বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোর একটি। এখানে প্রতিযোগিতা করতে হয় দেশের সবচেয়ে সেরা স্টুডেন্টদের সাথে সুতরাং এখানে কোনো পরীক্ষার্থীকে দুর্বল প্রতিপক্ষ ভাবার কোন সুযোগই নেই। আর কমিশন তো পরীক্ষা নেয় বাদ দেওয়ার জন্যই।
সুতরাং এ অবস্থায় শুধু অধ্যায়নই যথেষ্ট নয় বরং দরকার কৌশলী অধ্যায়ন। এটা ভালোভাবে জানা যে কোন কোন বিষয়ে কখন ফোকাস দিতে হবে এবং কোন বিষয়ের কতটুকু বাদ দিতে হবে।
এখন আমি বলার চেষ্টা করব, পরীক্ষার পূর্বের ৭২ ঘণ্টায় একজন পরীক্ষার্থীর কী কী প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত। এবার ১৯তম বিজেএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার তারিখ ৩১ অক্টোবর। সেই হিসেবে ২৮-৩০ তারিখ অর্থাৎ এই ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিনে একজন পরীক্ষার্থী করণীয়গুলো উল্লেখ করছি-
১. ২৮ ও ২৯ তারিখ এই দুই দিনে বা ৪৮ ঘণ্টায় আইনের যে ছয়টি গ্রুপ আছে সেটা ভালোভাবে রিভিশন দিতে হবে হাতে। আর জেনারেল অংশের ইংরেজি, বাংলা, সাহিত্য,বিজ্ঞান ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সে চোখ বুলাতে হবে। এই সময় নতুন করে মডেল টেস্ট সমাধান করার দরকার নেই।
২. ৩০ তারিখ সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যার পূর্ব প্রযন্ত আবার শুধু আইনের গ্রুপ ছয়টি চোখ বুলাতে হবে। কেননা রিভিশন ভালো না হলে পরীক্ষার হলে গিয়ে সব উল্টাপাল্টা মনে হবে।
৩. ৩০ তারিখ সন্ধ্যা থেকে শুরু করে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত শুধুমাত্র ঐচ্ছিক ১,ও ২ তারিখ রিভিশন দিতে হবে।
৪.রাত দশটার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়তে হবে যতদূর সম্ভব ডিপ স্লিপ নিশ্চিত করতে হবে। কেননা পরীক্ষার আগের রাতের পর্যাপ্ত ঘুম ভালো পরীক্ষার অন্যতম সহায়ক।
৫. ফজরের সময় ঘুম থেকে উঠে ফজরের সালাত আদায় করতে যথা সম্ভব চেষ্টা করতে হবে এবং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে।
৬. সকালে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে কেননা পানি, অক্সিজেন এবং গ্লুকোজ হলো মস্তিষ্কের ঠিকমতো কাজ করার কাঁচামাল। আর এও বলে রাখি অনেকে প্রসাবের ভয়ে পানি পান করেন না এটা একদমই ঠিক না। আপনি পানি পান করবেন দরকার পড়লে পানির সাথে নিবেন, প্রসাবের বিষয়ে চিন্তিত হবার দরকার নেই প্রত্যেকটি পরীক্ষার কেন্দ্রে যথেষ্ট ওয়াশরুম ব্যবস্থা থাকে।
৭. সকাল থেকে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আবারও ঐচ্ছিক ১ ও ২ এবং শুধুমাত্র ইংরেজি সাহিত্য ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স চোখ বুলিয়ে যেতে হবে।
৮. আমি কেন বারবার ঐচ্ছিক ১ ও ২ এর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি সেটা আপনি পরীক্ষার হলে গিয়ে বুঝতে পারবেন।
