যুক্তরাজ্যস্থ নিউহ্যাম যুবদলের সহ-সভাপতি হলেন কবির উদ্দিন বলাই
যুক্তরাজ্যস্থ নিউহ্যাম যুবদলের নবগঠিত ৬২ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন গোলাপগঞ্জ উপজেলার বানিগাজী গ্রামের কৃতি সন্তান কবির উদ্দিন বলাই। জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। গত ১৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার) যুক্তরাজ্য যুবদলের সভাপতি আফজাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক বাবর চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক অনুমোদনপত্রের মাধ্যমে নিউহ্যাম শাখার পূর্ণাঙ্গ এ কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। কমিটিতে আহমদ হোসেনকে সভাপতি এবং শাহ বাবলা আহমদকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। প্রবাসজীবনে দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেও কবির উদ্দিন বলাই যুবদলের রাজনীতিতে নিয়মিত সক্রিয় রয়েছেন। তার এ দায়িত্ব প্রাপ্তিতে গোলাপগঞ্জের স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মাঝে আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তারা তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন দায়িত্বে থেকে তিনি সংগঠনকে আরও গতিশীল করতে ভূমিকা রাখবেন এবং প্রবাসে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। কমিটি অনুমোদনের পর যুক্তরাজ্য যুবদলের সভাপতি আফজাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক বাবর চৌধুরী নবনির্বাচিত সকল দায়িত্বপ্রাপ্তকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা সংগঠনের কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। কমিটির অন্যান্য পদে দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি হোসেন আলী নোমান, সহ-সভাপতি ইমরান আহমদ, লায়েক মিয়া, বদরুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, জয়নাল আহমদ, তরিক আহমদ, আব্দুল কালাম, জুবেল আহমদ, তাজ উদ্দিন, জহুরু মিয়া ও আতিকুর রহমান তুরন। সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু নাছের অপু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিপার আহমদ, শিপন আহমদ, সোহেল আহমদ, সারোয়ার হুসেন, ছাদিকুর রহমান ও রাসেল আহমদ। সহ-সাধারণ সম্পাদক সামছুল ইসলাম, আলী আকবর ও জাহেদ আহমদ। সাংগঠনিক সম্পাদক আল ইমরান আহমদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম আহমদ, সাহানুর রহমান, রুকন উদ্দিন ও মিরসাদুল হক। প্রচার সম্পাদক আবু সুফিয়ান হাসান, সহ-প্রচার সম্পাদক আক্তার হোসেন, সুমন আহমদ ও শামসুজ্জামান। দপ্তর সম্পাদক রবিন আহমদ রামিন, সহ-দপ্তর সম্পাদক মো: বাবর, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক তাওহিদুল ইসলাম, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আবু ফাহিম মুন্না, সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক জুবায়ের আহমদ সাজু, সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সুমন ইসলাম। অর্থ বিষয়ক সম্পাদক রিজন মিয়া, সহ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মনির হোসেন, সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আলী হোসেন, আইন বিষয়ক সম্পাদক ওহালী আকবর, সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক মুস্তাকিম, সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক উসমান আহমদ, সহ-সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক জাকারিয়া আহমদ। ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সারুল মিয়া, সহ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক জাবরুল হোসেন, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ইয়ামিন হোসেন, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আকদার হোসেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক মো: আজম। এছাড়া কমিটিতে সিনিয়র সদস্য ওবাইদুর রহমান এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন মো: খলিল, রনি আহমেদ, ফারজানা আক্তার, জামাল মজুমদার, সাহানুর রহমান ও আব্দুল লতিফ। যুক্তরাজ্য যুবদলের সভাপতি আফজাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক বাবর চৌধুরী নবগঠিত নিউহ্যাম শাখার সকল দায়িত্বপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে সংগঠনের সার্বিক গতিশীলতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার প্রস্তাব এসেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে সংসদের উচ্চকক্ষ থেকে প্রধান ও উপদেষ্টা নিয়োগের ধারণা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি দল ও বিরোধী দলের সম্মতিতে নির্বাচিত স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার প্রস্তাবও এসেছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনের অধ্যাপক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনপ্রক্রিয়া, কাঠামো ও কর্মপরিধি নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। উচ্চকক্ষ গঠিত হলে সংসদ বিলুপ্ত হওয়ার পরও সেটি বহাল রাখার ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা নিয়ে মত দিয়েছেন কেউ কেউ। সে ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ও অন্য উপদেষ্টাদের নিয়োগের বিধান রাখা সম্ভব কি না, সেটিও আলোচনায় এসেছে। উচ্চকক্ষে উপ-রাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি করে তাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব দেওয়ার ধারণাও এসেছে বলে জানান তিনি। বিকল্প হিসেবে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সম্মতিতে স্পিকার নির্বাচিত হলে তাকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান করার প্রস্তাবও দিয়েছেন কেউ কেউ। