ডেইলি সিলেট ডট কম :: প্রকাশিত হয়েছে : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ন | ৮:১২ অপরাহ্ন
| ০
ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
ভারতের দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের নির্বিচার আটক বন্ধ, মানুষের অবাধ চলাচল নিশ্চিত এবং মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট।
রোববার (১১ অক্টোবর) সিইসিবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে গণআটক ও পরিবহন চলাচলে বিধিনিষেধের বিষয়ে বিশেষ শুনানি শেষে আদালত এ নির্দেশ দেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও কয়েকটি বামপন্থী সংগঠনের ডাকা বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে হাজারো মানুষকে আটক করা হয়।
এ ঘটনার পর রোববার (১১ অক্টোবর) আবারও ‘চলো যন্তর মন্তর’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি। দলটির যুব ও ছাত্র সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, তাদের সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর লাইভ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, আইন ও জনশৃঙ্খলার বিধান মেনে দিল্লিতে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। আইনসম্মত প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে আটক করা যাবে না।
বিশেষ করে, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি—এমন এলাকায় শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র সমাবেশে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বেআইনিভাবে আটক করা যাবে না। পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৩ অক্টোবর।
শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট বলেন, আইনশৃঙ্খলা ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আইনসম্মত বিধিনিষেধের প্রয়োজন না হলে মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিকভাবে চালু রাখতে হবে। ইন্টারনেট পরিষেবাও নির্বিঘ্ন রাখতে হবে।
বিক্ষোভকারীদের চলাচলে বাধা দিতে বসানো ব্যারিকেডের প্রয়োজনীয়তা দ্রুত পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে দিল্লিতে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
আদালত স্মরণ করিয়ে দেন, গত ৯ অক্টোবরের আদেশে দিল্লির ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সে সময় আদালত বলেছিলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী মেট্রো পরিষেবা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে, তবে যথাযথ কারণ ছাড়া তা পুরোপুরি বন্ধ রাখা উচিত নয়।
আগের আদেশে পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত ব্যাপকভাবে প্রচার এবং যান চলাচলসংক্রান্ত পরামর্শ প্রকাশের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। চার দিনের মধ্যে এ বিষয়ে সম্মতিপ্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল কর্তৃপক্ষকে।
এবারের শুনানিতে আদালত কথিত আদালত অবমাননার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দিয়েছেন। তাদের হলফনামা ও সম্মতিপ্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
শুনানির একপর্যায়ে বিচারপতি মোহনা জনকল্যাণে আগ্রহী ব্যক্তিদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, যারা সত্যিই জনকল্যাণে আগ্রহী, তাদের সবার শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অঙ্গীকার করা উচিত। জবাবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ বলেন, কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও একই ধরনের অঙ্গীকার থাকা প্রয়োজন।
আদালত আরও বলেন, সংবিধানের ১৯ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের যে অধিকার দেওয়া হয়েছে, তা সুরক্ষিত। পুলিশ সদস্যদের পরিচয়চিহ্ন না পরাসহ বিভিন্ন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের জবাব প্রয়োজন।
এদিকে সুপ্রিম কোর্ট চত্বর ও আশপাশের এলাকায় বিএনএসএসের ১৬৩ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে—এমন তথ্যসংবলিত একটি বোর্ড সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এ ধরনের বোর্ড দেখে কেউ যেন সুপ্রিম কোর্ট বা অন্য কোনো আদালতে প্রবেশ করতে কিংবা সেখান থেকে বের হতে বাধার আশঙ্কা না করেন। এতে বিচার পাওয়ার সুযোগও যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
দিল্লিতে সিইসিবিরোধী বিক্ষোভের আগে আটক সিজেপির তিন নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। রোববার সকালে দিল্লি ক্যান্ট পুলিশ স্টেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাদের মুক্তি দেন বলে জানিয়েছেন দলটির আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিং। তবে এক বছরের মধ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করার শর্তে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
তিন নেতার মুক্তির পর রোববার দুপুর ২টায় দিল্লির প্রেসক্লাব অব ইন্ডিয়ায় সংবাদ সম্মেলন করার কথা জানিয়েছে সিজেপি। দলটির জাতীয় সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত অজিঙ্কা শিন্ডে সেখানে বক্তব্য দিতে পারেন।
সংবাদটি শেয়ার করুন
- ফেইসবুক
- টুইটার
- গুগল প্লাস
- ইমেইল
সংবাদটি শেয়ার করুন:
