কক্সবাজারের হিমছড়ি জাদুঘরসংলগ্ন পেঁচারদ্বীপ সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ আরও এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো একজন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন।
এ ছাড়া তাদের উদ্ধারে পানিতে নেমে নিখোঁজ হওয়া অন্য এক যুবকের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। আহত অবস্থায় আরও একজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল চারটার দিকে হিমছড়ি জাদুঘরসংলগ্ন সৈকতে এ ঘটনা ঘটে।
সর্বশেষ উদ্ধার হওয়া পর্যটকের নাম মো. হারুন। এর আগে আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম (২৪), সাইবুল হক জিসান (২৩) এবং অপর এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন এস এম নাফিসুর রহমান নিবিড় (২৩)।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর ঢাকার উত্তরা থেকে সাতজন পর্যটক বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে দুই দিন ভ্রমণ শেষে বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তারা কক্সবাজারে পৌঁছান। পরে বেলা একটার দিকে হিমছড়ি পেঁচারদ্বীপ জাদুঘরসংলগ্ন ‘সৌরণেষ্ট’ নামের একটি রিসোর্টে ওঠেন তারা। খাওয়াদাওয়া শেষে বিকেল চারটার দিকে সৈকতে গোসল করতে নামেন।
জানা গেছে, ওই সাত পর্যটকের কেউই সাঁতার জানতেন না। এ সময় তাদের কাছাকাছি আরও তিন থেকে চারজন যুবককে পানিতে ডুবে যেতে দেখে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যান তারা। একপর্যায়ে দুই দলের সদস্যরাই সমুদ্রের স্রোতের কবলে পড়ে ভেসে যেতে থাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন।
জেলা প্রশাসন পরিচালিত বিচ কর্মীদের সুপারভাইজার মাহাবুব আলম জানান, নিখোঁজ আরও এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য জানান, দুটি দল সমুদ্রে গোসলে নেমেছিল। তাদের মধ্যে তিনজনের মরদেহ আগের দিন উদ্ধার করা হয়। পর্যটকদের একটি দল ঢাকার উত্তরা এবং অন্য দলটি চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে এসেছিল। নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চার পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া একজনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
