণের মধ্য দিয়ে।’
এদিকে ইরানের সংবাদমাধ্যম নূরনিউজ জানিয়েছে, তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
মুনির ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গেও বৈঠক করেন। ইরানের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বৈঠকসংক্রান্ত বিবরণ অনুযায়ী, গালিবাফ বলেছেন, গত মাসে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরান যে সাতটি শর্ত দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সেগুলো পূরণ না করা পর্যন্ত তেহরানের আস্থা ফিরে পাবে না ওয়াশিংটন।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি যুদ্ধের শুরু থেকেই অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। দেশটির শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, প্রণালি বন্ধের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে যে অবরোধ আরোপ করেছে, তা প্রত্যাহার করা। পাশাপাশি ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং আঞ্চলিক সব রণাঙ্গনে সংঘাত বন্ধ করার দাবিও রয়েছে। আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধের শর্তের মধ্যে লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যকার লড়াইও অন্তর্ভুক্ত।
সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল
