Authored By:
Published on
:
2 min read
এই সময়: ধাপার ডাম্পিং গ্রাউন্ডে জমা বর্জ্যের পরিমাণ এক কোটি মেট্রিক টন ছাড়িয়ে গিয়েছে। কলকাতা পুরসভার জঞ্জাল অপসারণ বিভাগের একাধিক আধিকারিক জানাচ্ছেন, উপচে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ধাপায়। ফলে সদ্য শেষ হওয়া উৎসবের বর্জ্য কোথায় জমা করা হবে, তা নিয়ে কপালে ভাঁজ পড়েছে সংশ্লিষ্ট কাজের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের।
পুরসভার একাধিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ধাপা ডাম্পিং গ্রাউন্ডের অবস্থা যে দিকে এগোচ্ছে তাতে যে কোনও সময়ে হাওড়ার বেলগাছিয়া ভাগাড়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ২০২৫–এ হাওড়ার ওই ভাগাড়ে ধস নেমে বিপর্যয় হয়েছিল। ধাপায় তেমন বিপর্যয়ের আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে বলে বর্জ্য অপসারণ বিশেষজ্ঞরাও পুরসভাকে সতর্ক করেছেন। বিপদের পূর্বাভাস পেয়ে ধাপাকে সম্প্রসারিত করার জন্যে কলকাতা পুরসভা যে প্রক্রিয়া শুরু করেছিল, সে কাজও থমকে রয়েছে বলে পুরসভার একাধিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
কলকাতার পূর্বাঞ্চলে ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন (ইএম) বাইপাসের পাশেই কলকাতার সব থেকে বড় ডাম্পিং গ্রাউন্ড ধাপা। কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ড, নিউ টাউন, নবদিগন্ত এবং পানিহাটি পুরসভার বর্জ্যও নিয়িমিত ফেলা হয় ধাপা ডাম্পিং গ্রাউন্ডে। ২০২৫–২৬ আর্থিক বছরে ধাপায় সারা বছরে ১৮.২৫ লক্ষ মেট্রিক টন বর্জ্য মজুত হয়েছিল। কলকাতা পুরসভার তরফে ধাপার ভার হাল্কা করার জন্যে বছর কয়েক আগে একটি বেসরকারি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বরাতপ্রাপ্ত সংস্থাকে এই কাজ শেষ করার জন্যে তিন বছর সময় দেওয়া হয়েছিল। ২০২৩–এ নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও ওই সংস্থা তাদের কাজ শেষ করতে পারেনি।
এর পরে ধাপা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করে পুরসভা। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে ধাপা ডাম্পিং গ্রাউন্ড সংলগ্ন এলকায় ৭৩ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করেছিল আগের পুরবোর্ড। অধিগৃহীত জমি পাঁচিল দিয়ে ঘেরা হলেও ডাম্পিং গ্রাউন্ড সম্প্রসারণের যে কাজ, তা থমকে রয়েছে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের ১৪৪টি ওয়ার্ড থেকে নিয়মিত গড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য সংগ্রহ করে ধাপা ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ফেলা হয়। পুজোর সময়ে সেই বর্জ্যের পরিমাণ প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার টন বেড়ে গিয়ে সাড়ে পাঁচ হাজার টনে দাঁড়ায়। এই বিপুল পরিমাণ বর্জ্যের ভার ধাপা আর বেশি দিন ধরে রাখতে পারবে না বলেই একদল বিশেষজ্ঞ পুর–আধিকারিকদের জানিয়েছেন। জঞ্জাল ও বর্জ্য অপসারণ বিভাগের এক শীর্ষ আধিকারিকের বক্তব্য, ‘পরিস্থিতির উপরে নজর রাখা হচ্ছে। বিপদ এড়াতে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
