
আজ কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুল, নদিয়ায় হোক তর্কEi Samay
Published on
:
1 min read
গৌতম ধোনি, কৃষ্ণনগর
'এই সময়' আয়োজিত স্কুল স্তরে 'হোক তর্ক'-র বিষয় ছিল, 'সভার মতে বিজ্ঞানই মানুষকে যুদ্ধমুখী করছে।' জিতে যায় বিপক্ষের বক্তারা। পক্ষে বলে পাঁচ জন এবং বিপক্ষে ১০ জন। যুক্তি-পাল্টা যুক্তিতে বেশ জমে উঠেছিল সভা। প্রথম হয় দশম শ্রেণির ছাত্র কিঞ্জল বিশ্বাস। দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র স্বস্তিক ভৌমিক। এরা দু'জনেই বলে সভার মতের বিপক্ষে। আর সভার মতের পক্ষে বলে সার্বিক ভাবে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে দশম শ্রেণির পড়ুয়া তনয় কর্মকার।
বিপক্ষের বক্তা কিঞ্জলের যুক্তি, 'মানুষের লোভ-লালসা ও ক্ষমতালিপ্সাই যুদ্ধের প্রকৃত কারণ। সামরিক অভ্যুত্থান, স্নায়ুযুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদ, অর্থনৈতিক যুদ্ধ, মানুষের সংকীর্ণ যুদ্ধবাদী মানসিকতার ফলশ্রুতি। তার জন্য কোনও ভাবেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতিকে দোষ দেওয়া উচিত নয়। যুদ্ধের অস্তিত্ব মানব সভ্যতার আদিলগ্ন থেকেই এই পৃথিবীতে আছে। আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র নির্মাণে বিজ্ঞানের অর্গলহীন প্রয়োগ যে একটি চিন্তার বিষয়, সে কথা মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় কোথায়?'
বিপক্ষের অন্য এক বক্তা যুক্তি দেয়, 'বিজ্ঞান জলের মতো, তাকে যে ভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা সে ভাবেই প্রযুক্ত হবে।'
সভার মতের পক্ষে তনয় কর্মকার বলে, 'আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের মারণ ক্ষমতা এতটাই বেশি যে, তা মানব অস্তিত্বের পক্ষে বিপজ্জনক। বিজ্ঞানই এই মারণযজ্ঞে ক্রমাগত ইন্ধন জুগিয়ে চলেছে।' যুক্তিজাল বিন্যাসে এবং প্রকাশভঙ্গিমার নৈপুণ্যে আরও যারা নজর কাড়ে তারা হলো- বিপক্ষের বক্তা অঙ্কুর বিশ্বাস, মনোজিৎ ঘোষ, সুপ্রতিম বিশ্বাস, অরিত্র দত্ত, তুষার বিশ্বাস, স্বস্তিক ভৌমিক এবং তৃষাণ মণ্ডল। আর পক্ষের বক্তা হিসেবে নজর কাড়ে অর্পণ দত্ত, অভিজ্ঞান সাহা, শুভ্রনীল দত্ত ও মেহতাব হাসান।
বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রদীপ বাগচী এবং এই স্কুলেরই দুই শিক্ষক প্রদুম্ন্য খাঁ ও প্রবীর বিশ্বাস। বিতর্কসভায় সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক তাপস নাথ। উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতের শিক্ষক সুনীলকুমার জানা। সঞ্চালনা করেন ইংরেজি শিক্ষক দীপনদেব রায়।