সংবাদ · সাধারণ
বাল্যবিয়ে বন্ধে চাই সচেতনতা
২২/১০/২০২৬

বয়স আঠারো পূর্ণ হওয়ার আগেই দেশের অনেক মেয়ের কাঁধে চাপছে সংসারের দায়িত্ব। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পড়াশোনা, সংকুচিত হচ্ছে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ। ইউনিসেফের তথ্য বলছে, বাংলাদেশে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ৪৭ দশমিক ২ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে।অর্থাৎ, দেশের প্রায় প্রতি দুটি কন্যা শিশুর একটি বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছে। বাল্যবিয়ের এই চিত্র উদ্বেগজনক। বাল্যবিয়ে বন্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানান প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তারপর পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হচ্ছে না কেন সেটা একটা প্রশ্ন।বাল্যবিয়ের পেছনে দারিদ্র্য, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, শিক্ষার অভাব ও কুসংস্কার বড় ভূমিকা রাখে। অনেক অভিভাবক মেয়েকে পরিবারের বোঝা মনে করেন। তবে বিয়ে কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। বরং এতে মেয়েদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে, শিক্ষার পথ রুদ্ধ হয় এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ সংকুচিত হয়ে পড়ে। অল্প বয়সে মাতৃত্ব মা ও শিশুর স্বাস্থ্যেও গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।বাল্যবিয়ে নিরোধে আইন রয়েছে। শুধু আইন থাকলেই বাল্যবিয়ে বন্ধ হবে না। আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বিয়ের আগে বয়স যাচাই করতে হবে। বাল্যবিয়ের আয়োজন ও নিবন্ধনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে দরিদ্র পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতে হবে, যাতে অভাবের কারণে মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ না হয়।মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতাদেরও সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