দুর্গাপুজোর আগে বাংলাদেশে একাধিক প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় সংখ্যালঘু হিন্দুদের মনে আশঙ্কার মেঘ জমেছিল। আদৌ নিরাপদে দুর্গোৎসব পালন করা যাবে কিনা, তা নিয়ে ভাবিত হন সকলে। এই প্রশ্নও উঠছিল, দেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার পরও কি মৌলবাদীদের দাপট থাকবে? ফলে শঙ্কা নিয়ে দুর্গাপুজোর আয়োজন করেছিলেন হিন্দুরা। সেই ভয় কাটিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিতে পুজোর শেষ অর্থাৎ নবমীতে দেশের পুজোমণ্ডপগুলি ঘুরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার দেশের উত্তরাঞ্চলের একাধিক জেলার দুর্গা মণ্ডপ ঘুরে ঘুরে দেখেছেন। রংপুরের রাধাগোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরও পরিদর্শন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ পৌঁছন রাধাগোবিন্দ মন্দিরে। তাঁকে অভ্যর্থনা জানান মন্দির কমিটির সভাপতি বাবুতোষ সরকার বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক খোকন সরকার, বাংলাদেশ পুজো উদযাপন পরিষদ রংপুর জেলা শাখার সভাপতি রামজীবন কুণ্ডু, মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার রায় এবং মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব পলাশকান্তি নাগ। মন্দিরে শিশু-কিশোরের দল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে। তা বেশ উপভোগ করেন তারেক। পূজারি ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাঁদের শারদীয়ার শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে সকালে ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে একটি সামরিক বিমানে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছলে তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, বিভাগীয় কমিশনার জাহাঙ্গির আলম, ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান ও পুলিশ সুপার মহম্মদ মোজাম্মেল হক-সহ অন্যরা।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীর এলাকায় সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। এই সময় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছাও জানান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ের পর সরকার প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তারেক রহমানের প্রথম রংপুর সফর। রংপুরে পুজোমণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ফিরে সেখান থেকে রাজশাহী যান।
