॥ এডভোকেট আবু হাসিন ॥
বাংলাদেশের শ্রমবাজার কখনোই স্থিতিশীল ছিলো না বরং নানাবিধ উত্থান-পতনের মধ্য দিয়েই পথচলা। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর শ্রমবাজারে কিছুটা গতি ফিলে আসলেও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে এবং প্রবাসী শ্রমবাজার অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার ফলে প্রায় ৬০ লাখ প্রবাসী কর্মী অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। ভূ-রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক সংকটের কারণে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে জনশক্তি পাঠানোর গতি কমে গেছে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ঘিরে নানা অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের কারণে তদন্ত এবং দুদকের মামলার প্রভাব পড়েছে। জনশক্তি রপ্তানি কমে যাওয়া এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
একথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই যে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতায় শ্রমবাজার অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। জনশক্তি রফতানির সর্ববৃহৎ দেশ সেীদি আরবে হুতিদের আগ্রাসী হামলা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটিতে কর্মরত পঁচিশ লক্ষাধিক বাংলাদেশি কর্মীর মাঝে উৎকন্ঠা বাড়ছে। কূটনৈতিক তৎপরতার অভাবে বন্ধকৃত শ্রমবাজার চালু এবং নতুন নতুন শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণে কোনো সাড়া মিলছে না। শ্রমবাজারে ভাটার টান অব্যাহত থাকলে আগামীতে রেমিট্যান্স খাতেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। একাধিক অভিজ্ঞ মহল এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একদিকে বন্ধ শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়নি, অন্যদিকে বিদেশে কর্মী প্রেরণে প্রবৃদ্ধি না হওয়ায় দেশের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এখনো বন্ধ থাকা শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে উল্লেখযোগ্য সফলতার মুখ দেখেনি। বিদেশের মিশনগুলোতে ফ্যাসিস্টদের অনেক দোসর এখনো বহাল তবিয়তে। ফলে এসব দোসররা শ্রমবাজার সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে না।
সেীদী আরবে অভিবাসী কর্মীদের বার্ষিক ইকামা ফি জনপ্রতি ৯ হাজার ৭শ’ রিয়াল নির্ধারণ করায় অনেক বাংলাদেশি কর্মী এতো উচ্চ হারের ইকামা ফি যোগাড় করে দেশটিতে কাজ করার আগ্রহ হারাচ্ছেন। অনেকে উচ্চ হারের বার্ষিক ইকামা ফি যোগাড় করতে না পেরে নিরূপায় হয়ে স্বেচ্ছায় কাজ ছেড়ে দেশে ফিরে আসছে। একাধিক ভুক্তভোগী কর্মী এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। এদিকে, প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সম্ভাবনাময় ইরাকের শ্রমবাজার অঘোষিতভাবে বন্ধ করে রাখায় কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্রে দূতাবাসের সত্যায়নকৃত হাজার হাজার ইরাক গমনেচ্ছু কর্মী বহির্গমন ছাড়পত্র না পেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন।
এদের অনেকেরই স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। বাগদাদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের যাচাই-বাছাইয়ের পরেও বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র না পাওয়ায় ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়ে ইরাক গমনেচ্ছুকর্মীরা চরম উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘ সাত বছর পর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বেসরকারি জনশক্তি রফতানিকারকদের নিরলস প্রচেষ্টায় ইরাকের শ্রমবাজার চালু হয়। এতে বিশ সহস্রাধিক বাংলাদেশ কর্মী দেশটিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভ করে। ইরাকে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীরা জনপ্রতি প্রতি মাসে চার শ’ মার্কিন ডলার বেতন পাচ্ছেন। থাকা-খাওয়া কোম্পানি বহন করছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের প্রাক্কালে ঘোষণা করেছিলেন বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি লোককে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবেন। কিন্তু সরকারের মাঝে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিস্টদের দোসরদের অসহযোগিতার কারণে প্রধানমন্ত্রীর টার্গেট পদে পদে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইরাকের বাগদাদ থেকে প্রবাসী ব্যবসায়ীরা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ইরাক থেকে সকল মার্কিন বাহিনী চলে যাওয়ায় দেশটিতে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। দেশটির নিয়োগকর্তারা বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী। সরকার ও দূতাবাসের সার্বিক সহযোগিতা পাওয়া গেলে দেশটিতে আগামী ছয় মাসেই লক্ষাধিক বাংলাদেশী কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। ইরাক থেকে প্রবাসী ব্যবসায়ী সাব্বির