প্রতীকী ছবি।ছবি সৌজন্যে: AI
Published on
:
2 min read
প্রথমে পরিবেশ ও ভূ-রাজনীতি নিয়ে লেখালিখি। তার পর ধীরে ধীরে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে আগ্রহ তৈরি করা। অভিযোগ, এই ভাবেই এক সেনা আধিকারিকের স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলেছিলেন চিনা গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কয়েক জন ব্যক্তি। নিজেদের শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাঁরা ওই মহিলাকে বিভিন্ন বিষয়ে নিবন্ধ ও লেখা তৈরি করতে বলেছিলেন। তদন্তকারী সংস্থাগুলির প্রাথমিক অনুমান, এর পিছনে উদ্দেশ্য ছিল ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা।
জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের অভিযোগ, ওই মহিলা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছে সংবেদনশীল তথ্য পৌঁছে দিয়ে থাকতে পারেন। তবে তদন্ত এখনও চলছে। ঠিক কী তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল, কাদের কাছে তা পাঠানো হয়েছিল এবং কতটা তথ্য আদানপ্রদান হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনও বিস্তারিত জানায়নি।
কী ভাবে যোগাযোগ, কী ভাবে সন্দেহ?
NDTV-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত মহিলা তেলঙ্গানার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি স্বামীর সঙ্গে জম্মুর গান্ধীনগর থানা এলাকার মধ্যে থাকেন। তাঁর স্বামী একজন উচ্চপদস্থ সেনা আধিকারিক।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলির প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, চিনের সঙ্গে যুক্ত কয়েক জন ব্যক্তি নিজেদের শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ওই মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তদন্তকারীদের অনুমান, ওই মহিলা যাঁদের শিক্ষাবিদ বলে মনে করেছিলেন, তাঁরা আসলে গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি হতে পারেন। এই প্রক্রিয়াকে ‘ইন্টেলেকচুয়াল ট্র্যাপ’ বা বুদ্ধিবৃত্তিক ফাঁদ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ লেখালিখি ও গবেষণার কাজের আড়ালে ধাপে ধাপে সংবেদনশীল বিষয়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা।
কী ধরনের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ?
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই মহিলার কার্যকলাপ গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অভিযোগ, তিনি এমন কিছু নথি, ছবি ও ইলেকট্রনিক তথ্য সংগ্রহ, নিজের কাছে রাখা এবং অন্যের কাছে পাঠানোর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন, যেগুলির সঙ্গে দেশের নিরাপত্তার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছে এই তথ্য পাঠানো হয়ে থাকতে পারে। পুলিশের ইনপুটে চিনের পাশাপাশি অন্য বিদেশি দেশের কথাও উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এই ধরনের কার্যকলাপ ইচ্ছাকৃত ভাবে অথবা অজান্তে— দুই ভাবেই দেশের কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তবে ঠিক কোন নথি বা ছবি সংগ্রহ করা হয়েছিল, সন্দেহভাজন বিদেশি যোগাযোগগুলি কার সঙ্গে ছিল এবং বাস্তবে কতটা তথ্য আদানপ্রদান হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
কোন আইনে মামলা?
জম্মুর গান্ধীনগর থানায় FIR নম্বর ২৯০/২০২৬ নথিভুক্ত হয়েছে। ১৯২৩ সালের Official Secrets Act-এর ৩ ও ৫ নম্বর ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১৫২ ও ৬১(২) নম্বর ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা এখন জানতে চাইছেন, ওই মহিলার সঙ্গে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের যোগাযোগ কী ভাবে তৈরি হয়েছিল। তাঁর সঙ্গে কারা যোগাযোগ করেছিলেন, কী ধরনের তথ্য আদানপ্রদান হয়েছে এবং এর পিছনে কী উদ্দেশ্য ছিল— সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
