ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট দাবানলে প্রায় ৩০০টি বাড়িঘর পুড়ে গেছে এবং শত শত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে হয়েছে। মঙ্গলবার এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।
সাউথ বাংকা রিজেন্সির প্রধান রিজা হারদাভিদ জানান, শনিবার বাংকা বেলিটুং প্রদেশের বাসিন্দারা প্রথমে আগুনটিকে তাদের গ্রামের দিকে এগিয়ে আসতে দেখেন এবং বহনযোগ্য পানির পাম্প ব্যবহার করে নিজেরাই তা নেভানোর চেষ্টা করেন।
তিনি বলেন, “তারা ভেবেছিল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কিন্তু এলাকাটি পিট-ভূমি (এক ধরণের জলাভূমি বা জৈব সমৃদ্ধ মাটিযুক্ত অঞ্চল) হওয়ায় মাটির নিচে আগুন তখনো ধিকিধিকি জ্বলছিল। তাই, যখন তারা মনে করেছিল বিপদ কেটে গেছে, ঠিক তখনই বাতাসের দিক পরিবর্তন হয় এবং আগুন দ্রুত বসতির দিকে ছড়িয়ে পড়ে।”
স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, গ্রামটি থেকে প্রায় এক হাজার মানুষ পালিয়ে গেছে।
পরিবারের সাথে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত ৫৫ বছর বয়সী নারী লেনি বলেন, “আমার ঘরবাড়ি সব শেষ হয়ে গেছে। আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আমি কেবল নিজের ও সন্তানদের প্রাণ বাঁচাতে পেরেছি... আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম, তাই অন্য কোনো কিছু সঙ্গে নেওয়ার মতো সময়ও পাইনি।”
আরেকজন বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি, ৫০ বছর বয়সী হারিয়ান্তি জানান, তীব্র বাতাসের কারণে আগুনের শিখা আরো ছড়িয়ে পড়ে এবং মূলত কাঠ দিয়ে তৈরি বাড়িগুলোকে গ্রাস করে ফেলে।
তিনি বলেন, “আমি তাৎক্ষণিকভাবে নিজেকে বাঁচাতে দৌড়ে পালিয়ে যাই। আমার কোনো কিছুই অবশিষ্ট থাকেনি... কেবল পরনের কাপড়টুকু ছাড়া।”
রিজা জানান, গ্রামটি একটি সংরক্ষিত এলাকার পিট-ভূমি বা জলাভূমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছিল, যা গত বছরই একটি আবাসন প্রকল্পে রূপান্তর করা হয়েছে।
শুষ্ক মৌসুমে ইন্দোনেশিয়ায় নিয়মিত দাবানল দেখা দিলেও, এল নিনো আবহাওয়াজনিত ঘটনার প্রভাবে এবার তা আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, গত চার দশকের রেকর্ডকৃত তথ্যের মধ্যে এবারের এল নিনো অন্যতম শক্তিশালী হতে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা জঙ্গল কেটে ও পুড়িয়ে জমি পরিষ্কার পদ্ধতির কথাও উল্লেখ করছেন, যা সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপের প্রাকৃতিকভাবে আগুন-প্রতিরোধী ভূ-প্রকৃতিকে বদলে দিয়েছে।
এবারের দাবানলের ফলে স্থানীয়ভাবে তীব্র ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় বায়ুদূষণের মাত্রাও ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।
