আজকাল ওয়েবডেস্ক: শনিবার সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ছিলেন খড়দহের রামনগরের বাসিন্দা কল্পনা জানা। বয়স ৪৬ বছর। রবিবার সন্ধ্যা ৮টা নাগাদ রামনগরের তালগাছাড়িতে তাঁর বাপের বাড়িতে এসে পৌঁছয় কল্পনার মরদেহ। দেহ বাড়িতে পৌঁছতেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ছোটবেলা থেকেই তালগাছাড়িতে বড় হয়ে উঠেছেন কল্পনা। কর্মসূত্রে সপরিবারে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পানিহাটিতে থাকতেন। তাঁর শ্বশুরবাড়ি রামনগরের বাগপুরায়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ পরিবার-পরিজন ও এলাকাবাসী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবারের পাশে দাঁড়ান এলাকার বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি দেহ বাড়িতে পৌঁছনোর পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনাতেও সহযোগিতা করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, শনিবার সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন পুজো মণ্ডপে পদপিষ্টের কারণে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে চোরবাগান সর্বজনীনের পুজো। কলকাতা পুলিশের তরফে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ভারতীয় ন্যয় সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-র ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পরেই রাজ্য সরকার ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮ টোল ফ্রি হেল্পলাইন চালু করেছে। কলকাতা পুলিশও ০৩৩ ২২১৪১৩১০ টোল ফ্রি হেল্পলাইন চালু করেছে। মৃতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা এবং সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আহতদের পাঁচ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ এবং চিকিৎসার সব খরচ বহনের দায় নিয়েছে রাজ্য সরকার।
চোরবাগানের বিপর্যয়ে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হবে। কলকাতা পুলিশ ও কলকাতা পুরসভাকে বাদ না দিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। তদন্তের নেতৃত্বে থাকবেন কলকাতা হাই কোর্টের একজন বর্তমান বিচারপতি। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের যুগ্মসচিব পদমর্যাদার নীচে নন, এমন এক আধিকারিক, ডিজিপির প্রতিনিধি হিসেবে এডিজি পদমর্যাদার আধিকারিক এবং এনডিআরএফের একজন প্রতিনিধি থাকবেন। হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির অনুমতি চাওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
