Published on
:
3 min read
ভারতীয় দলে একের পর এক চোটের ধাক্কা। হার্দিক পান্ডিয়ার (Hardik Pandya) প্রত্যাবর্তন নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। চোট সারিয়ে কবে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সব কিছু ঠিক থাকলেও তাঁর মাঠে ফেরার জন্য ২০২৭ সালের IPL পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্য দিকে, নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন টেস্ট সিরিজ়ে ঋষভ পন্থ (Rishabh Pant) ও প্রসিধ কৃষ্ণের (Prasidh Krishna) খেলা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ়ের আগে তিন ক্রিকেটারের ফিটনেস নিয়ে চিন্তায় ভারতীয় শিবির।
শিনের ভিতরের দিকে চোটের কারণে দীর্ঘ দিন ধরেই মাঠের বাইরে হার্দিক। আপাতত বেঙ্গালুরুতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে (CoE) তাঁর রিহ্যাব চলছে। তবে এখনই প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার মতো অবস্থায় নেই ভারতীয় দলের এই অলরাউন্ডার। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে হাল্কা দৌড় শুরু করতে পারেন হার্দিক। তার পরের আট সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে তাঁর দৌড়নোর পরিমাণ ও অনুশীলনের চাপ বাড়ানো হবে। তবে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই যে তিনি ম্যাচ খেলার মতো ফিট হয়ে যাবেন, এমন নয়। কবে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে পারবেন, সে বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।
ইতিমধ্যেই নিউ জ়িল্যান্ড সফরের দল থেকে ছিটকে গিয়েছেন হার্দিক। ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে চলা শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে একদিনের ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ়েও তাঁর খেলার সম্ভাবনা কম। ৩ জানুয়ারি থেকে জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজ়েও তাঁকে পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। চোটের কারণে ঘরোয়া ক্রিকেটেও বরোদার হয়ে খেলতে পারবেন না হার্দিক। তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার আগেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি এবং বিজয় হাজারে ট্রফি। ফলে সাদা বলের এই দুই প্রতিযোগিতাতেও খেলতে পারবেন না তিনি।
২০২৬ সালে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ় ও প্রতিযোগিতায় খেলতে পারেননি হার্দিক। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে একদিনের সিরিজ়, আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফর, জ়িম্বাবোয়ে সফর, ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে সাদা বলের সিরিজ়, এশিয়ান গেমস এবং জাপানের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক একমাত্র টি-টোয়েন্টিতেও অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। হার্দিক শেষ প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলেছেন ২০২৬ সালের মে মাসে, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে IPL-এ। ভারতের হয়ে তাঁর শেষ ম্যাচ ছিল মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল। সব কিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে ২০২৭ সালের IPL-ই হতে পারে তাঁর বড় প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ। তবে তার আগে রিহ্যাব সম্পূর্ণ করে ম্যাচ খেলার মতো ফিটনেস ফিরে পেতে হবে তাঁকে।
ঋষভ পন্থের ফেরা নিয়েও অনিশ্চয়তা
নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের আসন্ন টেস্ট সিরিজ়ের আগে চিন্তা বাড়িয়েছে ঋষভ পন্থের চোট। ইরানি কাপ খেলার সময় চোট পেয়েছিলেন ভারতীয় দলের এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহ থেকে হালকা দক্ষতা-ভিত্তিক অনুশীলন শুরু করতে পারেন তিনি। কিন্তু কবে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরবেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই টেস্টের সিরিজ়ের জন্য ভারতীয় দলে রয়েছেন পন্থ। তবে তাঁর খেলা নির্ভর করছে সম্পূর্ণ ফিট হয়ে ওঠার উপর। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চোট সারিয়ে উঠতে না পারলে কোনও টেস্টেই খেলতে পারবেন না তিনি। সে ক্ষেত্রে বিকল্প উইকেটকিপার হিসেবে দায়িত্ব সামলাতে পারেন ধ্রুব জুরেল।
এই সিরিজ় ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে টিকে থাকতে শুবমান গিলের নেতৃত্বাধীন দলকে বাকি সাতটি টেস্টের মধ্যে অন্তত ছ’টিতে জিততে হবে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে দু’টি টেস্টেই জেতার লক্ষ্য থাকবে ভারতের। পাশাপাশি, ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপের প্রস্তুতির দিক থেকেও এই সিরিজ় গুরুত্বপূর্ণ। প্রসঙ্গত, প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৯ নভেম্বর ওয়েলিংটনে। দ্বিতীয় টেস্ট ২৭ নভেম্বর ক্রাইস্টচার্চে।
প্রসিধ কৃষ্ণের খেলা নির্ভর করছে ফিটনেসের উপর
নিউ জ়িল্যান্ড সফরের আগে চোট সমস্যায় রয়েছেন ভারতীয় পেসার প্রসিধ কৃষ্ণও। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজ় চলাকালীন হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছিলেন তিনি। সেই কারণে সিরিজ়ের তৃতীয় একদিনের ম্যাচেও খেলতে পারেননি। রিপোর্ট অনুযায়ী, ম্যাচের মতো পরিস্থিতিতে অনুশীলন বা সিমুলেশন প্রক্রিয়ার পর প্রসিধের ফিটনেস নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ, নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই টেস্টে তাঁর খেলা এখনও নিশ্চিত নয়। তিনি খেলতে না পারলে তাঁর পরিবর্ত হিসেবে অন্য পেসারকে দলে নেওয়ার কথা ভাবতে পারে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।
ভারতের টেস্ট দলে রয়েছেন জশপ্রীত বুমরা, মহম্মদ সিরাজ, আকাশ দীপ ও অংশুল কম্বোজ়। নিউ জ়িল্যান্ডের পরিবেশে পেসারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই হার্দিকের পাশাপাশি পন্থ ও প্রসিধের চোট কত দ্রুত সারছে, সে দিকেও নজর থাকবে ভারতীয় দলের।