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আলোচনায় আসা ধারণাগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো লিখিত প্রস্তাব পাওয়া যায়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার গঠন ও কর্মপরিধি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লিখিত মতামত দিতে বলা হয়েছে। নতুন প্রস্তাব এলে সেগুলোও কমিটির প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগকে এই প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে এবং রাষ্ট্রপতির সর্বশেষ বিকল্পের বিধান বাদ দিয়ে কীভাবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি ব্যবস্থা তৈরি করা যায়, তা নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনা হয়েছে। কমিটি সব মতামত পর্যালোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমাধান খুঁজতে চায়। আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো তত্ত্ব, নির্বাহী বিভাগ ও আইন প্রণয়নসংক্রান্ত কার্যক্রমের ওপর বিচার বিভাগের পর্যালোচনার ক্ষমতা এবং সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের এখতিয়ার নিয়ে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন। বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, নিম্নকক্ষের মেয়াদ চার বছর এবং উচ্চকক্ষের মেয়াদ ছয় বছর করার প্রস্তাব এসেছে। এছাড়া ৬৪ জেলা ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের নিয়ে উচ্চকক্ষ গঠন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেওয়া এবং মৌলিক অধিকারের পরিধি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সরকারি হিসাব ও সরকারি প্রতিষ্ঠানবিষয়ক কমিটির মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির পাশাপাশি পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দলকে দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোট, সংসদীয় কমিটির ক্ষমতা বাড়াতে সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন প্রণয়ন, নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ বাছাই কমিটি গঠন এবং অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাসংক্রান্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব বিচার বিভাগের হাতে দেওয়ার প্রস্তাবও এসেছে। সংসদের উচ্চকক্ষ আদৌ প্রয়োজন কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন বৈঠকে অংশ নেওয়া কেউ কেউ। উচ্চকক্ষের পরিবর্তে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের ধারণাও আলোচনায় এসেছে। উচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে সংবিধান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশোধিত হয় কি না, তা নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ ব্যক্তির মত ছিল, আদালতের রায় সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে সংসদের মাধ্যমে সংশোধনী আনতে হবে। এ ছাড়া সংবিধিবদ্ধ কিছু প্রতিষ্ঠানকে সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়া যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে ‘স্ট্যাটুটরি কনস্টিটিউশনাল বোর্ড’ নামে একটি কাঠামোর ধারণাও তুলে ধরেছেন কেউ কেউ। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও কিছু সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়া যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ‘স্ট্যাটুটরি কনস্টিটিউশনাল বোর্ড’ নামে একটি নতুন ধারণা তুলে ধরেছেন কেউ কেউ। সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর গঠন ও কর্মপরিধি এমনভাবে নির্ধারণ করা যায় কি না, যাতে সেগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ২০১১ সালের সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার মতো এবারও প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ওই সময়ের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নেতৃত্বাধীন কমিটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহাল রাখার বিষয়ে একমত হলেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তা বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তখন একদলীয় স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা ও অবৈধভাবে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা ছিল, যা বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের পরিস্থিতির সঙ্গে মেলে না। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক, রাগীব রউফ চৌধুরী, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ একরামুল হক, অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান, ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে শেষ মুহূর্তের প্রচারে উত্তাপ, মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াত
উন্নয়ন বনাম পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি, আচরণবিধি লঙ্ঘন ও সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তপ্ত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রচার-তৎপরতা। শেষ মুহূর্তে ভোটারদের মন জয়ে জনসভা, পথসভা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্ব গ্রহণের পর শূন্য হওয়া আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন। অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোট-সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। বিএনপি প্রচারে গুরুত্ব দিচ্ছে উন্নয়ন ও চলমান উদ্যোগের ধারাবাহিকতায়। ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইছেন দলটির নেতাকর্মীরা। বিপরীতে, পরিবর্তনের স্লোগানে ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা সুশাসন প্রতিষ্ঠা, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং সিন্ডিকেটমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। একই সঙ্গে নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের কঠোর ভূমিকা দাবি করেছে দলটি। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিনভর দুই প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত ছিল নির্বাচনী এলাকা। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন রহিমাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পথসভা করেন। রাতে সাহাপাড়া জামে মসজিদের সামনে এবং নিশ্চিন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পথসভার মধ্য দিয়ে দিনের প্রচার শেষ করার কথা তার। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন শনিবার সকালে ঠাকুরগাঁও বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে (বড়মাঠ) নির্বাচনী জনসভা করেন। এতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ডাকসুর ভিপি সাদেক কায়েম, শিবির সেক্রেটারি সিগবাতুল্লাসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে বিকেলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। নির্বাচনের আগে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি আচরণবিধি প্রতিপালন ও ভোটের পরিবেশ নিয়েও আলোচনা চলছে। আগামী ২৬ অক্টোবর মধ্যরাতে নির্বাচনী প্রচার শেষ হবে। সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জেলা নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন প্রার্থী। তারা হলেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ডা. