গোল করে দলকে জেতালেন, জিতলেন ম্যাচসেরার স্বীকৃতিও। কিন্তু ব্যক্তিগত সেই অর্জন নিজের কাছে না রেখে সতীর্থ আব্দুল্লাহ আল হামদানের হাতে তুলে দিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। হাসিমুখে পুরস্কারটি সতীর্থকে দিয়ে মাঠের পারফরম্যান্সের বাইরেও উদারতার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন পর্তুগিজ মহাতারকা। আল নাসরের জয়ের রাতে রোনালদোর এই সৌজন্যমূলক আচরণই বাড়তি আলোচনার জন্ম দিয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে।
সৌদি প্রো লিগে আল ফয়সালির বিপক্ষে আল নাসরের ৩-১ গোলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। গোল করার পাশাপাশি আক্রমণেও ছিলেন বেশ সক্রিয়। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকার হাতে। তবে পুরস্কারটি নিজের কাছে না রেখে সতীর্থ আল হামদানের হাতে তুলে দিয়ে ভক্তদের নজর কেড়েছেন পর্তুগিজ মহাতারকা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) আল-মাজমাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় আল নাসর। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের ৪৯তম মিনিটে স্বদেশি জোয়াও ফেলিক্সের ফ্রি-কিক থেকে আসা বলে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন রোনালদো। তার গোলে ব্যবধান ২-০ করে এগিয়ে যায় আল নাসর। এর আগে দলের হয়ে প্রথম গোলটি করেছিলেন আল হামদান।
ম্যাচে আরও একবার গোলের দেখা পেয়েছিলেন রোনালদো। আল হামদানের পাস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। তবে তাতে তার পারফরম্যান্সের উজ্জ্বলতা কমেনি। দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি সতীর্থের অবদানকে সম্মান জানিয়ে মাঠের বাইরেও আলোচনায় উঠে আসেন তিনি।
ম্যাচ শেষে রোনালদোর হাতেই তুলে দেওয়া হয় ম্যাচসেরার পুরস্কার। কিন্তু পুরস্কারটি নিজের কাছে না রেখে আল হামদানকে কাছে ডাকেন তিনি। এরপর হাসিমুখে সতীর্থের হাতে তুলে দেন সেটি। এ সময় দুজনকে একসঙ্গে ছবিও তুলতে দেখা যায়।
রোনালদোর এই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে। অনেকের চোখে, সতীর্থকে পুরস্কার উৎসর্গ করার এই ঘটনা দলীয় সংহতি ও পারস্পরিক সম্মানের সুন্দর এক উদাহরণ।
আল ফয়সালির বিপক্ষে ম্যাচে আল হামদানের অবদানও ছিল চোখে পড়ার মতো। তার গোলেই ম্যাচে প্রথম লিড পায় আল নাসর। পরে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার অ্যাঞ্জেলোর গোলেও অবদান রাখেন তিনি। রোনালদোর বাতিল হওয়া গোলের আক্রমণেও ছিল আল হামদানের পাস।
এদিকে, ক্যারিয়ারের ঐতিহাসিক এক মাইলফলকের আরও কাছে পৌঁছে গেছেন রোনালদো। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে তার মোট গোলসংখ্যা ৯৮২। অর্থাৎ, ক্যারিয়ারে ১ হাজার অফিশিয়াল গোলের মাইলফলক স্পর্শ করতে পর্তুগিজ তারকার প্রয়োজন আর মাত্র ১৮ গোল। ক্লাব ফুটবলে ১ হাজার ১০৯ ম্যাচে তার গোল ৮৩৬টি। অন্যদিকে, পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে করেছেন ১৪৬ গোল।
ক্লাব পর্যায়ে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সবচেয়ে বেশি ৪৫০ গোল করেছেন রোনালদো। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে তার গোল ১৪৫টি, আল নাসরের হয়ে ১৩৪টি, জুভেন্টাসের হয়ে ১০১টি এবং স্পোর্টিং লিসবনের হয়ে ৫টি। চলতি মৌসুমে আল নাসরের জার্সিতে তার গোলসংখ্যা ৬-সৌদি প্রো লিগে ৫টি এবং এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগে ১টি।
গোল, রেকর্ড আর ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে রোনালদো বরাবরই সংবাদ শিরোনামে থাকেন। তবে আল ফয়সালির বিপক্ষে ম্যাচে তার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল না কেবল গোল কিংবা ব্যক্তিগত অর্জন। সতীর্থের হাতে ম্যাচসেরার পুরস্কার তুলে দিয়ে আবারও বুঝিয়ে দিলেন, ফুটবলে ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দলীয় অবদান, পারস্পরিক সম্মান ও উদারতারও আলাদা মূল্য রয়েছে।
