একটি দলিলের টাইপিংয়ের ভুলে ২৬ বছরেও সরকারিভাবে রেজিস্ট্রেশন পায়নি উত্তর হারবাং জনকল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়। যার ফলে পুরোনো এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে পড়েছে।
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার নবগঠিত উত্তর হারবাং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড ভিলিজার পাড়ার এ বিদ্যালয়টি এক অদ্ভুত ও নজিরবিহীন আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি।
জানা গেছে, শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ২০০০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে স্কুলটিতে ১৩৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন এবং প্রধান শিক্ষকসহ মোট ৩ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। স্কুলের জন্য নিজের খরিদা সম্পত্তি ১৬০৭৫ নম্বর দাগ থেকে ৩৩ শতক জায়গা দান করেছিলেন স্থানীয় দাতা মমতাজ বেগম। কিন্তু বিধি বাম! দলিল তৈরির সময় অসাবধানতাবশত দাগ নম্বর ১৬০৭৫ এর স্থলে টাইপিং ভুল হয়ে লিখা হয় ১৬০৭৪। এই একটি মাত্র সংখ্যার ভুলের কারণে ২৬ বছরেও স্কুলটি সরকারিভাবে রেজিস্ট্রেশন পায়নি।
এই জটিলতা দূর করতে এবং রেকর্ড সংশোধনের জন্য স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে দেওয়ানি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
রেকর্ড সংশোধনের এই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই হঠাৎ গল্পে আসে এক অবিশ্বাস্য মোড়। দাতা মমতাজ বেগম নিজেই এখন স্কুল এবং স্কুল কমিটির বিরুদ্ধে চকরিয়া ফৌজদারি আদালতে একটি মামলা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলায় তিনি দাবি করেছেন সেখানে কোনো স্কুলই নেই, সেটি নাকি একটি ‘গরুর খামার’।
সরজমিনে দেখা গেছে, ১৬০৭৫ দাগে স্কুলের মূল ভবন ও খেলার মাঠ অবস্থিত। শতশত শিশু বছরের পর বছর ধরে পড়াশোনা করছে, যে প্রতিষ্ঠানটি এলাকার মানুষের কল্যাণে আলো ছড়াচ্ছে,তাকে ‘গরুর খামার’ হিসেবে দাবি করার এই ঘটনায় পুরো এলাকাবাসী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা হতবাক।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাহানারা বেগম বলেন, ‘একটি টাইপিং ভুলের সুযোগ নিয়ে ২৬ বছরের একটা স্কুলকে ‘গরুর খামার’ বানিয়ে দেওয়া হলো। শতশত শিশুর ভবিষ্যৎ আজ হুমকির মুখে। আমাদের স্কুলের সব নথিপত্র, সরকারি বই বিতরণের রেকর্ড ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাই প্রমাণ করে এটি একটি বিদ্যাপীঠ, কোনো খামার নয়।’
স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা যখন দেওয়ানী আদালতে দলিলের ভুল দাগ নম্বর সংশোধনের জন্য মামলা করলাম, তখনই আমাদের হঠাতে ফৌজদারি আদালতে এই অদ্ভুত ও মিথ্যা মামলাটি করা হয়েছে। জনস্বার্থে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়কে ধ্বংস করার জন্য একটি মহল দাতা মমতাজ বেগমকে উসকানি দিয়ে এই গভীর ষড়যন্ত্র করছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে দাতা মমতাজ বেগম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার ওই দাগের জমিতে কোনো স্কুল করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। স্কুল কমিটি জালিয়াতি করেছে। বর্তমানে সেখানে গরুর খামার বিদ্যমান।’
এলাকাবাসীর দাবী, একটি সাজানো গোছানো বিদ্যালয় কীভাবে আইনি নথিতে ‘গরুর খামার’ হয়ে যায়। অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা করা হোক।
চকরিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় শিক্ষা বিস্তার করছে। সরকারি বই বিতরণ কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। বিদ্যালয়টিকে প্রতি বছর আমরা সরকারি বই দিয়ে আসছি। তবে দলিলের দাগ নম্বর সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি আদালতের আওতাধীন।’
এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার কালবেলাকে বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে খোজ নিয়ে এই বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