৯.প্রিলি পরীক্ষার ক্ষেত্রে আপনার অবস্থান থেকে পরীক্ষার কেন্দ্রের দূরত্ব, রাস্তার জ্যাম ইত্যাদি বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে একটু সময় হাতে নিয়ে আগে পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন। যাওয়ার সময় খুব বেশি বই, খাতা নেওয়ার দরকার নেই শুধুমাত্র অ্যাডমিট কার্ড ও কলম ঠিক আছে কিনা যাচাই করে নিতে হবে এবং কেউ যদি রাস্তায় বা পরীক্ষার কেন্দ্রের সামনে পড়তে চায় তাহলে শুধু ঐচ্ছিক ১ ও ২ এবং কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স সাথে নিয়ে বের হবে।
১০. কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর যথাসম্ভব ভিড় এড়িয়ে একা ফাকা জায়গায় থাকার চেষ্টা করবে এবং কারো কোন প্রশ্ন বা কোন কথায় মনোযোগ দেওয়া যাবে না এটা অযথা প্যানিক সৃষ্টি করে এবং কনফিডেন্ট লো করে দিবে পারে। আর কেউ যদি কোন বই নিয়ে যায় তবে সে সেই বইটা পড়তে পারেন।
১১. পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশের পর সবার আগে আপনার ছিট কোন বিল্ডিং, কোন রুমে আছে তা খুঁজে বের করতে হবে।
প্রশ্ন হাতে পাওয়ার পর করণীয়
১. যথাযথ সতর্কতার সাথে প্রশ্ন থেকে OMR শিট আলাদা করে নেওয়া যেন ছিঁড়ে বা ফেটে না যায়।
২.অতপর OMR শিটে খুব সতর্কতার সাথে নিজের রোল বৃত্তে ভরাট করতে হবে।
৩. প্রশ্ন পাওয়ার পর ০১ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমিকভাবে ১০০ পর্যন্ত যাওয়া এবং যেটা আপনি পাবেন সেটা সাথে সাথে omr শিটে দাগে ফেলা এবং যে প্রশ্নটা আপনি ১০০% শিওর না কিন্তু ৬০-৭০% পর্যন্ত সিওর তাহলে আপনি প্রশ্নে গোল দাগ দিয়ে রাখবেন তাহলে পরবর্তীতে খুব সহজে খুঁজে পাওয়া যায় না হলে খুঁজে বের করতে সময় নষ্ট হবে।এবং প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রশ্নে লেখা বা দাগ দেওয়া বৈধ এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্নেই অংক করতে পারবেন।
যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন
১.প্রশ্ন পাওয়ার পর ০১ থেকে শুরু না করে খুঁজে খুঁজে প্রথমে নিজের ভালোলাগা যেটা গণিত অথবা বিজ্ঞান অথবা আইন এভাবে খুঁজে বের করলে অনেক সময় নষ্ট হবে। মনে রাখবেন পরীক্ষার হলের এক সেকেন্ডের কিন্তু অনেক দাম।
২. প্রথমে প্রশ্ন হাতে পাওয়ার পর অনেকে আবার প্রথম থেকে, একবার শুধুমাত্র পড়ে নেয় ও প্রশ্নে উওরে একটু ছোট চিহ্ন দিয়ে রাখে কিন্তু পরবর্তীতে সেটা খুঁজতে বা দুই বার এরুপ কাজ করতে অনেক সময় নষ্ট হয়।
সুতরাং সঠিক নিয়ম হলো আপনি পর্যায়ক্রমিকভাবে যেটা পাবেন সেটা সাথে সাথে OMR শিটে দাগাবেন এবং যেটা আপনি একদমই পাবেন না এটা এড়িয়ে যাবেন এবং যেটা আপনার মনে হচ্ছে পাবেন কিন্তু একটু কনফিউশন আছে সেই প্রশ্নের মধ্যে আপনি একটা গোল দাগ দিয়ে রাখবেন।
পাস করার জন্য নিরাপদ
কতটা পর্যন্ত দাগানো পাস করার জন্য নিরাপদ সেটা ঠিক বলা খুবই কঠিন। এটা ম্যান টু ম্যান ভেরি করে এবং একটি আপেক্ষিক বিষয়। তবে সাধারণত প্রত্যেকটি ভুলের জন্য. ২৫ হওয়ায় ৭০ -৮০ এর মধ্যে দাগানো অনেকটা নিরাপদ।
প্রিলি পাসের টেকনিক
কেউ যদি পরীক্ষার হলে গিয়ে দেখে যে অনেক চেষ্টার পরেও তার ৪০ থেকে ৪৫ টার বেশি ঠিক দাগানো সম্ভব না তাহলে সে আর বসে না থেকে ১০০ টা দাগিয়ে আসবেন।
লেখক: সুপারিশপ্রাপ্ত সিভিল জজ (১৮তম বিজেএস)
