Published on
:
2 min read
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় শুটারদের আগে থেকে সতর্ক করেছিল চক্রের চাঁইরা। টিভিতে ১৮ অক্টোবরের হামলার খবরের পরেই অভিযুক্তদের কাছে বার্তা আসে বলে সূত্রের খবর। মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ জানতে পেরেছে, হামলার সময় এবং পরে ফোন ও মেসেজে শুটাররা তাদের হ্যান্ডলারের সঙ্গে লাগাতার যোগাযোগ রেখেছিল। সেখান থেকেই তাদের কাছে নির্দেশ ও খবরের আপডেট পাঠানো হতো। এদিকে ঘটনার তদন্তে নেমে গুজরাটের সুরাট থেকে দুটি পিস্তল উদ্ধার করেছে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ। গুলি চালিয়ে পালানোর সময় সুরাটে এই অস্ত্র দু'টি লুকিয়ে রেখেছিল শুটাররা। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র দু'টি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।
এই হামলার ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে অঙ্কিত খাটাক এবং সমীর ক্ষেত্রী। তাদের জেরা করা হচ্ছে। পাশাপাশি অনিল পণ্ডিত নামে আর এক সন্দেহভাজনের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত এই অনিল সমাজমাধ্যমে হামলার দায় স্বীকার করেছিল। সে বর্তমানে আমেরিকায় রয়েছে বলে পুলিশের অনুমান। তাকে এই মামলায় পলাতক হিসেবে দেখানো হয়েছে। তার নির্দেশেই হামলার ছক কষা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এ ছাড়া হরিয়ানার বাসিন্দা কুণাল ও সুমিত এবং উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা রাধা ও ববিতা নামে চার অভিযুক্তের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শুটারদের অস্ত্র ও গুলি জোগাড় করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
তদন্তে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ধৃতদের অন্যতম হৃতিক কুর্মি ওরফে রোশন মুম্বইয়ে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের ‘স্লিপার সেল’ হিসেবে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছিল। সে ডেলিভারি বয় এবং র্যাপিডো বাইক চালকের বেশে মুম্বইয়ের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরত। যাতে কারও মনে কোনও সন্দেহ না জাগে সেই কারণেই সে মুম্বইয়ের নানা এলাকায় ঘুরে বলিউড তারকাদের বাড়ি রেইকি করত। সেই সব জায়গার ভিডিয়ো তুলে সে গ্যাংয়ের লোকেদের কাছে পাঠাত। আন্ধেরি পূর্বে ভাড়া বাড়িতে ওঠার আগে সে জুহু ও গোরেগাঁও এলাকাতেও বেশ কয়েকমাস কাটিয়েছিল। পুরো চক্রের জাল কতদূর ছড়িয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।