সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে রাতে একটু মুখরোচক খাবার বা স্ন্যাকস খাওয়ার অভ্যাস আমাদের অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি এক গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে যে, গভীর রাতে খাবার খাওয়ার এই অভ্যাস লিভারের মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
আমেরিকার প্রায় ২ লাখ মানুষের ওপর পরিচালিত নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত রাত বা ঘুমানোর আগে খাবার খান, তাদের ফ্যাটি লিভার বা লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক রোগ হওয়ার ঝুঁকি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
এর আগে গভীর রাতে খাবার খাওয়াকে স্থূলতা এবং হৃদরোগের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত করা হলেও, লিভারের ওপর এর প্রভাব নিয়ে এটি অন্যতম প্রথম দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা।
গবেষণার প্রধান লেখক ও ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির ডা. রবার্ট উইলেচানস্কি জানান, আমাদের লিভার শরীরের স্বাভাবিক অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’-এর সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। যখন কেউ এমন সময় খাবার খান যখন শরীর মূলত বিশ্রামের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এর ফলে শরীর খাবার সঠিকভাবে হজম বা প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না, যা পরবর্তীতে ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস এবং লিভারের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
বিশেষ করে যারা নাইট শিফটে কাজ করেন, তাদের ক্ষেত্রে শরীরের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হওয়ায় এই ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা আরও বেশি থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাজ্যেই প্রতি তিনজন মানুষের মধ্যে একজনের ফ্যাটি লিভারের সমস্যা রয়েছে, যার ৮০ শতাংশ মানুষই জানেন না যে তাদের এই রোগ হয়েছে। লিভারের সিরোসিসের মতো জটিল রোগ হলে অতিরিক্ত ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা, জন্ডিস এবং শরীরে চুলকানির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
করণীয় কী?
এ বিষয়ে গবেষকদের পরামর্শ খুবই সহজ: খাবারের তালিকায় কী খাচ্ছেন তা বদলানোর দরকার নেই, শুধু খাওয়ার সময়টা বদলান।
ঘুমানোর বেশ কিছুক্ষণ আগেই রাতের খাবার শেষ করার অভ্যাস করুন এবং গভীর রাতের স্ন্যাকস থেকে দূরে থাকুন। একটু সচেতন হয়ে সঠিক সময়ে খাবার খেলেই আপনার লিভার থাকবে সুস্থ ও নিরাপদ।