ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও দপ্তর আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথি গোষ্ঠী। এ হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন।
২০১৪ সালে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে হুথি যোদ্ধাদের গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এর এক বছরের মাথায়, ২০১৫ সালে রাজধানী সানা দখল করে নেয় হুথি বাহিনী। সে সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন আব্দরাব্বুহ মনসুর হাদি। হুথিদের হাতে সানার পতনের পর তিনি সৌদি আরবে পালিয়ে যান। একই বছর হুথিদের ক্ষমতা থেকে সরাতে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব, ইয়েমেন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক জোট। শুরু থেকেই জোটটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল সৌদি আরব। তবে ২০২৫ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত জোটটি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক অভিযান শুরুর পর ইয়েমেন কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। রাজধানী সানাসহ উত্তর ইয়েমেনের পুরো অঞ্চল হুথিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। অন্যদিকে, দক্ষিণাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেয় অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্সিয়াল পরিষদ সরকার।
প্রেসিডেন্সিয়াল পরিষদ সরকারের রাজধানী দক্ষিণ ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেন। আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদও এই শহরে অবস্থিত।
প্রেসিডেন্সিয়াল সরকারের একটি সূত্র আনাদোলু এজেন্সিকে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের হামলায় হুথিরা পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। হামলার সময় সরকারের বেশ কয়েকজন সদস্য প্রাসাদের ভেতরে অবস্থান করছিলেন।
ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসেম বুহাইবেহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে জানিয়েছেন, নিহত ও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রাসাদের নিরাপত্তারক্ষী এবং সেখানে কর্মরত বেসামরিক কর্মীরাও রয়েছেন।
বৃহস্পতিবারের হামলাকে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এডেন বিমানবন্দরে ইয়েমেনি সরকারকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার পুনরাবৃত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে কাসেম বুহাইবেহ বলেন, “সরকার জনগণের মাঝে তার দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।”
প্রেসিডেন্সিয়াল সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার পর প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিন্দানি এবং সরকারের অন্যান্য সদস্য নিরাপদে রয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে আল-মাশিক প্রাসাদের ভেতর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে, হুথি নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম আল-মাসিরাহ টিভি এক সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রাসাদটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
প্রেসিডেন্সিয়াল সরকারের বার্তা সংস্থা সাবা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হামলার সময় প্রাসাদের আশপাশের এলাকায় বেসামরিক মানুষের বাড়িঘর লক্ষ্য করেও গোলাবর্ষণ করা হয়েছে।
জুলাই মাসে হুথি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদে এটিই প্রথম হামলার ঘটনা।
এদিকে, হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া কাসিম সারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, এডেনে ‘সৌদি যুদ্ধ অভিযানের সদর দপ্তর’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তাদের বাহিনী।
তিনি আরও বলেছেন, সৌদি সামরিক উপস্থিতি রয়েছে—এমন যেকোনো স্থান বা স্থাপনাকে তারা ‘হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করেন।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
