নওগাঁর রাণীনগরে এক শিক্ষার্থীকে (শিশু) ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার মামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে শিশুটির বাবাসহ ৫৩ জনের বিরুদ্ধে উল্টো দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলা করার অভিযোগ উঠেছে। দায়ের করা মামলা ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করে মামলাটি প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১১টায় উপজেলার পারইল বাজারে পারইল বাজার ও এলাকাবাসির ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা এবং পারইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন পারইল ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি তুষার আহম্মদ। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, পারইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার বুলেট, ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাজেদুর রহমান, স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম ও প্রশান্ত কুমার প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করে বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে পারইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী (শিশু) বিদ্যালয়ের সামনে মোজাম্মেল হক মোজা ওরফে মুঞ্জু (৭০)-এর দোকানে খাবার জিনিস কিনতে যায়। এ সময় মোজাম্মেল হক মোজা শিক্ষার্থীকে দোকানের ভিতরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় স্থানীয় লোকজন জানতে পেরে মোজাকে আটকসহ উত্তেজিত জনতা মোজার দোকানে হামলা চালায়। পরে পুলিশ এসে মোজাকে আটক করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।
বক্তারা দাবি করে, ধর্ষণচেষ্টার ওই মামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এবং উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে মোজার ছেলে ইউনুস আলী বাদি হয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ওই শিশুর বাবাসহ ১৩ জনকে নামীয় এবং আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে দোকানে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের উল্টো “মিথ্যে” মামলা দায়ের করেছেন। বক্তারা দায়েরকৃত মামলাকে “মিথ্যে” দাবি করে মামলাটি দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার মোজাম্মেল হক মোজার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন।
জানতে চাইলে মামলার বাদি ইউনুস আলী বলেন, আমার বাবার (মোজাম্মেল হক মোজা) বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলে মামলা, হামলা করেছে তা পুরোটাই ষড়যন্ত্রমূলক। আমার বাবা এতো বৃদ্ধ বয়সে ধর্ষণচেষ্টার মতো কাজ করতে পারে না।
তিনি বলেন, ওই শিশুর বাবার সাথে ব্যবসায়ীক লেনদেন ছিল এবং শিশুর বাবার নিকট থেকে আমার বাবা ৯০ হাজার টাকা দোকানের বাঁকি টাকা পাবেন। সেই টাকা না দিতে কতিপয় লোকজনের ষড়যন্ত্রে ধর্ষণচেষ্টার নাটোক সাজিয়ে বাবাকে ফাঁসানো হয়েছে এবং আমাদের দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট করা হয়েছে। আমার দায়েরকৃত মামলা তদন্ত করলে সঠিক প্রমাণিত হবে বলে দাবি করেন তিনি।
রাণীনগর থানার ওসি মো. জাকারিয়া মন্ডল বলেন, মানববন্ধনের কথা শুনেছি। আদালতে দায়েরকৃত মামলার নথি এখনো আমার থানায় আসেনি। নথি আসলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