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)। আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৫, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন। আগামী ২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার এ আসনে ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে। শেষ মুহূর্তের প্রচারে উন্নয়ন ও পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে মুখোমুখি দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। এখন ভোটারদের সমর্থন আদায়ের পাশাপাশি নির্বাচনী পরিবেশ কতটা শান্তিপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ থাকে, সেদিকেও নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।

আমরাও চাই হাসিনা আসুক, দেশের মানুষ তার বিচার দেখতে চায়: মীর শাহে আলম
ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যায় না, সত্যকে আড়াল করেও রাখা যায় না। আওয়ামী লীগ যতই চেষ্টা করুক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, সেই ইতিহাস পাল্টানো যাবে না। দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া আমৃত্যু আপসহীন ছিলেন, তাঁর সেই রাজনৈতিক অবস্থানও কেউ বদলে দিতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাঝেমধ্যেই হুমকি দেওয়া হয়, দেশে ফিরে আসবেন। আমরাও চাই, তিনি দেশে ফিরে আসুন। কারণ, দেশের মানুষ তাঁর বিচার দেখতে অপেক্ষা করছে। কিন্তু তাঁর আর দেশে ফেরা হয় না। অন্যদিকে, তারেক রহমান দেশে ফেরার দিন কোটি কোটি মানুষ ঢাকায় সমবেত হয়েছিলেন। আর শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। এটাই জনগণের ভালোবাসা আর জনসমর্থনের পার্থক্য।’ তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি যুগে যুগে জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা গর্ব করে বলতে পারেন, তাঁরা শহীদ জিয়ার আদর্শের রাজনৈতিক দলের কর্মী। জনগণের ভালোবাসা ও আস্থাই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি। জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে মীর শাহে আলম বলেন, আমরা বেহেশতের গ্যারান্টি দিতে পারব না, তবে উন্নয়নের গ্যারান্টি দিতে চাই। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। প্রতিটি পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, জামায়াত ইসলাম নিয়ে বড় বড় কথা বললেও ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁদের মাসিক সম্মানীর ব্যবস্থা করেছেন। সরকারের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়ে যারা আগে জামায়াতকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের বিএনপির পতাকাতলে আসার আহ্বান জানান তিনি। মোকামতলাকে নতুন উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মোকামতলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন উপজেলার অবকাঠামো উন্নয়নসহ বাকি কাজগুলোও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ কামনায় উপস্থিত সবার কাছে দোয়া চান প্রতিমন্ত্রী। শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর ১টায় বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। মোকামতলা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মাহমুদ হাসান তৌফিকের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বগুড়া জজ আদালতের জিপি শফিকুল ইসলাম টুকু, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসএম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল ওহাব, মোকামতলা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব রোকন-উদ-দৌলা রুবেল, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম ও শিবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি খালিদ হাসান আরমানসহ বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

চলতি সংসদ ৫ বছর টিকবে কি না সন্দেহ আছে: নাহিদ ইসলাম
আইন শৃঙ্খলার অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের প্রতিবাদে ৩০ অক্টোবরের গণবিক্ষোভ কর্মসূচি সফল করতে যাত্রাবাড়ী এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ। আজ শনিবার লিফলেট বিতরণ কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে সংক্ষিপ্ত পথসভায় নাহিদ ইসলাম বলেন, '১৬ বছর পরে যেই সংসদ নির্বাচন হয়েছে, যেই নতুন জাতীয় সংসদ গঠিত হয়েছিল, এই সংসদের মূল্য আর দুই আনাও নাই। এই জাতীয় সংসদ ৫ বছর টিকবে কি না সন্দেহ আছে। কারণ এই জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের কথার কোনো মূল্যায়ন নাই। জনগণের কণ্ঠস্বরের কোনো মূল্যায়ন নাই।' নাহিদ ইসলাম বলেন, 'আমরা দেশে আইনশৃঙ্খলা অবনতি দেখতে চাই না এবং সেটার জন্য প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, জ্বালানি খাতে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নিয়ে জ্বালানি মন্ত্রীকেও পদত্যাগ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। এই সংবিধান সংশোধন কমিটির নামে যে নাটক চলছে, যে প্রহসন চলছে, এই প্রহসন বন্ধ করতে হবে। এই কমিটিকে জনগণ আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত করেছে।' স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, 'ঢাকা দক্ষিণের যে প্রশাসক দেওয়া হয়েছে, অবৈধ প্রশাসক, সেই প্রশাসককে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করা হলো বিএনপির পক্ষ থেকে। এটা কোন ধরনের গণতন্ত্র? এ প্রশাসক কেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে? এই যত প্রশাসক দেওয়া হয়েছে জেলা পরিষদ এবং সিটি কর্পোরেশনে, তারা কেউ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর যে বক্তব্য, এই বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে।' কর্মসূচিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে এনসিপির মেয়রপ্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আলী আহসান জুনায়েদসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

