বগুড়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৫৯ জন। তাঁদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৮১ জন রোগী।
রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বিশেষ ইউনিট চালু করা হয়েছে। অন্যদিকে, মশা নিধনে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগরবাসী। তাঁদের অভিযোগ, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও অনেক এলাকায় মশা নিধন ও নালা-নর্দমা পরিষ্কারে কার্যকর তৎপরতা চোখে পড়ছে না।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ১৪ জন এবং শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ৩০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ৩৭ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১ হাজার ৩৫৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ২৭৮ জন। বাকি রোগীদের মধ্যে বর্তমানে ৮১ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
জনবল সংকটে পৃথক ইউনিট চালুতে দেরি
গত ১৪ অক্টোবর থেকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের করোনাকালীন প্রস্তুত করা আইসিইউ ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর আগে সাধারণ ওয়ার্ডে অন্য রোগীদের সঙ্গে ডেঙ্গু আক্রান্তদেরও রাখা হতো।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মজিদুল ইসলাম জানান, ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় রোগীদের আলাদা ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। ওয়ার্ডবয় ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ প্রয়োজনীয় জনবলের তীব্র সংকটের কারণে আগে রোগীদের পৃথকভাবে রাখা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসায় শুরু থেকেই পৃথক ওয়ার্ড প্রস্তুত রেখেছে শজিমেক হাসপাতাল। রোগীর চাপ বাড়ায় নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর ই মোরশেদ জানান, বর্তমানে সেখানে ৩০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৭ জন পুরুষ ও ১৩ জন নারী। নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১২ জন, যাঁদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও একজন নারী।
মশা নিধন নিয়ে নগরবাসীর অভিযোগ
ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও শহরের বিভিন্ন এলাকায় মশা নিধন কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, নিয়মিত নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধনের কার্যক্রম তাঁদের অনেক এলাকায় চোখে পড়ছে না।
শহরের জামিলনগরের দুই বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মশা নিধনে কর্তৃপক্ষের তেমন তৎপরতা তাঁরা দেখতে পাননি।
দক্ষিণ কাটনারপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাইফুন নাহার বলেন, সন্ধ্যার আগেই মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। ঘরে কয়েল বা স্প্রে ব্যবহার না করে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম চালানো হলে এ ভোগান্তি কিছুটা কমত।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বগুড়া পৌরসভার স্বাস্থ্য পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমান। তিনি জানান, শহরের ২১টি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে মশার লার্ভা ধ্বংস করতে হ্যান্ড মেশিন এবং উড়ন্ত মশা নিধনে ফগার মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। গত এক মাস ধরে প্রতিদিন এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
সচেতনতায় মাইকিং, লিফলেট বিতরণ
বগুড়া জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফারজানুল ইসলাম নির্ঝর জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিতরণ করা হচ্ছে সচেতনতামূলক লিফলেট।
ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার প্রস্তুতির পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
