ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সম্প্রতি আশুগঞ্জের লালপুরের সূর্যকান্দি দাসপাড়ার একটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে দেবী প্রতিমার প্রতি ভক্তি প্রদর্শনের পর ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের মুখে পড়েছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের ওই ঘটনা এবং পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।
ঘটনার ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি তালিকাভিত্তিক পোস্ট শেয়ার করেন। সমাজের বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ, অনৈতিকতা এবং দুর্নীতির উদাহরণ টেনে তৈরি করা ওই পোস্টে তিনি ব্যঙ্গাত্মক ও কটাক্ষের সুর ফুটিয়ে তোলেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, বলাৎকার, ঘুষ গ্রহণ, শিশু নির্যাতন, খুন, নারীর ওপর সহিংসতা, লুটপাট, প্রতারণা, মিথ্যাচার এবং খাদ্যে ভেজালের মতো অপরাধে ধর্ম যায় না। তবে পোস্টের শেষাংশে তিনি মন্তব্য করেন যে, 'ধর্ম যায় কেবল অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে।'
একই পোস্টে নেটিজেনদের তৈরি করা তাঁর একটি ছবি (আটভুজা) শেয়ার করে বিশেষ দ্রষ্টব্য হিসেবে তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা ও প্রতিমা প্রসঙ্গে লেখেন, 'মা দুর্গা দশভুজা, আটভুজা না। যাই হোক মূর্খের সমাজ, কি আর করা।' তাঁর এই মন্তব্য এবং পূজামণ্ডপে ভক্তি প্রদর্শনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংসদ সদস্যের এই ধরনের তীর্যক মন্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দায়িত্বশীল পদে থেকে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য সমাজে বিভাজন তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় বিভিন্ন মহল।
