Published on
:
2 min read
অভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, কাটোয়া
কেতুগ্রামে পাঁচঘড়ায় দাশগুপ্তবাড়িতে চার দিনের পুজো হয় এক দিনেই— নবমীতে। পুজোয় ৬৪ যোগিনীর নৈবেদ্য দেওয়ার নিয়মও আছে। পরিবারের সদস্য তপন দাশগুপ্ত জানাচ্ছেন, পুজো প্রথম শুরু হয়েছিল জমিদার বিক্রম চৌধুরীর হাত ধরে। সপ্তম থেকে দশমী পর্যন্ত চার দিনের পুজো নবমীর দিনই হয়। নবমীর ভোর থেকে পুজো শুরু হয়। জনশ্রুতি, জমিদার বিক্রম আগে দেবী দুর্গার সাধনা করতেন। নবমীর দিন নাকি মন্দিরের গর্ভগৃহের দরজার চৌকাঠে রেখে দেওয়া সিঁদুরের উপরে দু’পায়ের ছাপ দেখে ওই দিনই দুর্গাপুজো শুরু করেন। ৬৪ যোগিনীর উদ্দেশে কলাপাতার উপরে নৈবেদ্য সাজানো হয়। কারণবারি, সিদ্ধির মতো সামগ্রী লাগে ভোগে। এই প্রতিমার বিসর্জন হয় না। সারা বছর পুজো হয়।
মঙ্গলকোটের প্রাচীন পুজোগুলির মধ্যে গণপুরের ভট্টাচার্যবাড়ির পুজো অন্যতম। শোনা যায়, গণপুরের বাসিন্দা রঘুনাথ ভট্টাচার্য পেশায় ছিলেন জ্যোতিষ। তাঁকে এলাকার মানুষ ‘গণকঠাকুর’ বলে ডাকতেন। গণকঠাকুরের অপভ্রংশ থেকে জনপদের নাম হয় গণপুর। এখনও গণকঠাকুরের বাড়িতে দুর্গার পুজো হয় পুরোনো তালপাতার পুঁথি ধরে। একটা সময়ে এই বাড়ির পুজোয় সব সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নিতেন। গণপুরের ভট্টাচার্যবাড়ির পুজো শুরু হয়েছিল প্রায় ৪৫০ বছর আগে। বাড়ির প্রবীণ সদস্য রামজীবন ভট্টাচার্যর কথানুযায়ী, প্রায় ৪৫০ বছর আগে পুজো শুরু করেছিলেন সাধক রামচন্দ্র ন্যায়বাগীশ। বাঁশ ও তালপাতার ছাউনি দিয়ে আটচালা তৈরি করে শুরু হয়েছিল পুজো। পরিবারের সদস্যদের দাবি, পাশের গ্রাম বরুলিয়া ও ইরসন্দার কিছু মুসলমান পরিবার তাঁদের খরচে তালপাতার ছাউনি দিয়ে আটচালা বানিয়ে দিতেন। নবমীর দিনে পান-সুপুরি, লুচি এবং মিষ্টি দেওয়া হতো সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে।
ভট্টাচার্যবাড়ির এই পুজোর বৈশিষ্ট্য সাবেকি মূর্তি এবং টানা চোখ। অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি বা শেষ সময়েও তালপাতার প্রচলন ছিল। কালি ও আতপ চাল মিশিয়ে একটা মিশ্রণ তৈরি হতো। সেই মিশ্রণ দিয়ে মন্ত্র লেখা হতো তালপাতায়। ১৯৭৮-র ভয়াবহ বন্যায় ভট্টাচার্য বাড়ির সব পুঁথি নষ্ট হয়ে যায়। মাত্র কিছু পুঁথি বর্তমানে রয়েছে। শোনা যায়, স্বয়ং গ্রহরাজের নির্দেশ দেন নবমীর দিন মাতৃপুজোর সঙ্গে গ্রহরাজেরও পুজো করতে হবে। সেই থেকে এখনও নবমীতে মাতৃপুজোর সঙ্গে গ্রহরাজের পুজো হয়। জেলার অন্য বনেদি পুজোগুলির মতো ভট্টাচার্য বাড়ির পুজোতেও একটা সময়ে বর্ধমানের রাজা আর্থিক সহায়তা করতেন। ভট্টাচার্য বাড়ির ঢোলের শব্দ শুনে এই অঞ্চলের অন্য পুজোগুলিতে অষ্টমীর বলি হতো। গণপুরের এই পুজোতেও ঘট আনা বা নবপত্রিকা স্নানের সময়ে শঙ্খচিল উড়তে দেখা যায় বলে জানান স্থানীয়রা।
