লিডিং ইউনিভার্সিটিতে এ আই বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিচ্ছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) উপাচার্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ও লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন উপচার্য ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। ছবি: খবরের কাগজ
-->লিডিং ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এস্যুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) উদ্যোগে ট্রান্সফরমেশন ইন দ্য এইজ অব এআই বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সেমিনারে প্রধান অতিথি এবং কীনোট স্পীকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) উপাচার্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ও লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন উপচার্য ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম।
লিডিং ইউনিভার্সিটির উপচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে কীনোট স্পীকার প্রফেসর ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এআই এ দক্ষ হতে সিএসই এর শিক্ষার্থী হতে হবে তা নয়, বাস্তবে কিভাবে নিজেকে ম্যাচ করা যায় তা নিয়ে পরিকল্পনা থাকতে হবে। প্রথমে নিজেকে নিজে মোটিভেট করতে হবে। নিজেকে নিজে ড্রাইভ দিতে হবে। তাই ট্রান্সফরমেশনের জন্য স্ট্রাটেজির প্রয়োজন। এআই এর যোগে অনেক সুযোগ রয়েছে এবং সেই সুযোগকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় তার জন্য ইনফরমেশন ও উপায় জানতে এআই কে কাজে লাগাতে হবে যেকোনো বিষয়ে ক্যারিয়ার গড়তে।
তিনি আরও বলেন, প্রথমে লক্ষ ঠিক করতে হবে যে কি হতে চায় এবং সেভাবে অগ্রসর হতে হবে। কম্পেটিটিভ অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে নিজেকে আলাদাভাবে প্রেজেন্ট করতে হবে। সেক্ষেত্রে এআই গাইড করবে এবং স্ট্রাটেজি বলে দিবে।
পরিশেষে তিনি লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী নেতৃত্বে সিলেটসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার প্রসার ঘটেছে তা তুলে ধরেন এবং শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষক ও পিতামাতাকে সন্মান করতে এবং নৈতিকতা শিক্ষা লাভ করার প্রতি আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে লিডিং ইউনিভার্সিটির উপচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করার জন্য প্রধান অতিথি ও কীনোট স্পীকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলো ভালো ক্যারিয়ার তৈরি করার সর্বশেষ জায়গা। তাই কিনোট স্পীকারের পরামর্শ মেনে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করার আহব্বান জানাচ্ছি।
লিডিং ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এস্যুরেন্স সেলের পরিচালক ও কলা ও আধুনিক ভাষা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিমের কোঅর্ডিনেশনে সেমিনারে লিডিং ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. বশির আহমেদ ভুঁইয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মফিজুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. লুৎফর রহমান, পরিচালক অর্থ ও হিসাব মোহাম্মদ কবির আহমেদ, প্রক্টর মো. মাহবুবুর রহমান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. কবির আহমেদ, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নাঈম/
আরও পড়ুন
৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ চুয়েট উপাচার্যকে উদ্ধার করলেন ডিসি-এসপি
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১০ পিএম
৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর চুয়েটের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে উদ্ধার করে চট্টগ্রামের ডিসি ও এসপি ক্যাম্পাস থেকে নিয়ে যান। ছবি: খবরের কাগজ
-->প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে উদ্ধার করে ক্যাম্পাস থেকে নিয়ে যান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তাদের উপস্থিতিতে প্রশাসনিক ভবন-২ থেকে উপাচার্যসহ অবরুদ্ধ ১১ জনকে বের করে আনা হয়। পরে উপাচার্যকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা জানান জেলা প্রশাসক। তবে কোন হাসপাতাল তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এর আগে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে তারা উপাচার্য ভবনে প্রবেশ করেন। পরে সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভবনে প্রবেশ করেন এবং উপাচার্যসহ অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের নিয়ে ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের ক্যাম্পাস ত্যাগের বিষয়ে শর্ত দেন। তাদের শর্ত অনুযায়ী, উপাচার্য আর চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন না।
মঙ্গলবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার চুয়েট ক্যাম্পাসে পৌঁছান। উপাচার্যকে উদ্ধারে যাওয়ার আগে তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে তারা উপাচার্য ভবনে প্রবেশ করেন।
