উলিপুরে আগুনে পুড়ল ৩ ঘর, ২ গরুর মৃত্যু; ক্ষতি সাড়ে ৫ লাখ টাকা

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি ঘর, দুটি গরু, ঘরের আসবাবপত্র, একটি মোটর, একটি শ্যালো মেশিন ও নগদ ৫০ হাজার টাকা পুড়ে গেছে।
এ ছাড়া একটি গরু ও একটি ভেড়া আংশিক দগ্ধ হয়েছে। আগুনের তাপে বাড়ির মালিক রঞ্জু মিয়ার (৪২) কপালের একাংশও পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় আনুমানিক ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার ৭ নম্বর ধরণীবাড়ী ইউনিয়নের খৈ খাওয়ার কুঠি এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত রঞ্জু মিয়া ওই এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত ১১টার দিকে বাড়িটিতে আগুন দেখতে পান এলাকাবাসী। পরে তাঁরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে আশপাশে পানির উৎস না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। আগুনে বাড়ির তিনটি ঘর ও ঘরে থাকা মালামাল পুড়ে যায়। এ সময় দুটি গরু পুড়ে মারা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাহিনুর রহমান (৫৬) বলেন, “চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে আমরা ঘটনাস্থলে এসে দেখি, তিনটি ঘর দাউ দাউ করে জ্বলছে। আশপাশে পানি না পাওয়ায় আমরা কোনো কিছুই বাঁচাতে পারিনি। দুটি গরু পুড়ে পড়ে ছিল। আর একটি গরু ও একটি ভেড়ার শরীরের অর্ধেক অংশ পুড়ে গেছে। ঘর থেকে কোনো মালামাল বের করা সম্ভব হয়নি। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত রঞ্জু মিয়ার পরিবারের জন্য সহযোগিতা চাই।”
খবর পেয়ে উলিপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সরাসরি যাওয়ার উপযোগী রাস্তা না থাকায় তাঁরা বাধার মুখে পড়েন। পরে একটি গর্ত থেকে আটটি হোস পাইপ ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। তবে ততক্ষণে ঘরবাড়ি ও মালামালের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
উলিপুর ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা খলিলুর রহমান জানান, আগুনে একটি ছনের ঘর ও দুটি টিনের বাংলাঘর পুড়ে গেছে। এ ছাড়া দুটি গরু, ঘরের আসবাবপত্র, একটি মোটর ও একটি শ্যালো মেশিন পুড়ে যায়। একটি গরু, একটি ভেড়া এবং রন্জু মিয়ার কপালে আংশিক দগ্ধ হয়েছে। ঘটনাস্থলে যাওয়ার রাস্তা না থাকায় আগুন নেভানোর কাজে সমস্যা হয়। পরে আটটি হোস পাইপ ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি। তবে কয়েলের আগুন থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ এরশাদুল হক জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখেছেন। আগুনে দুটি গরু পুড়ে মারা গেছে এবং একটি গরু, একটি ভেড়া এবং রন্জু মিয়ার কপালে আংশিক দগ্ধ হয়েছে। ঘরবাড়ি ও মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমানে সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা না থাকলেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করবেন বলে জানান তিনি।
অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর ও সহায়-সম্বল হারিয়ে পরিবারটি চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এই বিভাগের আরো খবর






