সৌদি আরবে হামলার ঘটনায় দেশের অর্থনীতিতে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। জনশক্তি রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের প্রবাহ ঠিক রাখতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার তাগিদ বিশ্লেষকদের।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে গেছেন ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪২৭ জন কর্মী। তাদের মধ্যে ৫১ শতাংশেরও বেশি কর্মী গেছেন সৌদি আরবে। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি শ্রমিকদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি।
রিয়াদে বিমানবন্দরে হামলার জেরে সৌদি আরবগামী ফ্লাইট একের পর এক বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। ছুটিতে দেশে আসা কর্মীরা কাজে ফিরতে পারছেন না। এতে তাদের ভিসার মেয়াদ ও চাকরি নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
শাহজালার বিমানবন্দরে সৌদিগামী এক যাত্রী বলেন, ‘আমাকে বলতেছে ১৬ তারিখ এখানে এসে তাদের সাথে কথা বলার জন্য।’
অন্য এক যাত্রী বলেন, ‘আমাদের এই যে ভোগান্তি– মেসেজের মাধ্যমে আগেই বলার দরকার ছিল ফ্লাইট বন্ধ।’
চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সৌদি প্রবাসীরা বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন ১৯৫ কোটি ডলার, যা মোট রেমিট্যান্সের ১৯ শতাংশের বেশি। ফলে, সৌদি আরবের শ্রমবাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে দেশের রেমিট্যান্স আয়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
বায়রার সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার বলেন, ‘সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে তাদের ভিসার মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানো উচিৎ। কোভিডের সময়েও আমরা এই সমস্যায় পড়েছিলাম। তখন এটা সমাধান করা গিয়েছিল।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু কর্মীদের বিদেশযাত্রা নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘আমাদের যে শ্রমবাজারটা এটা মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে। অন্যান্য যেসব দেশে আমাদের শ্রমিকদেরকে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে, পাঠানোর চেষ্টা করতে হবে।’
সংকট মোকাবিলায় সরকারি সংস্থা, রিক্রুটিং এজেন্সি ও অভিবাসন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেয়া জরুরি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