ভবনে প্রবেশের পর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘একজন সম্মানিত শিক্ষক আমাদের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন, চিকিৎসার জন্য বলেছেন। তাকে আমরা নিয়ে যেতে এসেছি। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।’
চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব বলেন, ‘ক্যাম্পাসে না এসেই তিনি আমাদের শিক্ষকদের নানাভাবে হয়রানি ও হুমকি দেওয়া শুরু করেছিলেন। বিষয়গুলো আমাদের কাছে পৌঁছালে শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা শিক্ষকদের এই অসম্মান মেনে নিতে পারিনি। এরপর তিনি আরও একধাপ এগিয়ে প্রশাসনিক ক্ষমতারবলে শিক্ষকদের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেন। এই পর্যায়ে এসে আমরা আর তাকে এই ক্যাম্পাসে দেখতে চাইনি।’
শিক্ষার্থীদের শর্ত
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার পর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জন উপাচার্য ভবনে প্রবেশ করেন এবং উপাচার্যসহ অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের নিয়ে বেরিয়ে আসেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আরাফাত রহমান রানা, চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন তন্ময়সহ মোট ১১ জন।
এ সময় যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব বলেন, ‘চুয়েটের নবনিযুক্ত উপাচার্য এই শর্তে বেরিয়ে যাচ্ছেন যে তিনি আর চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন না।’
দুই দফায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা
মঙ্গলবার সকালে অবরুদ্ধ অবস্থায় উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসকদের তালাবদ্ধ ভবনে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিও ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন।
চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. মো. সাহাবউদ্দিন বলেন, ‘আমি তার নাড়ির স্পন্দন ও রক্তচাপ মেপে দেখেছি। বর্তমানে তা স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি বুকে ব্যথার কথা বলেননি। হাসপাতালে যাওয়ারও ইচ্ছা প্রকাশ করেননি।’
পরে দুপুর ২টার দিকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. টিবলু কান্তি দে সেখানে গিয়ে পুনরায় উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এ সময় তিনি উপাচার্যের নাড়ির স্পন্দন ও রক্তচাপ পরিমাপ করেন। উপাচার্য চিকিৎসককে জানান, সকাল ১০টা থেকে তার বুকে ব্যথা ছিল। তবে ধীরে ধীরে তা কমে এসেছে।
আরও পড়ুন
রুয়েটের ১২ শিক্ষার্থী বহিষ্কার
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত
-->পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ১২ শিক্ষার্থীকে আগামী দুই শিক্ষাবর্ষের জন্য বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের যেসব পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ উঠেছে, সেসব পরীক্ষাও তাদের জন্য বাতিল করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলার কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত বোর্ড অব ডিসিপ্লিনের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। সভায় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২১ সিরিজের ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই) এবং তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের একজন করে, ২২ সিরিজের যন্ত্রকৌশল বিভাগের একজন ও পুরকৌশল বিভাগের দুইজন, ২৪ সিরিজের পুরকৌশল বিভাগের তিনজন ও মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (এমটিই) বিভাগের একজন এবং ২৫ সিরিজের পুরকৌশল, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের একজন করে শিক্ষার্থী এ শাস্তির আওতায় পড়েছেন। অর্থাৎ, ২১ সিরিজের দুইজন, ২২ সিরিজের দুইজন, ২৪ সিরিজের পাঁচজন এবং ২৫ সিরিজের তিনজন শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গৃহীত সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছে। ২১ সিরিজের দুই শিক্ষার্থীর ৪র্থ বর্ষ বিজোড় সেমিস্টার পরীক্ষা, ২২ সিরিজের দুই শিক্ষার্থীর ৩য় বর্ষ বিজোড় সেমিস্টার পরীক্ষা, ২৪ সিরিজের পাঁচ শিক্ষার্থীর ১ম বর্ষ ব্যাকলগ পরীক্ষা এবং ২৫ সিরিজের তিন শিক্ষার্থীর ১ম বর্ষ বিজোড় সেমিস্টার পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেককে আগামী দুই শিক্ষাবর্ষের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কার শেষে পুনঃভর্তি হয়ে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন তারা।