খান, ইয়াছিন, টিটন, সোহেল, রুবেল, আব্দুল মতিন ও জিয়া এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। বাগদাদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের ভিসা যাচাই-বাছাই করে সত্যায়ন করে ওআইপি প্লাটফর্মে চার সহস্রাধিক কর্মী নিয়োগের বহির্গমন ছাড়পত্র ইস্যুর জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। কিন্তু প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখতার আহমেদের মৌখিক নির্দেশে ইরাক গমনেচ্ছু কর্মীদের বহির্গমন ছাড়পত্র ইস্যু সাময়িক স্থগিত রাখা হয়েছে। এতে ইরাক গমনেচ্ছু হাজার হাজার র্কর্মী নিরূপায় হয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। বিএমইটির এডিজি জিল্লুর রহমান সম্প্রতি গণমাধ্যমকে বলেছেন, প্রবাসী সচিবের মৌখিক নির্দেশনা পেলেই ইরাকের বহির্গমন ছাড়পত্র ইস্যু কার্যক্রম চালু করা হবে। বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত থাকায় ইরাকের নিয়োগকর্তারা পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে কর্মী নিয়োগে ঝুঁকে পড়ছে। ইরাকের ভিসাপ্রাপ্ত ভুক্তভোগী কর্মীরা বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র ইস্যু কার্যক্রম চালুকরণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিএমইটির সূত্র জানায়, বৈশ্বিক সংকটের মাঝেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় সোয়া কোটি বাংলাদেশী নারী-পুরুষ কর্মী কঠোর পরিশ্রম করে প্রচুর রেমিট্যান্স দেশে পাঠাচ্ছেন। এসব অভিবাসী বাংলাদেশী কর্মী বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশের সার্বিক উন্নয়নে অভাবনীয় অবদান রাখছেন। ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসী হামলাকে কেন্দ্র করে বিগত কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যগামী বাংলাদেশী কর্মীদের কর্মসংস্থানে চলছে ভাটির টান। জনশক্তি রফতানির অন্যতম দেশ মালয়েশিয়ার বন্ধকৃত শ্রমবাজারের আনুষ্ঠানিক পর্দা উঠছে না। কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন দেশটিতে কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্রে সত্যায়ন দেয়া শুরু করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ পর্বে কর্মী নিয়োগের মেডিক্যাল পরীক্ষার কার্যক্রম এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। মধ্যপ্রাচ্যের নানামুখী অস্থিরতায় জনশক্তি রফতানি আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। সরকারের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও বিদেশে কর্মী যাওয়া কমেছে প্রায় ৩৩ শতাংশ। অতিসম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে আগামী ছয় মাসে দুই লাখ কর্মী নেবে মালয়েশিয়াÑএমন একটি খবরকে বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয় বলে চলতি মাসের শুরুর দিকে জানিয়েছেন মালয়েশিয়া সরকারের মুখপাত্র ও যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল।
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে সরকার একের পর এক উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু এখনো কার্যকর অগ্রগতি হয় নি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজারগুলোয় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সেীদী আরব, কাতার ও কুয়েতে কমেছে কর্মী গমন। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বলা হয়েছিল জাপানে যাবে লাখো কর্মী। সে রকম কিছু বাস্তবায়নের লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদেশে কর্মী গমন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ কমেছে। আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে বর্তমান সরকারের। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় নয় মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯৪ জন কর্মী কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন। কিন্তু চলতি বছরের একই সময়ে সংখ্যাটি ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৬৯৩-এ নেমে এসেছে। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের নয় মাসে বিদেশে ২ লাখ ৭৫ হাজার ২০১ জন কর্মী কম গিয়েছেন। ২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, লিবিয়া, বাহরাইন, ওমানসহ গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি বাজার বন্ধ হয়ে যায়। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বিদেশী কর্মীর উৎস দেশ হিসেবে বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। দেশটির মোট বিদেশী শ্রমশক্তির প্রায় ৩৭ শতাংশই বাংলাদেশী। এ গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার ২০২৪ সালের ৩১ মে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর অন্তর্র্ব্তী সরকার চেষ্টা করেও এ বাজার উন্মুক্ত করতে পারে নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। গত ২৮ আগস্ট প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ‘শিগগিরই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশীদের কর্মসংস্থানের দুয়ার খুলে যাচ্ছে।’ কিন্তু মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি মন্ত্রণালয়। বাজারটি কবে কার্যকরভাবে খুলবে সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো রূপরেখা পাওয়া যায়নি।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ড. ইউনূস গত বছর ২৫ মে জাপান সফরে গিয়ে ঘোষণায় বলেছিলেন, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে অন্তত এক লাখ শ্রমিক নেবে জাপানি কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা। যদিও ২০২৫ সালে দেশটিতে মোট কর্মী গেছেন ১ হাজার ৫৬৪ জন। আর চলতি বছর প্রথম নয় মাসে ১ হাজার ৬০৮ জন। গত ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই সেীদি আরব, কুয়েত ও কাতারের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মীর চাহিদা বিপুলভাবে কমে গেছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সেীদি আরবে কর্মী গমনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়াতে বিদেশে কর্মী গমনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে সেীদি আরবে ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৮৩ জন কর্মী গেলেও চলতি বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭ হাজার ৮৮৭ জনে। দেশের প্রধান এ শ্রমবাজারে গত বছরের তুলনায় কর্মী গমন ৪৫ দশমিক ৮০ শতাংশ কমেছে। চলতি বছর মে মাসে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররি বাংলাদেশ থেকে কয়েকটি খাতে কর্মী নিতে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে বৈঠকের পর গত চার মাসে দেশটিতে কর্মী প্রেরণের হারে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসে নি। কুয়েতে চলতি বছর কমেছে কর্মী যাওয়া। গত বছর প্রথম নয় মাসে ৩৪ হাজার কর্মী দেশটিতে গেলেও এ বছর তা কমে এসেছে ২২ হাজারে।
সরকার বিদেশে জনশক্তি রফতানি বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও তা বাস্তবায়নে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে বায়রার পক্ষ থেকে। এ বিষয়ে বায়রার বক্তব্য হচ্ছে, ‘মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের পর সে দেশের আনুষ্ঠানিক প্রত্যাখ্যানে বাজার চালুর সুযোগ নতুন করে ধাক্কা খেয়েছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কার্যকর দ্বিপক্ষীয় নেগোসিয়েশনের অভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বড় বাজারগুলোয় নতুন কর্মী নিয়োগ থমকে গেছে। আমাদের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী শ্রমবাজার সম্প্রসারণে এখনো গালফ দেশগুলোতে সফর করেন নি। প্রতিবেশী দেশ ভারতের মন্ত্রীরা শ্রমবাজার দখলের নেয়ার জন্য মধ্যপাচ্যের দেশগুলোতে গিয়ে বসে থাকেন। তিনি জনশক্তি রফতানি বৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্সের গতি বাড়াতে মিশনগুলোর তৎপরতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বায়রা বলছে, বিদেশে বাংলাদেশী কর্মীদের ন্যায্য মজুরি ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে সরকারকে বাস্তবমুখী উদ্যোগ নিতে হবে। একথা ঠিক যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনশক্তি রফতানিতে গতি বাড়াতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ পদক্ষেপে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে শিগগিরই অভাবনীয় সাফল্য দৃশ্যমান হবে বলে বায়রার সাবেক নেতা মফিজ উদ্দিন আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সম্প্রতি ইরান সমর্থিত হুতিরা সেীদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে। এতে ২ বাংলাদেশী ও ৩ সেীদি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া হামলায় আহত হয়েছেন বিভিন্ন দেশের নাগরিকসহ বেশ কয়েকজন। সেীদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (জিএসিএ) শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। সেীদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরে ইরানপন্থি হুতি বিদ্রোহীদের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে সেীদির আকাশসীমার আরও কিছু অংশ এড়িয়ে চলার জন্য বিমান সংস্থাগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিমান চলাচল নিরাপত্তা সংস্থা (ইএএসএ)। বাংলাদেশ সরকারও সেীদিতে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
মূলত, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণেই বাংলাদেশের শ্রমবাজার অস্থিরতার মুখে পড়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারকে অতিসন্তর্পণে এগুতে হবে। নতুন করে শ্রম বাজার অনুসন্ধানের জন্য কাজ করতে হবে নিবিড়ভাবে। একই সাথে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির সাথে সাথে এদেরকে বৈদেশিক শ্রমবাজারে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। তাহলেই শ্রমবাজারে অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
লেখক : আইনজীবী ও প্রাবন্ধিক।
