বলিউড ইন্ডাস্ট্রি এবং মারাঠি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এক গভীর শূন্যতার মধ্য দিয়ে। বৃহস্পতিবার চিরকালের জন্য সকলকে ছেড়ে পাড়ি জমান খ্যাতিমান অভিনেতা নানা পাটেকর। সেই শোকের রেশ কাটতে না কাটতেই বলিপাড়ায় নেমে এলো আরও এক অপূরণীয় ক্ষতি। নানা পাটেকরের প্রয়াণের মাত্র চার দিনের মাথাতেই অর্থাৎ রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে, ৭৩ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বরেণ্য অভিনেত্রী মধু কাম্বিকর। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে পর্দার এই দুই গুণী শিল্পীর প্রয়াণ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না অনুরাগীরা।
দীর্ঘদিন ধরেই গুরুতর অসুস্থতার সঙ্গে লড়ছিলেন মধু কাম্বিকর। একটি অজ্ঞাত শারীরিক জটিলতার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী ছিলেন। মূলত ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে একটি মারাত্মক স্ট্রোকের শিকার হওয়ার পর থেকেই তার শরীরে নানা ধরনের জটিলতা দানা বেঁধেছিল। সুদীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। ১৯৯৫ সালের মুক্তিপ্রাপ্ত হাম দোনো এবং ১৯৯৭ সালের প্রশংসিত চলচ্চিত্র যশবন্ত-এ নানা পাটেকরের মায়ের চরিত্র রূপায়ন করে দর্শকের মনে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছিলেন এই গুণী অভিনেত্রী।
মধু কাম্বিকর ১৯৫৩ সালের ২৮ জুলাই মহারাষ্ট্রের বীড জেলার মালেগাঁও খুর্দে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। অভিনয় জগতের পাশাপাশি মারাঠি লোকসংস্কৃতি ও লাবণী নৃত্য পরিবেশনায় তাঁর অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন শিল্পবোদ্ধারা। হেচ মাযা মাহের, রঘু ময়না, এক হোতা বিদূষক, জপতলেলা, দেবু এবং ইয়েউ কা ঘরত-এর মতো নন্দিত মারাঠি চলচ্চিত্রে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। চলচ্চিত্র ছাড়াও মঞ্চ নাটক এবং টেলিভিশনের পর্দায় তাঁর সাবলীল উপস্থিতি মুগ্ধ করেছিল অগণিত দর্শককে।
প্রবীণ এই অভিনেত্রীর প্রয়াণে মহারাষ্ট্রজুড়ে শোকের মাতম চলছে। মহারাষ্ট্রের তথ্য ও জনসংযোগ অধিদপ্তর একটি বিশেষ প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ প্রয়াত অভিনেত্রীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি এক শোকবার্তায় উল্লেখ করেছেন যে, মধু কাম্বিকর তাঁর অসামান্য অভিনয় ও বহুমুখী প্রতিভার মাধ্যমে মহারাষ্ট্রের সমৃদ্ধ লোকশিল্পের ঐতিহ্যকে কেবল টিকিয়ে রাখেননি, বরং রূপালি পর্দায় এক উজ্জ্বল ও স্বতন্ত্র পরিচয় স্থাপন করেছিলেন।