এ ছাড়া শাস্তিপ্রাপ্ত কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পরীক্ষার সময় জব্দ করা ক্যালকুলেটর ও মোবাইল ফোন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর এসব সামগ্রী ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে রুয়েটের ডিসিপ্লিনারি কমিটির সদস্যসচিব ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, ‘পরীক্ষায় অসদুপায়ের বিরুদ্ধে রুয়েট প্রশাসনের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। একজন শিক্ষার্থীর জন্য একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি সততা, নৈতিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষায় অসদুপায়ের মতো কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ভবিষ্যতের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশের জন্যও উদ্বেগজনক।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে রুয়েটে ব্যাকলগ ও শর্ট সেমিস্টার উভয় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাঁচটি পর্যন্ত উন্নীত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পরও কেউ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করলে বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’ এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও সততার সঙ্গে পড়াশোনা করার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, এ বছরের ২৮ এপ্রিল একই অভিযোগে আরও ৫ শিক্ষার্থীকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়।
এনায়েত করিম/সালমান/
আরও পড়ুন
হাসপাতালে ভর্তির ৯ দিন পর শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
নিহত শিক্ষার্থী শাহরিয়ার বাঁধন। ছবি:সংগৃহীত
-->প্রেমঘটিত কলহের জেরে কীটনাশক পান করে চিকিৎসাধীন থাকা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার ৯ দিন পর সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ৩টায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইকবাল আহমেদ সিদ্দিকী।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম শাহরিয়ার বাঁধন (২১)। তিনি রসায়ন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার স্থায়ী ঠিকানা চুয়াডাঙ্গা জেলায় এবং তিনি ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী টিলারগাঁও এলাকার একটি মেসে থাকতেন।
বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার বাসিন্দা বাঁধনের সঙ্গে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার রাতে ওই তরুণী এবং তার এক আত্মীয়ের সঙ্গে ফোনে বাঁধনের কথাকাটাকাটি ও মান-অভিমান হয়। তার ব্যবহৃত মোবাইলে এর কল রেকর্ড ও মেসেজ পাওয়া গেছে।
বাঁধনের সহপাঠীদের সূত্রে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে টিলারগাঁওয়ের মেসে থাকা অবস্থায় বিষপান করেন শাহরিয়ার। প্রাথমিক অবস্থায় তিনি বিষয়টি সহপাঠীদের জানাননি। পরবর্তীতে রাত সাড় ১২টার দিকে বিষপানের বিষয়টি জানতে পেরে সহপাঠী ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাকে ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। সেখানে ৯ দিন ধরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ তিনি মারা যান।
এ বিষয়ে রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইকবাল আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, "একটু আগে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন। আমরা বিভাগের শিক্ষকরা খবর পেয়েই হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি।"
তিনি আরও জানান, "যতটুকু জানি যবিপ্রবির এক নারী শিক্ষার্থীর সাথে তার প্রেমের সম্পর্কের কলহ থেকেই বিষপান করেছে। এর আগেও প্রায় তিন মাস আগে বাঁধন ইঁদুরের বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন এবং সে সময় ৪-৫ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।"
ইসফাক/নাঈম
আরও পড়ুন
টানা ১০ দিনের ছুটি পাচ্ছেন নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->শারদীয় দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে টানা ১০ দিনের ছুটি পাচ্ছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। আগামী ১৬ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সাপ্তাহিক ছুটি ও ধর্মীয় উৎসবের ছুটি মিলিয়ে এ বিরতি পাবেন তারা। এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর এবং ২৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। এর আগে, ১৬ ও ১৭ অক্টোবর এবং ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা টানা ১০ দিনের ছুটি ভোগ করবেন।
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস কার্যক্রমেও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৯ থেকে ২২ অক্টোবর এবং ২৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসগুলো বন্ধ থাকবে। সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় মোট ৯ দিন বন্ধ থাকবে অফিস কার্যক্রম।
তবে ছুটির সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি কার্যক্রম সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও দপ্তরপ্রধানদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ছুটি সমন্বয়ের লক্ষ্যে আগামী ১৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অফিস খোলা থাকবে।
কাউসার আহমেদ/সালমান/
