আজকাল ওয়েবডেস্ক: সংরক্ষণ সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার জানিয়েছে যে, কোনও ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলে তিনি ধর্মান্তরের আগের সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে ‘অনগ্রসর শ্রেণি’র জন্য নির্ধারিত সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন না। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখরের বেঞ্চ রায় দিয়েছে যে, কোনও ব্যক্তির সামাজিক অনগ্রসরতা হিন্দু সমাজব্যবস্থা থেকে অন্য কোনও ধর্ম বা সমাজব্যবস্থায় স্থানান্তরিত হতে পারে না।
তামিলনাড়ু সরকারের একটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মাদ্রাজ হাইকোর্টের যে আদেশের বিরুদ্ধে এই আবেদন করা হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল- ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেই কেউ ‘অনগ্রসর শ্রেণি (মুসলিম)’ ক্যাটাগরির অধীনে সংরক্ষণের দাবি করতে পারেন না।
আদালত বলেছে, “হিন্দুধর্মের বাইরের কোনও সমাজব্যবস্থায় ধর্মান্তরিত হলেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনও নির্দিষ্ট অনগ্রসর জাতি বা সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান না। ধর্মান্তরের আগে কোনও ব্যক্তির যে জাতি বা সম্প্রদায়গত অবস্থান ছিল, তা ধর্মান্তর পরবর্তী সমাজব্যবস্থায় কোনও স্বীকৃত ‘অনগ্রসর শ্রেণি’র অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হতে পারে না।”
সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের সেই রায় বহাল রেখেছে, যার মাধ্যমে তামিলনাড়ু সরকারের জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তি বাতিল করা হয়েছিল। ওই বিজ্ঞপ্তিতে ধর্মান্তরিত মুসলিমদের সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
হাইকোর্ট ২০২৪ সালে জারি করা তামিলনাড়ু সরকারের একটি আদেশকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছিল। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, ‘অনগ্রসর শ্রেণি’, ‘অতি অনগ্রসর শ্রেণি’, ‘ডিনোটিফাইড কমিউনিটি’ (তালিকামুক্ত সম্প্রদায়) বা ‘তফসিলি জাতি’ থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী কোনও ব্যক্তিকে ‘অনগ্রসর শ্রেণি (মুসলিম)’ হিসেবে গণ্য করা যাবে এবং তাকে এমন একটি সম্প্রদায়গত সার্টিফিকেট দেওয়া যাবে, যার মাধ্যমে তিনি ধর্মান্তরের পর নির্দিষ্ট সাতটি স্বীকৃত গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে সংরক্ষণের সুবিধা পেতে পারেন।
তামিলনাড়ু সরকার হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল।
রাজ্য সরকারের যুক্তি ছিল, যারা সামাজিকভাবে ও শিক্ষাগতভাবে অনগ্রসর, ধর্ম পরিবর্তনের কারণে তাদের সংরক্ষণের সুবিধা হারানো উচিত নয়।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, “সংবিধানের ১৬(৪) অনুচ্ছেদের অধীনে কোনও বিধিবদ্ধ সুবিধা, সুরক্ষা, সংরক্ষণ বা অন্য কোনও অধিকার (যা কোনও নির্দিষ্ট সমাজব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল) তা কেবল আগের কোনও সম্প্রদায়ের সদস্য হওয়ার ভিত্তিতে দাবি করা যায় না, যদি সেই ব্যক্তি ইসলাম, খ্রিস্টধর্ম বা হিন্দুধর্মের বাইরের অন্য কোনও সমাজব্যবস্থায় ধর্মান্তরিত হন। এ ধরনের ধর্মান্তর সেই আইনি ভিত্তিকেই নষ্ট করে দেয়, যার ওপর হিন্দু সমাজব্যবস্থার সদস্য হওয়ার শর্তে কোনও অধিকার বা সুবিধা নির্ভরশীল ছিল। যদি কোনও ব্যক্তি হিন্দু সমাজব্যবস্থা থেকে অন্য কোনও সমাজব্যবস্থায় ধর্মান্তরিত হন এবং পরবর্তীতে পুনরায় হিন্দু সমাজব্যবস্থায় ফিরে আসেন, তবে ইতিবাচক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে তাঁর অধিকার কেবল তাঁর পূর্ববর্তী অবস্থানের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা যায় না। এ ধরনের নির্ধারণের জন্য একটি স্বতন্ত্র ও তথ্য-নির্ভর মূল্যায়নের প্রয়োজন- যেখানে খতিয়ে দেখতে হবে যে, পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে আসার পর তাঁর আদি জাতিগত বা সামাজিক পরিচয় প্রকৃতপক্ষে পুনরুজ্জীবিত হয়েছে কি না এবং তিনি সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক ও আইনি শর্তাবলি পূরণ করেছেন কি না।"
