হঠাৎ উঠতে শুরু করল হেঁচকি। তার পরে সে থামতেই চায় না। গ্লাসের পর গ্লাস জল খেলেন। ভাবলেন এই বুঝি আর উঠল না। কিন্তু পরক্ষণেই সেই আশায় জল ঢেলে আবার উঠল হেঁচকি। বিষয়টি নিঃসন্দেহে বিরক্তিকর। তবে এর সমাধানের কিছু কার্যকরী টোটকাও রয়েছে।
সাধারণত ডায়াফ্রামের পেশির আকস্মিক সংকোচনের ফলে কণ্ঠনালীর স্বরযন্ত্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, যা থেকে তৈরি হয় হেঁচকির শব্দ। দ্রুত খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত মশলাযুক্ত বা ঝাল খাবার খেলে, ঠান্ডা বা গরম পানীয় একসঙ্গে খেলে কিংবা অতিরিক্ত উত্তেজনার কারণে এমন ঘটতে পারে। এমন পরিস্থিতি হলে হেঁচকি থামাবেন কী ভাবে? জেনে নিন তিনটি পদ্ধতি।
১. শ্বাস আটকে রাখা : এটি হেঁচকি থামানোর সবচেয়ে প্রাচীন ও সহজ পদ্ধতি। গভীর একটা শ্বাস নিয়ে ফুসফুসে বাতাস ধরে রাখুন এবং ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড পর্যন্ত শ্বাস বন্ধ রাখুন। এরপর ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। এই প্রক্রিয়ায় শরীরে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পায়, যা ডায়াফ্রামের অনৈচ্ছিক সংকোচনকে শিথিল করে হেঁচকি থামাতে সাহায্য করে।
২. এক গ্লাস ঠান্ডা জল পান করা: এক গ্লাস ঠান্ডা জল এক চুমুকে বা খুব দ্রুত পান করুন। বিশেষ করে একটু ঝুঁকে বরফ-ঠান্ডা জল পান করলে তা ‘ভেগাস নার্ভ’কে উদ্দীপিত করে। ভেগাস নার্ভ উদ্দীপিত হলে ডায়াফ্রাম পেশির স্পন্দন বা সংকোচনের সংকেতকে ভুলিয়ে দেয়, ফলে নিমেষেই হেঁচকি বন্ধ হয়ে যায়।
৩. এক চামচ চিনি খাওয়া: জিভের উপর এক চামচ দানাদার চিনি রেখে কিছুক্ষণ চুষে নিন এবং তারপর গিলে ফেলুন। মিষ্টি স্বাদের তীব্র উদ্দীপনা জিভ ও মুখের ভেতরের স্নায়ুগুলোকে ব্যস্ত করে ফেলে। ফলে মস্তিষ্কে হেঁচকির সংকেত পাঠানো ভেগাস নার্ভের মনোযোগ বিঘ্নিত হয় এবং ডায়াফ্রামের স্পন্দন সঙ্গে সঙ্গে থেমে যায়।
সাধারণত এসব ঘরোয়া উপায়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই হেঁচকি পুরোপুরি ভাল হয়ে যায়। তবে যদি এই উপায়গুলো প্রয়োগ করার পরও একটানা ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে হেঁচকি চলতেই থাকে, তবে সেটিকে হালকাভাবে না নিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
