সিনিয়র রিপোর্টার। চট্টগ্রামনিউজ.কম
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চট্টগ্রাম নগর জাপার সভাপতি জননেতা আলহাজ্ব আবু তাহের বলেন, উপজেলা সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর বিকেন্দ্রীকরণ ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের ইতিহাসে উপজেলা ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৮২ সালে ২৩শে অক্টোবর তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করার মধ্যে দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসন, উন্নয়ন ও জনসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি ছিল একটি উল্লেখযোগ্য মহা উদ্যোগ।
তিনি বলেন, উপজেলা ব্যবস্থার মূল দর্শন ছিল—ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, স্থানীয় নেতৃত্বের বিকাশ এবং তৃণমূলের মানুষের অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করা আজও আমাদের প্রত্যাশা— উপজেলা পরিষদ হোক কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী স্থানীয় উন্নয়নে জনগণের মতামত প্রাধান্য পাক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের সুফল পৌঁছাক প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের কাছে। উপজেলা দিবসের চেতনা হোক—জনগণের ক্ষমতায়ন, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং বৈষম্যহীন উন্নয়ন পল্লীবন্ধু এরশাদের প্রবর্তিত উপজেলা ব্যবস্থার ঐতিহাসিক তাৎপর্য স্মরণ করে আসুন, আমরা তৃণমূলের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও জনগণের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধ হই। উপজেলা শক্তিশালী হোক, তৃণমূলের গণতন্ত্র শক্তিশালী হোক উন্নত, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে।
আজ ২৩ অক্টোবর, শুক্রবার, বিকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব (এস. রহমান হলে) জাতীয় পার্টির উপজেলা দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর জাপার আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নগর জাপার যুগ্ম আহ্বায়ক ও দপ্তর সম্পাদক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) কে.এম. আবছার উদ্দিন রনির সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন জাপার কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ওসমান খান, প্রকৌশলী ফজলে আজিম দুলাল, রোটারিয়ান এম.এ. মতিন, নাছির উদ্দিন ছিদ্দিকী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব এম. শফিউল আজম চৌধুরী লিটন, নগর জাপার যুগ্ম আহ্বায়ক সার্জেন্ট অব: আবু তাহের, বাবুল আহমদ, এস.এম. সাইফুল্লাহ সাইফু, নিজাম উদ্দিন জ্যাকী, উপাধ্যক্ষ জহুর উদ্দিন জহির, নগর যুব সংহতির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এম. কায়সার হামিদ মুন্না, নগর স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক এম. আজগর আলী, নগর কৃষক পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুর আহমদ মিটু, প্রাক্তন সৈনিক পার্টির আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান, নগর শ্রমিক পার্টির আহ্বায়ক এনামুল হক রাশেদ, সদস্য সচিব মো. মামুন, মহিলা পার্টির আহ্বায়িকা কাজী প্রিয়া আক্তার মুক্তা, সদস্য সচিব জান্নাতুল ফেরদৌস, ছাত্র সমাজের আহ্বায়ক শরিফুল মোল্লা নিরব, যুগ্ম আহ্বায়ক মাঈনুদ্দিন রায়হান।
নেতৃবৃন্দদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডবলমুরিং থানা সদস্য সচিব মো. আরমান মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়েজ আহমদ, কোতোয়ালী থানার সভাপতি মো. সেলিম উদ্দিন, ফিরোজ আলম খোকন, আকবর শাহ থানার সদস্য সচিব মো. হোসেন বাচ্চু, হালিশহর থানা সদস্য সচিব শাহাব উদ্দিন, খুলশী থানা যুব সংহতির আহ্বায়ক মো. মাসুদ, চান্দগাঁও থানার আহ্বায়ক সালেহ আহমদ ভূঁইয়া, বাকলিয়া থানার আহ্বায়ক কামরুদ্দিন ফোরকান, খুলশী থানা জাপার আহ্বায়ক হাসান আলী, নগর যুবনেতা মো. শাহজাহান, দিদার উল্লাহ প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশে যদি প্রতিহিংসার রাজনীতি না থাকতো তাহলে আজ উপজেলা দিবস সরকারি ভাবে পালন হতো। প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হতো, সব রাজনৈতিক দল সেখানে অংশ গ্রহন করতো, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়া হতো, ওনাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করা হতো, যদি দেশে প্রতিহিংসার রাজনীতি আমাদের গ্রাস না করতো। পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের এই একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ এর কারনে একযুগে সারা বাংলাদেশ আলোকিত হয়েছে।
উপজেলা গঠনের কারনে একটি উপজেলায় ১৭ জন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা চাকরীর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, যা এখনো বিদ্যমান রয়েছে, উপজেলা গঠনের কারনে ৪৫০ টি উপজেলা ভবন তৈরী হয়েছে, উপজেলা গঠনের কারনে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যন্ত সড়ক নির্মিত হয়েছে, উপজেলা গঠনের কারনে প্রত্যেকটি উপজেলা থেকে প্রতিটি জেলা পর্যন্ত পাকা রাস্তা, ব্রীজ,কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় বিদুৎ এর ব্যবস্থা করা হয়েছে, প্রতিটি উপজেলায় একটি করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (হাসপাতাল) তৈরী করা হয়েছে, আরো অনেক উন্নয়ন হয়েছে শুধুমাত্র উপজেলা পরিষদ গঠন হওয়ার কারনে।
এভাবেই একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত, অন্ধকারাচ্ছন্ন বাংলাদেশকে একযুগে আলোকিত করেছিল বাংলার রাখাল রাজা পল্লীবন্ধু এরশাদ সাহেব এর এই একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ এর মাধ্যমে। উপজেলার ফসল প্রত্যেকটি মানুষ, যার যার এলাকায় উপকৃত হচ্ছে ২৩শে অক্টোবর উপজেলা দিবস, ১৯৮২ সালের তৎকালিক রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু আলহাজ্ব হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ৪৬০টি উপজেলা পরিষদ নির্মান করেন।
হয়তো একদিন রাষ্ট্রীয় ভাবেই উপজেলা দিবস পালন করা হবে। কারন, আজকে বাংলাদেশে প্রতিটি উপজেলায় ইউএনও নামক যে অফিসারটি চেয়ারে বসে আছে সেই চেয়ারটির আবিষ্কারক জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
চট্টগ্রামনিউজ/এসডি/
