আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক পদে অজিত আগরকরের উত্তরসূরি খোঁজার প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। বিসিসিআইয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য একাধিক প্রাক্তন ক্রিকেটারের সাক্ষাৎকার নিয়েছে ক্রিকেট অ্যাডভাইজরি কমিটি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দৌড়ে আপাতত এগিয়ে রয়েছেন প্রাক্তন ভারতীয় ওপেনার ওয়াসিম জাফর। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন প্রাক্তন স্পিনার রমেশ পাওয়ারও।
ক্রীড়া বিষয়ক একটি সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার অশোক মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন ক্রিকেট অ্যাডভাইজরি কমিটি ওয়াসিম জাফর, রমেশ পাওয়ার, কনর উইলিয়ামস এবং জ্যাকব মার্টিনের মতো প্রাক্তন ক্রিকেটারদের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। প্রাক্তন ভারতীয় পেসার সলিল আঙ্কোলার সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে বলে খবর। অধিকাংশ সাক্ষাৎকার ভার্চুয়াল মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব নেওয়া অজিত আগরকরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় গত ৪ অক্টোবর। তিনি আর চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেননি। তাঁর সময়ে ভারত ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে। এ ছাড়াও এশিয়া কাপ-সহ একাধিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেয়েছে ভারতীয় দল।
ভারতের হয়ে ৩১টি টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে ওয়াসিম জাফরের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি পাঁচটি টেস্ট শতরান করেছেন। পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর কৃতিত্বও উল্লেখযোগ্য। রঞ্জি ট্রফির ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক জাফর অবসরের পর কোচিং ও তরুণ ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণের কাজে যুক্ত রয়েছেন।
বিসিসিআইয়ের নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচন কমিটির পাঁচ সদস্যের মধ্যে যাঁর টেস্ট খেলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, তিনিই প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পান। সেই হিসেবে জাফর নির্বাচিত হলে বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রধান নির্বাচক প্রজ্ঞান ওঝার জায়গায় তিনিই কমিটির নেতৃত্ব দিতে পারেন। ওঝা ভারতের হয়ে ২৪টি টেস্ট খেলেছেন।
ক্রিকেটে তিনি পাঁচটি টেস্ট শতরান করেছেন। পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর কৃতিত্বও উল্লেখযোগ্য। রঞ্জি ট্রফির ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক জাফর অবসরের পর কোচিং ও তরুণ ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণের কাজে যুক্ত রয়েছেন।
প্রধান নির্বাচক পদের অন্যতম দাবিদার রমেশ পাওয়ার ভারতের হয়ে দুটি টেস্ট ও ৩১টি ওয়ান ডে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। ক্রিকেটার হিসেবে তাঁর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা জাফরের তুলনায় কম হলেও কোচ হিসেবে যথেষ্ট অভিজ্ঞ পাওয়ার। তিনি দু’দফায় ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব সামলেছেন। জুনিয়র ক্রিকেটের পাশাপাশি বিদেশের বয়সভিত্তিক দলের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি।
পাওয়ারকে নির্বাচিত করা হলে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতার নিরিখে প্রজ্ঞান ওঝারই প্রধান নির্বাচক হিসেবে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। ফলে নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু প্রার্থীদের যোগ্যতা নয়, নির্বাচন কমিটির নেতৃত্বের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাক্ষাৎকারে ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রার্থীদের একাধিক প্রশ্ন করা হয়েছে। ২০২৭ সালের ওয়ান ডে বিশ্বকাপের আগে রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ, তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশীর মতো প্রতিভাদের জাতীয় দলে সুযোগ এবং টেস্ট ও ওয়ান ডে অধিনায়ক শুভমন গিলকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর।
আগরকরের মেয়াদে রোহিতের ওয়ান ডে ভবিষ্যৎ নিয়ে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এই বিষয়ে বোর্ডের তরফে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
প্রধান নির্বাচক পদের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ১৪ অক্টোবর। এবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ভারতীয় ক্রিকেট মহল। নতুন নির্বাচককে শুধু জাতীয় দলের স্কোয়াড বেছে নেওয়াই নয়, ঘরোয়া ক্রিকেটের উপর নজর রাখা, খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন এবং ২০২৭ সালের ওয়ান ডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে।
ওয়াসিম জাফরের টেস্ট অভিজ্ঞতা তাঁকে এগিয়ে রাখলেও রমেশ পাওয়ারের কোচিং দক্ষতাও তাঁকে লড়াইয়ে রেখেছে। শেষ পর্যন্ত কাকে প্রধান নির্বাচক হিসেবে বেছে নেয় বিসিসিআই, এখন সেটাই দেখার।
