ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আগামী বছরের ২ ফেব্রুয়ারিতে আসন্ন ৫ম সমাবর্তন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে শীতকালীন ছুটি বিবেচনায় নিয়ে কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।
আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে সমাবর্তন উপলক্ষে গঠিত বিভিন্ন কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব নির্দেশনা দেন তিনি। একই সঙ্গে কমিটিগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে আহ্বান জানান তিনি।

সভায় উপাচার্য বলেন, শীতকালীন ছুটিকে বিবেচনায় রেখেই সমাবর্তনের প্রস্তুতিমূলক কাজ দ্রুত শুরু করতে হবে। ডিসেম্বরের যেকোনো সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অনুষ্ঠান আয়োজনের উপযোগী অবস্থায় পৌঁছানোই এখন মূল লক্ষ্য।
কমিটির সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কোনো সদস্য যদি মনে করেন যে তিনি সংশ্লিষ্ট কমিটিতে যথাযথ সময় দিতে পারবেন না, তাহলে বিষয়টি আগেই কমিটির আহ্বায়ককে জানাতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সদস্যের পরিবর্তে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। এছাড়া, কোনো কমিটিতে কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে অতিরিক্ত কাউকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন হলে আহ্বায়কদের লিখিতভাবে সুপারিশ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
তিনি বলেন, প্রত্যেক কমিটিকে নিজ নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি অন্য কমিটির সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ বজায় রেখে কাজ করতে হবে। এতে একই কাজের পুনরাবৃত্তি কমবে এবং সমাবর্তনের সার্বিক প্রস্তুতি আরও সহজ ও কার্যকর হবে। কাজের চাপ ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই দায়িত্ব বণ্টন করা হবে।
তিনি আরো বলেন, এটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয় নয়; এটি একটি রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রাম। রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এর সম্পৃক্ততা থাকবে। ফলে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সমন্বয়হীনতার সুযোগ রাখা যাবে না।
নিরাপত্তা ও ভিআইপি ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, সমাবর্তনে অতিথি, ভিআইপি ও সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের যথাযথভাবে গ্রহণ ও বসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আগেই প্রয়োজনীয় সমন্বয় সম্পন্ন করতে হবে। অনুষ্ঠানের দিন নিরাপত্তা ও প্রবেশ ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় পাস ও অনুমোদন যথাসময়ে নিশ্চিত করার কথাও সভায় উঠে আসে।
সভায় সমাবর্তনের বাজেট পুনর্বিন্যাস করে দ্রুত চূড়ান্ত করা এবং পূর্ববর্তী সমাবর্তনের সার্টিফিকেটের নকশা ও কাঠামোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সহজতর করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সমাবর্তনের সার্বিক প্রস্তুতি, বাজেট, অতিথি ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, আবাসিক সুবিধা, পরিবহন, উপহার, স্পনসরশিপ, প্রকৌশল ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো ইদ্রিস আলী, রেজিস্ট্রার ( ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমানসহ আসন্ন সমাবর্তন উপলক্ষে গঠিত বিভিন্ন কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবরা।
