জয়পুরহাটের কালাই থানায় ঢুকে কোনো কারণ ছাড়াই কাঠের বাটাম দিয়ে পিটিয়ে তিন পুলিশকে গুরুত্বর আহত করার ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক আসলাম হোসেনকে (২৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে আসলাম হোসেনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত সোমবার কালাই থানা চত্বরে এ ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন—কালাই থানার কনস্টেবল মাহমুদুল হাসান রকি, গাড়িচালক কনস্টেবল মাসুদ রানা এবং উপপরিদর্শক (এসআই) আহসান হাবিব। তারা সবাই কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে কর্মস্থলে বিশ্রামে রয়েছেন।
গ্রেপ্তার করা আসলাম হোসেন কালাই পৌর শহরের থুপসাড়া মহল্লার মুনসুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক ও জুয়ার মামলা রয়েছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে দুর্গাপূজার ডিউটিতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন কালাই থানার পুলিশ সদস্যরা। এ সময় আসলাম হোসেন হাতে একটি কাঠের বাটাম নিয়ে সবার অগোচরে থানায় ডিউটি অফিসারের কক্ষের সামনে গিয়ে দাঁড়ান। ফটকে দায়িত্বরত নারী কনস্টেবল স্মৃতি আকতার তার পরিচয় ও আসার কারণ জানতে চাইলে কোনো জবাব না দিয়েই আসলাম আচমকা কনস্টেবল মাহমুদুল হাসান রকিকে এলোপাতাড়ি পেটাতে শুরু করেন। এতে তিনি রক্তাক্ত জখম হন।
তাকে বাঁচাতে ও অভিযুক্তকে আটকাতে অন্য পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে এলে আসলাম আরও উগ্র হয়ে ওঠেন। তিনি পিকআপচালক কনস্টেবল মাসুদ রানা ও এসআই আহসান হাবীবকেও পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। পরে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইমায়েদুল জাহেদীসহ অন্য সদস্যরা এগিয়ে এলে আসলাম হাতের বাটাম ফেলে থানা থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বলেন, ‘হঠাৎ কালাই থানার ভেতরে ঢুকে আচমকা পুলিশের ওপর হামলা চালানোর ঘটনায় পরের দিন মঙ্গলবার থানায় মামলা করা হয়। মামলার পর ওই রাতেই অভিযুক্ত আসলামকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আজ দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
সংশ্লিষ্ট সংবাদ: থানা
৩০ জুন ২০২৬
