অতীতের ফ্যাসিবাদী আমলের মতো বর্তমান নব্য ফ্যাসিবাদও মেধা হত্যার পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ করেছেন ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক
অতীতের ফ্যাসিবাদী আমলের মতো বর্তমান নব্য ফ্যাসিবাদও মেধা হত্যার পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ করেছেন ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেছেন, পিএসসির সদস্যদের চায়ের দাওয়াত দিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বেলা ১২টায় সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে তাঁরা আন্দোলন করছেন। এসব দাবিতে লংমার্চসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দুর্নীতি বন্ধের জন্য অবিলম্বে দুর্নীতির পথগুলো বন্ধ করতে হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনের পাশাপাশি গুম-খুন রোধে স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবিও তাঁরা জানিয়েছেন।
প্রশাসনে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, পিএসসির সদস্যদের চায়ের দাওয়াত দিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। আমাদের সন্তানরা মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ এবং বৈষম্য নির্মূলের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিল। কোটা আন্দোলন ও জুলাই আন্দোলন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, অতীতের ফ্যাসিবাদী আমলে মেধা হত্যা করা হয়েছে। একই পথে হাঁটছে বর্তমান নব্য ফ্যাসিবাদ। এখন মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদোন্নতি হচ্ছে না, হচ্ছে দলীয় বিবেচনায়।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় একজন দলীয় ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। শামসুল আলমের নিয়োগ নির্লজ্জ দলীয়করণের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচন প্রসঙ্গে ১১ দলীয় ঐক্যের এই সমন্বয়ক বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে ১১ দলের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। জনগণ ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু আগামী ২৯ অক্টোবরের উপনির্বাচনে ১২ ফেব্রুয়ারির মতো নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে তাঁরা খবর পাচ্ছেন। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে সরকারকে মাগুরার নির্বাচন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মাগুরার নির্বাচন বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়। ওই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার পতনের আন্দোলন হয়েছিল, যা পরে চূড়ান্ত রূপ নেয়। সরকার যদি ক্ষমতায় থাকতে না চায়, তাহলে তাঁদের জোর করে ক্ষমতায় রাখার সুযোগ নেই। সরকারের প্রতিটি আচরণে মনে হচ্ছে, ‘ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি’। অজুহাত তৈরি করে পালিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। তবে মাগুরার নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি তাঁরা চান না। এ ধরনের কোনো অশুভ পরিকল্পনা থাকলে তা থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
আগামী ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল, জনবান্ধব ও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণমূলক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ড. হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, সরকার যেন অনতিবিলম্বে জনগণের ভাষা বুঝতে পারে। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত হেডকোয়ার্টার থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতি তাঁদের আহ্বান, তাঁরা যেন প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। এটি সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, কর্মসূচি ঘিরে কেউ উসকানি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে প্রশাসনকে আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকার ও প্রশাসন যদি এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে তাঁরা বুঝে নেবেন, সরকার ও ফ্যাসিবাদী শক্তি যৌথভাবে তাঁদের কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য প্রশাসনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তাঁরা আশা করেন, কোনো ষড়যন্ত্রকারী এ ধরনের কাজে জড়িত হবে না।
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসন জনগণের। তাদের জনগণের হয়ে কাজ করতে হবে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে প্রশাসনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তাঁরা।
৩১ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চের কর্মসূচি তুলে ধরে ড. হামিদুর রহমান আযাদ জানান, ওই দিন সকাল ৭টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। এ ছাড়া ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন।
তিনি জানান, সকাল ৮টায় প্রায় এক হাজার গাড়ির বহর নিয়ে লংমার্চ শুরু হবে। মাওয়া সড়ক হয়ে পদ্মা সেতু পার হয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ভাঙ্গা (ফরিদপুর), গোপালগঞ্জ, ফকিরহাট (বাগেরহাট) ও রূপসা ব্রিজ হয়ে খুলনায় পৌঁছাবে বহর। এরপর যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠের সমাপনী সমাবেশে যোগ দেবে লংমার্চের বহর। এ যাত্রায় গণমাধ্যমকর্মী, চিকিৎসক, শিল্পী ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেবেন।
লংমার্চের পথে কয়েকটি স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি। কর্মসূচি অনুযায়ী, সকাল ৯টায় শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায়, সকাল ১১টায় বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়ে, বেলা সাড়ে ১২টায় খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বরে এবং দুপুর ২টায় ফুলতলার বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরে পথসভা হবে। এ ছাড়া বিকেল সাড়ে ৩টায় যশোরের মুড়লীর মোড়ে এবং বিকেল ৫টায় ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে রাত সাড়ে ৮টায় কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশে যোগ দেবে লংমার্চের বহর।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর আব্দুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মহাসচিব অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।
