প্রবাসী বড় ভাইয়ের পাঠানো ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় মো. জাবেদ উদ্দিন নয়ন (২১) নামে এক যুবককে মুখে স্প্রে করে অচেতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে তাঁকে সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়। গত শনিবার সন্ধ্যা পৌনে আটটার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের হাজীগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জাবেদ উদ্দিন নয়নের বাড়ি আনোয়ারা উপজেলার জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের বরফমিল ইদ্রিছ চেয়ারম্যানবাড়ির কাছে। তাঁর বাবার নাম মূসা। নয়ন শিক্ষার্থী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
ভুক্তভোগী নয়নের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁর পরিবারের প্রায় ৭ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। প্রবাসী বড় ভাই এক ব্যক্তির মাধ্যমে ব্যাংকে টাকা পাঠান। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে চাতরী চৌমুহনী এলাকায় গিয়ে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা বুঝে নেন নয়ন। কিছু কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার জন্য তিনি একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন।
নয়ন বলেন, অটোরিকশায় ওঠার সময় তিনি সামনের আসনে বসেন। পেছনের আসনে ছিলেন দুই নারী ও এক ব্যক্তি। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি মাঝ পথে নেমে গেলে চালক তাঁকে পেছনের আসনে বসতে বলেন। সেখানে বসার পর দুই নারীর আচরণে সন্দেহ হলে তিনি অটোরিকশা থেকে লাফ দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দুই নারী তাঁকে টেনে ধরে মুখে স্প্রে করেন। এরপর তাঁর কাছে থাকা ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা নিয়ে তাঁকে লাথি মেরে অটোরিকশা থেকে ফেলে দেওয়া হয়। পরে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরের ঘটনা তাঁর স্পষ্ট মনে নেই।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনের দায়িত্ব পালন শেষে শনিবার সন্ধ্যায় কার্যালয়ে ফিরছিলেন আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল। স্টেশন লিডার মো. মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দলটি হাজীগাঁও এলাকার মনু মিয়ার মসজিদের কাছে পৌঁছে সড়কে যানজট দেখতে পায়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গাড়ি থেকে নেমে সড়কের পাশে এক যুবককে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। প্রথমে তাঁরা সড়ক দুর্ঘটনায় যুবকটি আহত হয়েছেন বলে ধারণা করেছিলেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার মো. মুজিবুর রহমান বলেন, পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে তাঁরা ওই যুবককে সড়কের পাশে পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনাস্থলে স্থানীয় লোকজন ও উৎসুক মানুষের উপস্থিতি থাকলেও কেউ তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেননি। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাঁকে হাসপাতালে পৌঁছে দেন।
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দিন চৌধুরী বলেন, শনিবার রাত আটটার দিকে নয়নকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, চেতনানাশক কোনো পদার্থ খাওয়ানো বা স্প্রে করার কারণে নয়নের এমন অবস্থা হয়েছে। হাসপাতালে আনার সময় তাঁর শরীর কাঁপছিল।
